প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সময়মতো বিবাহের গুরুত্ব,

ডেস্ক নিউজ: বিবাহ মহান আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ নেয়ামত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত। ঈমানের পূর্ণতার সহায়ক। চারিত্রিক আত্মরক্ষার অনুপম হাতিয়ার। যুবক-যুবতীর চরিত্র গঠনের অন্যতম উপাদান। আদর্শ পরিবার গঠন, মানুষের জৈবিক চাহিদা পূরণ এবং মানসিক প্রশান্তি লাভের প্রধান উপকরণ হচ্ছে বিবাহ। যা প্রত্যেক মানুষের স্বভাবজাত চাহিদা। এ চাহিদা পূরণার্থেই ইসলামি শারিআত বিয়ের হুকুম আরোপ করেছে।

মানবজাতিকে লিভ-টুগেদারের মতো মহাঅভিশাপের হাত থেকে রক্ষা করতে বৈধভাবে যৌন চাহিদা পূরণের জন্যই মহান রাব্বুল আলামিন বিবাহের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাপ্ত বয়স্ক ও সামর্থ্যবান হলে কালবিলম্ব না করে বিবাহ করা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। বিয়ে শুধু জৈবিক চাহিদাই নয়, বরং একটি মহান ইবাদতও বটে। বিবাহ দ্বারা ইহ ও পরকালীন কল্যাণ সাধিত হয়। বিবাহ মানুষের জীবনকে পরিশীলিত, মার্জিত এবং পবিত্র করে তোলে। আদর্শ পরিবার গঠন, জৈবিক চাহিদা পূরণ, মানসিক প্রশান্তি ও মানব বংশ বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম হলো বিবাহ।

আল্লাহ তা’য়ালা বলেন- যারা কুকর্ম করেছে তাদের সমাপ্তি হবে অত্যন্ত কুৎসিত; কেননা তারা আল্লাহর আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তা (তাঁর আদেশ) নিয়ে ঠাট্টা করেছে। আল কুরআন ৩০:১০

অনেকে রিযিকের অভাবের কথা চিন্তা করে সময়মতো বিবাহকে অযথাই বিলম্বিত করে। অথচ পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেনÑ পৃথিবীতে বিচরণশীল সকল প্রাণির রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর। একথা ভুলে গেলে চলবে না যে, বিবাহের আগে যেই মেয়েকে আল্লাহ খাইয়েছেন, বিবাহের পরও সেই মেয়েকে আল্লাহই খাওয়াবেন।

অন্যদিকে বিলম্বে বিবাহ করার কারণে অনেকেই বিবাহের আসল মজা থেকে বি ত হন। ফলশ্রæতিতে সাংসারিক জীবন পরিণত হয় এক রসহীন নির্জীব জীবনে। প্রতিটি সংসার ভাঙার পেপথ্য কারণ বিশ্লেষণ করতে গেলে দেখা যাবে, এর পেছনে বিলম্বিত বিবাহই প্রধান কারণ।

বৈবাহিক জীবন উপভোগ করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো যৌবন। এ সময়ে যে শারীরিক শক্তি ও উদ্যমতা কাজ করে, তা জীবনের অন্য কোনো সময়ে পাওয়া যায় না। যৌবনের ভালোবাসায় যে স্বাদ পাওয়া যায়, তা বৃদ্ধ বয়সে পাওয়া দুষ্কর। কারণ মানুষ যখন বার্ধক্যে উপনীত হয়, তখন ভালোবাসার স্থান দখল করে হতাশা, নিরাশা ও বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি।

মনস্তাত্ববিদগণ বলেন, সময়মতো বিবাহ না করলে মানুষ বিভিন্ন মানসিক ও ¯স্নায়ুবিক রোগে ভোগে। ফলে অনেকেই উপযুক্ত সময়ের আগেই যৌবন হারিয়ে বার্ধক্যে উপনীত হন। কেননা আল্লাহ তা’য়ালা স্ত্রীদেরকে পুরুষদের মানসিক প্রশান্তির মাধ্যম হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে- তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি অন্যতম নিদর্শন হলো এই যে, তিনি তোমাদের থেকেই তোমাদের সঙ্গীনি বানিয়েছেন যাতে করে তোমরা তাদের মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তি লাভ করতে পারো। আল কুরআন ৩০:২১।

যুবকরা হলো একটি ইসলামী রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। যুগে যুগে ইসলামের বিজয় ও সকল বিপ্লব তাদের হাতে ধরেই ঘটেছে। কিন্তু আজ তারা বিবাহকে বাদ দিয়ে অবৈধ যৌনাচারের পেছনে ছুটে ছুটে নিজেদেরকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছে। ফলে সমাজ ও রাষ্ট্র আজ ভারসাম্য হারিয়ে পরিণত হয়েছে ধর্ষণ, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার এক অভয়ারণ্যে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ, সূত্র: আওয়ার ইসলাম, বিডি নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত