প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবুল বাশার নূরু: আওয়ামী লীগ-বিএনপির দলীয় ভোট কোথায় গেল?

আবুল বাশার নূরু: ১৭ অক্টোবর ঢাকা-৫ এবং নওগা-৬ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুটি আসনেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। রাজপথের প্রধান বিরোধীদল বিএনপির প্রার্থীরা শুধু পরাজিতই হননি জামানতও হারিয়েছেন। এই নির্বাচনে ফলাফল যাই হোক না কেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জন্য অশনি সংকেত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাননি। দলীয় প্রার্থীকে ভোট না দিতে না যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৃর্ণমূল কর্মীরা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি বড্ড অভিমানি হয়ে উঠেছেন। তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীরা দলীয় রাজনীতি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছেন।

ঢাকা-৫ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. কাজী মনিরুল ইসলাম মনু বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। প্রায় পৌনে পাঁচ লাখ ভোটারের এই আসনে ভোট পড়েছে মাত্র ১০ শতাংশ। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৬৪২ ভোট। আর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সালাহ উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৬ ভোট। সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টির প্রার্থী মীর আব্দুস সবুর লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৪১৩টি। এছাড়া বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. আনছার রহমান শিকদার ৪৯ ভোট ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আরিফুর রহমান (সুমন মাস্টার) পেয়েছেন ১১১ ভোট। এই আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৭১ হাজার ৭১ জন। এর মধ্যে নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪৯ হাজার ১৪১টি। কোনো ভোট বাতিল হয়নি। সে হিসাবে ভোটের হার ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ১৪টি ওয়ার্ডে মোট ১৮৭টি কেন্দ্রের ৮৬৪টি কক্ষে ভোট নেওয়া হয় এই উপনির্বাচনে।

নওগাঁ-৬ উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হেলাল। নৌকা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৬৬৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু পেয়েছেন ৪ হাজার ৫১৭ ভোট। তিনি জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৩৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। রানীনগর ও আত্রাই উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৬ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬ হাজার ৭২৫ জন। ১০৪টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোট নেওয়া হয় এই নির্বাচনে।

দুটি নির্বাচনি এলাকায়ই উপজেলা, থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়েই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের কমিটি রয়েছে। কমিটিতে পদ পেতে রীতিমত প্রতিযোগীতাও নামেন দুই দলের নেতার্মীরা। কিন্তু ভোটের সময় দেখা গেল তারা নিজ দলীয় প্রার্থীকে ভোট দিতে আসেননি। ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে, কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়া হয়েছে, বিএনপি এমন অভিযোগ করলেও অনুসন্ধানে দেখা গেছে এসব অভিযোগ সত্য নয়। তাহলে প্রশ্ন উঠে আওয়ামী লীগের ভোটারদের ভয়ভীতি দেখালো কারা? তারা নৌকার প্রার্থীকে ভোট দিতে কেন আসেননি? অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা অভিমানে নিজেদের আড়াল করে রেখেছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডেও তারা উপস্থিত থাকেন না। তাদের অভিমান নানা কারণেই হয়েছে। ত্যাগীদের পরিবর্তে আওয়ামী লীগের তৃর্ণমূল নেতৃত্ব এখন হাইব্রিডদের দখলে। তারা দলীয় কমিটি করার সময় ত্যাগীদের পরিবর্তে টাকাকেই প্রাধান্য দেন। তৃণমূলের ত্যাগী কর্মীদের এই অভিমান ও দলীয় কর্মকান্ড থেকে দূরে সরিয়ে রাখাটা আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জন্য আগামীতে মহা বিপদ হয়েই দেখা দিতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত