প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমিনুল ইসলাম: সংসদ সদস্য হাজী সেলিমপুত্রের গ্রেপ্তার, সাজা এবং আমাদের লজ্জাহীনতা!

আমিনুল ইসলাম: আপনাদের কি সামান্য পরিমাণ লজ্জা হচ্ছে না? আমার তো আপনাদের কাজ-কারবার দেখেই লজ্জা লাগছে। সামান্য পরিমাণ বোধ-বুদ্ধি যদি আপনাদের থাকতো, তাহলে কি আপনারা এভাবে নির্লজ্জের মতো আচরণ করতে পারতেন? সাংসদ হাজী সেলিমের ছেলেকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার হাতকড়া লাগানো একটা ছবি দিয়ে আপনারা ‘পা চাটার’ দল এখন বলে বেড়াচ্ছেন, দেখুন বিচার হচ্ছে। কী করে পারেন আপনারা? সিলেটে যে ছেলেটাকে পুলিশ ফাঁড়িতে মেরে ফেলা হলো, সেই পুলিশকে কি আজ অবদি গ্রেপ্তার করা হয়েছে? বছর দুয়েক আগে ঢাকার রাজপথে নোয়াখালীর এক সাংসদের পুত্র যে গাড়ি চাপা দিয়ে একজনকে হত্যা করেছে, তার কি আজ অবদি কোনো বিচার হয়েছে? কেন হয়নি? কারণ তারা তো সবাই সাধারণ মানুষ ছিলো। নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলে দাঁত ভেঙে দিয়েছে। তাই হয়তো না পারতে এখন সাংসদ পুত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাজাও দেওয়া হয়েছে। আর আপনারা ‘পা চাটার’ দল এখন ধেই ধেই করে সেই ছবি শেয়ার করে বলছেন। দেখুন, বিচার কিন্তু হচ্ছে।

আপনাদের কি সামান্য পরিমাণ লজ্জাটুকু নেই? হাজী সেলিমের পুত্রের বাসায় নাকি ৩০-এর অধিক ওয়াকিটকি পাওয়া গিয়েছে। সে নাকি ১২ কিলোমিটারের মতো জায়গা তার রুম থেকে ওয়াকিটকি, আর সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতো। টর্চার সেল পাওয়া গিয়েছে। সেখানে এমনকি ইলেকট্রিক শক দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। বছরের পর বছর সে কি আপনাদের পুলিশের অগোচরে এসব করে গেছে? একটা প্রাইমারি স্কুলের বাচ্চাও তো সেটা বিশ্বাস করবে না। অথচ আপনারা এখন ধেই ধেই করে ‘বিচার হচ্ছে’ এই ছবি দিচ্ছেন। আচ্ছা নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তা না হয়ে যদি আপনি নিজে হতেন, মানে আপনারা যারা এখন ছবি আপলোড দিচ্ছেন, আপনারা কি বিচার পেতেন? এরপরও আপনাদের লজ্জা হয় না। ‘লজ্জা’ নামক শব্দটা মনে হয় আপনাদের জন্য জাদুঘরে স্থান পেয়েছে। এদিকে র‌্যারের একজন কর্মকর্তাকে টেলিভিশনে জিজ্ঞেস করা হয়েছিলো,আপনারা সিলেটের ওই পুলিশকে ধরতে পারলেন না, অথচ এক দিনেই সাংসদ পুত্রকে গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিয়ে দিলেন। এর কারণ কী? এই কর্মকর্তা কী বলেছে জানেন। সিলেটের ঘটনায় তো কোনো ভিডিও নেই। সাংসদ পুত্রের ঘটনায় ভিডিও আছে। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটা ভাইরাল হয়েছে।

চিন্তা করে দেখুন অবস্থা। এরপরও এসব ‘পা চাটাদের’ লজ্জা হয় না। তারা নাকি সরকারের ভালো চায়। আজ বাদে কাল সরকার বদলে গেলে, তাদের আর খুঁজেও পাওয়া যাবে না। ও আচ্ছা, আরেকটা কথা বলতে তো ভুলেই যাচ্ছি। আপনাকে কি কোনো সাংসদ পুত্র মারতে আসছে? আপনাকে কি এলাকার কোনো পাতি নেতা ধর্ষণ করতে এসেছে? আপনাকে কি কোনো পুলিশ ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিতে চাইছে? আপনাকে কি কোনো র‌্যাব সদস্য গুম করে হত্যা করতে চাইছে? ওদের যা ইচ্ছে করুক। বেঘোরে আপনি মরে গেলে মরে যান। কিন্তু দয়া করে একটা ভিডিও করে রাখুন। সেই সাথে কোনো ফেসবুক সেলিব্রেটির সাথে ভালো সম্পর্ক রাখুন। যাতে আপনি মরে গেলেও ভিডিওটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়! ধন্যবাদ। আবার আসবেন। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত