প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঢাকা ওয়াশিংটন ভার্চুয়াল ডায়লগ, চীনকে ঠেকাতে ওয়াশিংটন উদ্যোগ

রাশিদুল ইসলাম : [২] এশিয়া . নিকি. কমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক কূটনীতি চাঙ্গা করে তুলতে একটি ওপেন স্কাই বা উন্মুক্ত আকাশ চুক্তি করেছে। ওয়াশিংটনের এ ব্লু প্রিন্টের অংশের লক্ষ্য এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনা উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করা। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে রুখে দিতে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় মার্কিন রণকৌশল এটি।

[৩] গত গত ৩০শে সেপ্টেম্বর ঢাকার সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি এবং পরিবেশ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি কিথ ক্রাচ। বাংলাদেশে জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ,ফার্মাসিউটিক্যালস এবং কৃষি খাতে বিনিয়োগের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

[৪] একই দিনে ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে আকাশ যান চলাচল চুক্তি বা এয়ারসার্ভিস এগ্রিমেন্ট। গত বুধবার থেকে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চলাচল শুরু হচ্ছে ওয়াশিংটনের ওপেন স্পেস পলিসির আওতায়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে এয়ারলাইনস, ট্রাভেল কোম্পানি এবং বিমান যাত্রীদের মধ্যে এক নতুন সুবিধা নিয়ে আসবে।

[৫] বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সম্প্রতি নিকি এশিয়াকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, আমরা যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পুনরায় মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হলাম, তার মূলে রয়েছে আমাদের অর্থনীতির আয়তন।

[৬] এডিবি চলতি বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার দেখিয়েছে ৫.২ শতাংশ। যখন অধিকাংশ এশীয় দেশে মন্দা চলছে।

[৭] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই বাংলাদেশকে ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যালায়েন্সের দিক থেকে ‘এমার্জিং পার্টনার’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এবং উভয় দেশ ‘আমেরিকান মিলিটারি গিয়ার’ বিক্রির বিষয়ে গত বছর আলোচনা শুরু করে।
[৮] বাংলাদেশ সম্প্রতি চীনের হাতে আড়াইশো মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যায়সাপেক্ষ এয়ারপোর্ট টার্মিনাল নির্মাণের একটি কাজ দিয়েছে যা চীনে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকারে ৯৭ ভাগ শুল্ক কমানোর প্রতিক্রিয়া।

[৯] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন নিকিকে বলেছেন, চীন হয়তো অস্বস্তি অনুভব করতে পারে যে, বাংলাদেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উষ্ণতা ছড়িয়ে চলছে। তেমনি ওয়াশিংটন হয়তো ক্ষুণ্ন হবে ঢাকা-বেইজিংয়ের রোমান্স দেখে। কোনো পক্ষই বাংলাদেশকে ছাড়তে চাইছে না। তার কারণ অর্থনীতিতেই নিহিত। মালদ্বীপ এবং শ্রীলঙ্কার মতো ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রের পক্ষে বাংলাদেশ একা যা করতে পারে, সেটা করে দেখানো সম্ভব নয় । বাংলাদেশ একাই যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনকে দেখাতে পারে যে, তারা তাদের উভয়ের পণ্য বাংলাদেশ ভালই আমদানি করার হিম্মত রাখে।

[১০] মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার ৭শ কোটি ডলারের। বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ঢাকার অনুকূলে। এর বিপরীতে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি গত বছরে ছিল বারোশো কোটি ডলার। বাংলাদেশ অস্ত্র আমদানির শতকরা ৭০ ভাগের বেশি সরবরাহ করে চীন।

[১১] পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর নিকিকে বলেছেন, আমাদেরকে একটা সরু রশির উপর দিয়ে হাঁটতে হবে। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের জন্য আমাদেরকে কূটনৈতিকভাবে কার্ড খেলতে হবে। অবশ্যই চীনের দিকে একটু ঝুঁকে থাকতে হবে, চীনের কাছ থেকে অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন করে নিতে হবে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক শক্তি থাকলেও চীনের তুলনায় প্রাপ্ত সহায়তা থেকে তা অনেক দূরে।

[১২] মনসুর বলেছেন, আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে যদি ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন জয়ী হন, তাহলেও তা বিশ্ব রাজনীতিতে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে না। এমনকি ওয়াশিংটনের ইন্দো-প্যাসিফিক নীতিতে তা কোনো পরিবর্তন আনবে না । ভারত তাদের আঞ্চলিক পার্টনারই থেকে যাবে । ট্রাম্পের মতোই, বাইডেনের লক্ষ্য হবে চীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। চীন এই মুহূর্তে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। কিন্তু মনসুর যিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল ইউনিটের প্রধান ছিলেন,তিনি একটি প্রশ্ন তুলেছেন । বাংলাদেশের কেন ওই খেলায় যাওয়া উচিত? তিনি একটি নিরপেক্ষ বিদেশ নীতি অনুসরণে গুরুত্ব আরোপ করেন কিন্তু সেই সঙ্গে তিনি এই মন্তব্য জুড়ে দিয়েছেন যে এমন সময় খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন প্রথম অবস্থানকারীকে টেক্কা দিয়ে দ্বিতীয় স্থানধারী উপরে উঠে যাবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত