প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাবিনা সারমিন: মা ‘উলঙ্গ’ হয়ে কাঁদলে তোমাদের কি আর গায়ে কাপড় থাকে?

সাবিনা সারমিন: দেশ ছেড়েছি প্রায় দু’বছর হতে চলেছে। যেখানে আছি সেখানে এখন ফল মৌসুমে নানা রঙের পাতা ঝরার দিন। নিজ চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবেনা চারদিকে কিরকম রঙ রুপের অপরুপ প্রতিযোগিতা। তারপরেও এই স্বর্গীয় সৌন্দর্যের আবেদনের চেয়ে সবসময়ই আড়চোখে দু’নয়ন চেয়ে থাকে বাংলাদেশের দিকে। ঠিক যেন কিশোরীর পুরনো প্রেমিকের মতো। মনে হয় ওই যে ওই দেশটায় মায়ের হাত ধরে হাঁটতে শিখেছিলাম। সেই দেশে কোনো এক উদ্যানে মা ঘুমিয়ে রয়েছে সবুজ ঘাসের বুকে। সেই দেশটিকে অনেকগুলো নির্ভিক মানব মানবী নিজ জীবনের বিনিময়ে, নিজের শরীরের বিনিময়ে, নারীর বিশেষ অঙ্গের নির্মম নিপীড়নে, নির্যাতনের বিনিময়ে বাঘের মুখের থাবা থেকে কেড়ে নিয়ে একদিন অর্জন করে নিয়েছিলো। সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী, এটি ভাবতেই আমাদের চেতন কিছুটা হলেও আনন্দে উদ্বেলিত হয়, এই ভেবে যে আমিও একজন নারী। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামক দেশটির প্রধান একজন নারী।

আমার মাও একজন নারী, আমার বোনও একজন নারী, আমার বাবার মা একজন নারী, আমার স্বামীর মা একজন নারী, তার বোন একজন নারী। আমার ছোট ভাইয়ের বউ একজন নারী ,আমার কন্যা একজন নারী। মুক্তিযুদ্ধে যে মানবীর শরীর নির্যাতনে বলি হয়েছিলো, তারাও নারীই ছিলেন। হ্যাঁ, তারাও নারী। আপনার স্ত্রীও একজন নারী।

একটু আগে কনা নামের প্রিয় এক ফেসবুক বন্ধু ইনবক্সে একটি লিংক পাঠিয়েছে। ও সাধারণত আমাকে সামাজিক সমস্যাগুলোর লিঙ্কগুলোই আমাকে পাঠায়। আমিও লিঙ্কটি ওপেন করলাম। করে যা দেখলাম তা দেখে সেলিনা হোসেনের সম্পাদনায়,আমার সংগ্রহের একটি বইয়ের বিষয়বস্তুর দৃশ্যায়নগুলো চোখের সামনে ভিডিও রিপ্লে করার মতো রিভিও হলো। বইটির নাম একাত্তরের নির্যাতিতা নারী। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের নারীদের উপর কিরকম নির্যাতন হয়েছিলো সে বইটিতে একাত্তরের নির্যাতিতা নারীদের সাক্ষাৎকার ছিলো। কিন্তু নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের যে নারীর ধারণ করা বিবস্ত্র শরীরে নির্যাতনের দৃশ্য আমাদের দেখতে হলো, সে নির্যাতনের ধরণতো আমরা পাক বাহিনীর নির্যাতনের বর্ণনায় পেয়েছিলাম। তাহলে ওরা এসব কোথায় শিখলো? এই ছেলেগুলোতো খুব সম্ভবত ওই নারীর সন্তানের বয়সী। শারীরিক অবয়বে মনে হচ্ছে কিশোরেরা নারীর মা অথবা খালার বয়স। নারীটি বলছিলো ‘বাবারা আমারে ছেড়ে দে। বাবারা তোদের আল্লার দোহাই লাগে।’

একজন মাকে ওরা কয়েকজন কিশোরেরা উলঙ্গ করে মাটিতে ফেলে কাপড় টেনে টেনে খুলে নিয়ে উল্লাস করছে। মায়ের গোপন অংশে, যে অংশ ছিঁড়ে, প্রসব বেদনায় নীল হয়ে একদিন এরকম একজন মা ওদের জন্ম দিয়েছিলেন , পৃথিবীর আলো দেখিয়েছিলেন ঠিক আঠারো উনিশ বছর আগে। এই ওরা, এই বাবারা, মায়ের সেই অংশে

টর্চ ধরেছে। ধরে দেখাচ্ছে ওরা যেখান থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছে ঠিক ওখানে তারা মোবাইল ধরেছে। হাত ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ফেসবুকে সেই ছবি দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। যেই স্তন থেকে মায়ের নির্যাস খেয়ে ওরা বেড়ে উঠেছে। সেই মায়ের দুগ্ধস্তন থেকে ওরা কাপড় সরিয়ে হাসিতে মেতে উঠেছে। মায়ের যে মুখ থেকে ওরা মা-বাবা বলা শিখেছে, ভাষা শিখেছে, সেই মুখে ওরা একের পর এক লাথি দিয়ে আনন্দে লাফিয়ে উঠছে। আর কিছু বলতে পারছি না। শুধু হুমায়ূন আজাদ স্যারের কয়েকটি লাইনের কথা নমে হচ্ছে। আমাকে বাংলাদেশের কথা তুমি জানতে চেওনা। আমি মুহূর্তেই তা সইতে পারি না। মনে হচ্ছে বাংলাদেশের সবাই এখন ওই নারিটির মতো উলঙ্গ। আর ওরা মোবাইল হাতে লাইনে দাঁড়িয়েছে ধর্ষণউল্লাসে মেতে ওঠার জন্য। আমি ওদের ক্রসফায়ার চাই না। আমি ওদের মৃত্যু চাই না। আমি চাই ওদের উলঙ্গ করে বাদ্য বাজিয়ে শহরে ঘোরানো হোক। তাতে যদি ওরা ওদের সম্বিৎ ফিরে পায়। কঠিন শাস্তি পেয়ে ওরা যেন পশু থেকে একজন মানুষের মতো মানুষে রুপান্তর ঘটে। আহ। পশুকে দোষ দিচ্ছি কেন? কোনো কোনো পশু তো ওদের চেয়েও অনেক মানবিক। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত