প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মোদীর সঞ্চয় সাড়ে ৮ লাখ টাকা, সম্পত্তি কমেছে অমিতের

রাশিদুল ইসলাম : [২] ভারতের স্টেট ব্যাঙ্কে ফিক্সড ডিপোজিট করলে সাধারণভাবে ৫ বছর পর্যন্ত সুদের হার ৫.৩০ শতাংশ। সিনিয়র সিটিজেন হলে তা অবশ্য খানিকটা বেশি, ৫.৮০ শতাংশ। ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেটস বা এনএসসি থেকে সুদ পাওয়া যাচ্ছে ৬.৮ শতাংশ হারে। সুদের হার বেশি ছাড়াও ৮০ সি ধারায় আয়কর ছাড়ের সুবিধাও রয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এনএসসিতে সঞ্চয় করেছেন ৮ লাখের বেশি অর্থ। ইকোনোমিক টাইমস

[৩] মোদীর সম্পত্তি কিছুটা বাড়লেও, তা কমেছে অমিত শাহের। ২০১৯ সালের ৩২.৩ কোটি টাকা থেকে তা নেমে এসেছে ২৮.৬৩ কোটিতে। শয়ার ও ঋণপত্রের দাম মূলধনী বাজারে ৪ কোটি টাকারও বেশি কমে গেছে। অমিতপত্নী সোনাল অমিত শাহের সম্পত্তি ৯ কোটি থেকে কমে হয়েছে ৮.৫ কোটি টাকা। তবে মাঝের এক বছরে ১.৩৬ কোটি টাকার একটি সম্পত্তি কিনেছেন তারা। আর গত বারের মতো এ বারও রাজনাথের মোট সম্পত্তি দাঁড়িয়ে ২.৯৭ কোটি টাকাতেই।

[৪] মোদীর স্থাবর অস্থাবর কত সম্পত্তি রয়েছে তার একটা হিসেব দিয়েছেন তিনি নিজেই। তার মন্ত্রিসভার বাকি মন্ত্রীরাও তাদের সম্পত্তির হিসেব দিয়েছেন। ভারতে বছরে একবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সব সদস্যদের বিষয় সম্পত্তির হিসাব দিতে হয়। স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই নিয়ম চলছে।

[৫] ২০২০ সালের ৩০ জুন অবধি প্রধানমন্ত্রী মোদী মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ২০১৯ সালে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে ৩৬ লাখ টাকা। তাঁর ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য সঞ্চিত টাকায় বৃদ্ধির ফলেই এই সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে। তা ছাড়া সময়ের সঙ্গে বাড়ি, জমির বাজার মূল্যও বেড়েছে।

[৬] আয়করে ছাড় পাওয়ার জন্য অবশ্য জীবন বিমা ও এনএসসি করেছেন মোদী। এনএসসি’তে ৮ লাখ ৪৩ হাজার ১২৪ টাকা সঞ্চয় করেছেন তিনি। এ ছাড়া চলতি বছরে জীবন বিমার জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৫৭ টাকার প্রিমিয়াম দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে এনএসসি’তে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৬৪৬ টাকা সঞ্চয় করেছিলেন মোদী। জীবন বিমার প্রিমিয়াম বাবদ ১ লাখ ৯০ হাজার ৩৪৭ টাকা দিতে হয়েছিল তাকে। ২০১২ সালে লারসন অ্যান্ড টুব্রোর ২০ হাজার টাকার ইনফ্রাস্ট্রাকচার বন্ড কিনেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বন্ড এখনও ম্যাচিওর হয়নি।

[৭] ৭০ বছর বয়সী মোদীর কোনও ধার নেই। ৩০ জুনের হিসেবে তার কাছে ক্যাশ রয়েছে ৩১ হাজার ৪৫০ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর সেভিংস অ্যাকাউন্টে রয়েছে ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। গত বছর ৩১ মার্চ ব্যালেন্স ছিল ৪ হাজার ১৪৩ টাকা। এ ছাড়া গুজরাতের গান্ধীনগরে স্টেট ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৬০ লাখ ২৮ হাজার ৩৯ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। গত বছর জুন মাসে এই ফিক্সডের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ২৭ লাখ ৮১ হাজার ৫৭৪ টাকা।

[৮] সোনা এবং বাড়িতেও সঞ্চয় রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। মোদীর চারটি সোনার আংটি রয়েছে। সেগুলোতে মোট সোনা আছে ৪৫ গ্রাম। এর আনুমানিক বাজার মূল্য ১ লাখ ৫১ হাজার ৮৭৫ টাকা। কোনও ইকুইটিতে বিনিয়োগ করেননি ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

[৯] অনেক আগে থেকেই গান্ধীনগরে একটি শরিকি বাড়ি রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর। যার দাম ১ কোটি ১০ হাজার টাকা। এই বাড়ির মোট চারজন মালিক রয়েছে। তার মধ্যে মোদী একজন। গাড়ি বা অন্য কোনও যানবাহন নেই মোদীর।

[১০] প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি যা টাকা পান, অধিকাংশই তিনি জমিয়ে রাখেন। বর্তমানে মোদীর মাইনে মাসে দুই লাখ টাকা। কোভিডের জেরে ৩০ শতাংশ মাইনে কম নিচ্ছেন তিনি ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

[১১] শুধু মোদী নয়, অমিত শাহ, রাজনাথ সিং সহ মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সাংসদরা নিজেদের সম্পত্তি ও ধারের হিসেব দিয়েছেন। বাজপেয়ী আমল থেকেই প্রথম এই রীতি চালু হয় স্বেচ্ছায় তথ্য দেওয়ার স্বচ্ছতার খাতিরে। মোদীর সঙ্গে একই দিন নিজেদের আয় এবং সম্পত্তির পরিমাণ প্রকাশ করেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিংহ তোমর প্রমুখেরাও।

[১২] লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে মোদী এক বার দাবি করেছিলেন, জাগতিক কোনও জিনিস তাকে সে ভাবে টানে না কোনও দিন। মনের দিক থেকে তিনি কিছুটা ‘ফকির’ গোছের। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাই রসিকতা, দু’দশক মুখ্যমন্ত্রী (গুজরাতের) ও প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার পরে সম্পত্তির এই অঙ্ক বেশ কম। তবে ফকির হিসেবে এই ব্যাঙ্ক-ব্যালান্স নেহাত মন্দ নয়।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত