প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এনজিওর মাধ্যমে এসএমই ঋণের সুদ হতে পারে ১২%

ডেস্ক রিপোর্ট : করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অতি ক্ষুদ্র, কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প খাতে সরকারি প্রণোদনার অর্থ ঠিকমতো পৌঁছেনি। এ খাতের জন্য ২৩ হাজার কোটি টাকার দুটি প্যাকেজ থাকলেও ঋণ বিতরণে আগ্রহ দেখায়নি ব্যাংকগুলো। এর অন্যতম কারণ, দেশের আনাচে-কানাচে থাকা ছোট ও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংক ঋণ নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা পূরণ করতে পারে না। এ ছাড়া ঋণের সুদহার ৯ শতাংশও একটি বাধা। এমন পরিস্থিতিতে এ খাতে অর্থায়ন করতে সুদহার বাড়িয়ে এনজিও ও ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিতরণের জন্য নতুন একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ তহবিলের ঋণের সুদহার ১২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে গ্রাহকদের সুদ দিতে হবে ৭ শতাংশ। বাকিটা সরকারের ভর্তুকি।

এ জন্য একটি নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবারের বৈঠকে তা উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য গঠিত এ তহবিলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ক্ষুদ্র ও মাইক্রো উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন স্কিম-২০২০’। প্রাথমিকভাবে তহবিলের আকার হবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। প্রয়োজন হলে এটি ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হবে। নতুন এ স্কিমের মেয়াদ হবে তিন বছর। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তহবিল থেকে ব্যাংকগুলোকে ১ শতাংশ সুদে অর্থায়ন করবে। ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করবে ৩ শতাংশ সুদে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের ১২ শতাংশ সুদে অর্থায়ন করবে। গ্রাহকদের ১২ শতাংশ সুদ দিতে হবে না। গ্রাহকরা দেবে ৭ শতাংশ এবং ৫ শতাংশ ভর্তুকি দেবে সরকার। তবে সরকারের ভর্তুকি এক বছরের জন্য নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরের বছরগুলোতে দেওয়ার বিষয়টি আগামী অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারণ করা হবে।

নীতিমালায় একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে একটি ব্যাংক তার ঋণ স্থিতির সর্বোচ্চ ২ শতাংশ ঋণ দিতে পারবে। একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ তিন ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবে। এ স্কিমের আওতায় সিএমএসএমই খাতে চলতি মূলধন বিতরণ করা যাবে। এ ছাড়া বিদেশফেরত, শহরফেরতদের নতুন উদ্যোগেও এ অর্থায়ন করা যাবে। তবে কোনো ঋণ পরিশোধ করা যাবে না। এর মধ্যে গ্রাহক পর্যায়ে ট্রেডিংয়ে ৪৫ শতাংশ ও উৎপাদন খাতে ৫৫ শতাংশ অর্থায়ন করা যাবে।

করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার ২১ খাতে এক লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এর মধ্যে অতি ক্ষুদ্র, কুটির ও এসএমই খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ছিল। এ ঋণ বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ হাজার কোটি টাকার একটি আবর্তনশীল পুনঃঅর্থায়ন তহবিল ও দুই হাজার কোটি টাকার ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম গঠন করেছে। তবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জন্য ঘোষিত ঋণ প্যাকেজ থেকে মাত্র আট হাজার ৬০০ কোটি টাকা বিতরণ করেছে। এ জন্য নতুন স্কিম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: সমকাল

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত