প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভুয়া গ্রেপ্তারি পারোয়ানা রোধে হাইকোর্টের ৭ দফা নির্দেশনা

নূর মোহাম্মদ : ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রোধে সাত দফা নির্দেশনা দিয়ে আদেশ জারি করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো.মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ভুল আসামি হিসেবে ৬৮ দিন কারাবাসের পর গণ স্বাস্থ্যের কর্মকর্তা আওলাদ হোসেনের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যুর সময় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রস্তুতকারি ব্যক্তিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৭৫-এর বিধান মতে নির্ধারিত ফরমে উল্লেখিত চাহিদা অনুযায়ী সঠিক ও সুস্পষ্টভাবে তথ্য পূরণ করতে হবে।

৭ দফা নির্দেশনা হলো-

১.(ক) যে ব্যক্তি বা যে সকল ব্যক্তি পরোওয়ানা কার্যকর করবেন, তার বা তাদের নাম এবং পদবী ও ঠিকানা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

(খ) যার প্রতি পরোয়ানা ইস্যু করা হচ্ছে অর্থাৎ অভিযুক্তের নাম ও ঠিকানা এজাহার নালিশী মামলা কিংবা অভিযোগপত্রে বর্ণিতমতে সংশ্লিষ্ট মামলার নম্বর ও ধারা এবং ক্ষেত্রমত আদালতের মামলার নম্বর ও ধারা সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

(গ) সংশ্লিষ্ট জজ (বিচারক)/ ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষরের নিচে নাম ও পদবীর সীল এবং ক্ষেত্রমত দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারকের নাম ও পদবীর সীলসহ বামপাশে বর্ণিত সংশ্লিষ্ট আদালতের সুস্পষ্ট সীল ব্যবহার করতে হবে।

(ঘ)গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রস্তুতকারী ব্যক্তির (অফিস স্টাফ) নাম, পদবী ও মোবাইল ফোন নাম্বারসহ সীল ও তার সংক্ষিপ্ত স্বাক্ষর ব্যবহার করতে হবে, যাতে পরোয়ানা কার্যকরকারী ব্যক্তি পরোয়ানার সঠিকতা সম্পর্কে কোন সন্দেহের উদ্বেগ হলে পরোয়ানা প্রস্তুতকারীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে সঠিকতা নিশ্চিত হতে হবে।

২.গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রস্তুত করা হলে স্থানীয় অধিক্ষেত্র কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট পিয়নবহিতে এন্ট্রি করে বার্তা বাহকের মাধ্যমে তা পুলিশ সুপারের কার্যালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট থানায় প্রেরণ করতে হবে। এবং পুলিশ সুপারের কার্যালযের/ থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক উক্ত পিয়নবহিতে স্বাক্ষর করে তা বুঝে নিতে হবে। গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রেরণ ও কার্যকর করার জন্য পর্যায়ক্রমে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার কাজে লাগানো যেতে পারে।

৩.স্থানীয় অধিক্ষেত্র বাহিরের জেলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরকরণের ক্ষেত্রে পরোয়ানা ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সীলগালা করে এবং অফিসের সীল মোহর ছাপ দিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেরণ করবেন।

৪. সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকতা সীল মোহরকৃত খাম খুলে প্রাপ্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পরীক্ষা করে উহার সঠিকতা নিশ্চিত অন্তে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ব্যবস্থা নিবেন। তবে কোন গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ক্ষেত্রে সন্দেহের উদ্রেক হলে পরোয়ানায় উল্লিখিত পরোয়ানা প্রস্তুতকারীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে উহার সঠিকতা নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।

৫.গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরকরণের জন্য পরোয়ানা গ্রহণকারী কর্মকর্তা গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রাপ্তি অন্তে তা কার্যকর করার পূর্বে পুনরায় পরীক্ষা করে যদি কোনো সন্দেহের উদ্রেক হয় সেক্ষেত্রে পরোয়ানায় উল্লেখিত পরোয়ানা প্রস্তুতকারীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে উহার সঠিকতা নিশ্চিত হয়ে পরোয়ানা কার্যকর করবে।

৬.গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অনুসারে আসামিকে/আসামিদের গ্রেপ্তারের পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে উক্ত আসামি/আসামিদের আইন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকট ম্যাক্জিস্ট্র/ জজ আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ উপস্থাপন করতে হবে।এবং ম্যাজিস্ট্রেট/গ্রেপ্তারকৃত আসামি বা আসামিদের জামিন প্রদান না করলে আদেশের কপিসহ হেফাজতি পরোয়ানা মুলে আসামি/আসামীদের জেল হাজতে প্রেরণসহ ও ক্ষেত্রমত সম্পূরক নথি তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যুকারী জজ/ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বরাবর প্রেরণ করবেন।

৭. সংশ্লিষ্ট জেল সুপার কিংবা অন্য কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেফাজতি পরোয়ানামূলে প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট আসামি/আসামিদেরর গ্রেফতারি পরোয়ানা ইস্যুকারী আদালতে এই মর্মে অবিলম্বে অবহিত করবেন যে, কোনো থানার কোনো মামলার সূত্রে বা কোনো আদালতে কোনো মামলায় বর্ণিত আসামিদের উক্ত আদালতের ইস্যুকৃত পরোয়ানামূলে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে আসামিদের নতুন কোন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাপ্রাপ্ত হলে জেল সুপার ওই গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালত হতে সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে পরোয়ানা কার্যকর করবেন।

এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, সুরক্ষা ও সেবা বিভাগের সচিব, আইন সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, মহা-কারা পরিদর্শক ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে বলা হয়েছে।

এছাড়া আদেশের কপি প্রত্যেকটি দায়রা জজ ও মেট্রোপলিটন দায়রা জজ, সব ট্রাইব্যুনাল, বিশেষ জজ আদালতের বিচারক, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত