প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফিরে দেখা, ২০ নভেম্বর ১৯৭২
উদিসা ইসলাম : পাকিস্তানের সাড়া পেলে যুদ্ধবন্দির পরিজনদের মুক্তি দেওয়া হবে

উদিসা ইসলাম : বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ২০ নভেম্বরের ঘটনা। বাংলাদেশ ও ভারতে আটক পাকিস্তানি বেসামরিক লোকজন ও যুদ্ধবন্দিদের পরিবারগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মানবিকতার নিদর্শনস্বরূপ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ঢাকায় পররাষ্ট্র দফতর থেকে ঘোষণা করা হয়।

ঘোষণায় বলা হয়, যেসব পাকিস্তানি বেসামরিক লোক পরিজনসহ ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ কমান্ডের আশ্রয় প্রার্থনা করেছে সেসব পরিবারের মহিলা ও শিশুদের ছেড়ে দেওয়া হবে। তাছাড়া যেসব যুদ্ধবন্দি যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে তাদের পরিবারের নারী ও শিশুদের ছেড়ে দেওয়া হবে। এই শুভেচ্ছা বিনিময়ে পাকিস্তান অনুরূপ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সেখানে আটকে পড়া বাংলাদেশের নাগরিকদের পরিবার-পরিজনদের বাংলাদেশের ফেরত আসার সুযোগ দেবে বলে দেশদুটির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়। পাকিস্তানের কাছ থেকে অন্য কোনও সাড়া পেলেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পাঁচ দিন লন্ডন সফরে যাত্রার আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ সাংবাদিকদের বলেন যুদ্ধাপরাধীদের পরিবারগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব বঙ্গবন্ধু সরকারের সম্মুখপানে এগিয়ে যাওয়ার নীতির প্রতিফলন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সামাদ বলেন উপমহাদেশের পরিস্থিতি সহজ করা এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করাই এ প্রস্তাবের লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধু ও তার সরকারের গঠনমূলক শুভেচ্ছার নীতি অনুসরণেই এটি করা হয়েছে। সরকার আশা করছে এই শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে পাকিস্তান নিরীহ বাঙালিদের দেশে ফেরার সুযোগ দেবে। যখন ভারত-বাংলাদেশ মিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কিছু ছাড় দেওয়ার কথা বলছে তখন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলি ভুট্টো একইদিনে পাল্টা শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন বেশ কিছু যুদ্ধবন্দিকে মুক্তি দিলে তবে তিনি বাঙালিদের ছেড়ে দেবেন।

ভুট্টো বলেন ভারতে আটক উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দেওয়া হলে তিনি পাকিস্তানে আটক বাঙালিদের ছেড়ে দিতে রাজি। লন্ডনে সাংবাদিক ওয়াল্টার সোয়ারজের সাথে সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন যেসব পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার কথা শুধু তাদের বিনিময়েও তিনি বাঙালিদের ছেড়ে দিতে পারেন। প্রেসিডেন্ট বলেন, সামান্য একটা বিচার অনুষ্ঠান করেও যদি যুদ্ধবন্দিদের ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে তিনি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানের কথা তুলতে পারবেন। তবে অপরাধের বিচার করা হলে সেখানে প্রশ্নই আসে না বলে উল্লেখ করেন।

স্বীকৃতির পরে বাংলাদেশের সাথে বিশেষ সম্পর্ক স্থাপন করব উল্লেখ করে বাণিজ্য ও ভিসার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধার কথা বিবেচনা করবেন বলেও জানান তিনি। পাকিস্তানের সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা ও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানের ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মনোভাব কী, ভুট্টো তাও জানতে চান। বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও দালালির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় সাবেক গভর্নর মালিককে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

১৯৭২ সালের এই দিনে ঢাকার এক নম্বর বিশেষ ট্রাইব্যুনালের আব্দুল হান্নান চৌধুরী মামলার রায় ঘোষণা করেন। বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, আইনানুগভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা বিদ্বেষ ও অসন্তোষ সৃষ্টি এবং দখলদার বাহিনীর যোগসাজশ; এসবের পাশাপাশি দালাল হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মালিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে বলেন যে, আসামির অতীতের জনসেবামূলক কার্যকলাপ এবং বার্ধক্যজনিত কারণে তাকে চূড়ান্ত শাস্তি দেওয়া হলো না। এই ঐতিহাসিক মামলার রায় শোনার জন্য সেদিন আইনজীবী দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মচারীতে আদালত প্রাঙ্গন ভরে ওঠে। তবে তাদেরকে আদালতকক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। দৈনিক বাংলা

প্রায় ৪০ লাখ নয়া ভোটারসহ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। ভোটার তালিকা অনুযায়ী ১৯৭০ সালের চেয়ে ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে ৪০ লাখ নাগরিক নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মোট ভোটার ছিল তিন কোটি ১২ লাখ ১১ হাজার। সেখানে এবার খসড়া তালিকায় ভোটার সংখ্যা তিন কোটি ৫১ লাখের বেশি। যারা তখনও ভোটার হতে পারেননি তারা পরে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ফরম অথবা সাদা কাগজে আবেদন করে ভোটার হতে পারবেন। এতে ভোটার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র বলেন, পর্যালোচনায় দেখা যায় ভোটারদের বয়স ২১ থেকে ১৮ নির্ধারণ করার ফলে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত