প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রাজধানীর অভিজাত এলাকার চেয়ে বস্তির ঘরভাড়া বেশি হলেও মানবেতর জীবনযাপন করে সাড়ে ৬ লাখ মানুষ

শিমুল মাহমুদ: [২] সরকারের সব নীতিমালায় বস্তিবাসীকে অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ । গণপূর্ত বিভাগের প্রায় ৯৭ একর জমিতে মহাখালীর কড়াইল বস্তি। ২৫ হাজারের মতো কাঁচা-পাকা ঘর। নিয়ন্ত্রণকারীরা এই বস্তিকে ১০ ভাগ করেছেন। কুমিল্লা পট্টি, বেলতলা বস্তি, গোডাউন বস্তি, পশ্চিমপাড়া, পূর্বপাড়া, উত্তরপাড়া, বাইদাপাড়া বস্তি, মোসা বস্তি, বউবাজার ও এরশাদনগর বস্তি। একেকটি ঘরের মাসিক ভাড়া তিন থেকে চার হাজার টাকা।

[৩] সরেজমিন দেখা যায়, দুই পাশে বাঁশ ও টিনের ছাপরায় একতলা ও দোতলা ঘর। রয়েছে আধাপাকা ঘরও। ছয় বাই সাত ফুটের একটি ঘরে খাট ও আর কিছু মালামালে ঠাসা। কিছু ঘরে টিভি, ফ্রিজ ও ফ্যান আছে। বিদ্যুতের সংযোগ বিপজ্জনক, ট্রান্সমিটার থেকে সরাসরি তার টানা হয়েছে। কিছু বৈধ সংযোগও আছে। গ্যাসের সংযোগ নেয়া হয়েছে প্লাস্টিক ও লোহার পাইপ দিয়ে। এখানে আছে কাঁচাবাজার ও রেস্তোরাঁ।

[৪] স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, গুলশান-বনানী-বারিধারার মত এলাকায় সকল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মানুষ গড়ে ২৫ থেকে ২৮ টাকা প্রতি বর্গফুট ভাড়ায় থাকছেন। আর বস্তিতে একটি টয়লেট, শেয়ারের চুলা এবং একটি বাতি ও ফ্যান ব্যবহার করে ৪২ থেকে ৪৮ টাকা প্রতি বর্গফুটে ভাড়া দিচ্ছে। এরা থাকতে বাধ্য হচ্ছে, কারণ পরিবেশবান্ধব আবাসনের কোনো উদ্যোগ এখন পর্যন্ত নেয়া হয়নি।

[৫] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের প্রধান, অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলছেন, ২০১৪ সালের শুমারি অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে বস্তি রয়েছে ৩ হাজার ৩৯৪টি। মোট ঘর এক লাখ ৭৫ হাজার, বাসিন্দা ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫। পরিকল্পনা করার সময় এই বিশাল জনসংখ্যার কথা খুব একটা মাথায় রাখা হয় না। এদের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয়গুলোর কাজেও সমন্বয়হীনতা রয়েছে। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব

 

সর্বাধিক পঠিত