প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মেধাবী সেই সুমাইয়ার বাড়ি ঘুরে দেখলেন চিফ হুইপ

ডেস্ক রিপোর্ট: দরিদ্র পরিবারের সামর্থ্য নেই। এ কারণে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েও পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল সুমাইয়া ফারহানার। ভালো ফলাফল করেও টাকার অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে এ মেধাবীর।

এমন তথ্য কানে যেতেই তৎপর হয়ে ওঠেন মাদারীপুর-১ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। তাৎক্ষণিক তিনি সুমাইয়ার বাড়িতে মিষ্টি পাঠান। মোবাইলে কথা বলে তার পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নেন। তাদের জরাজীর্ণ ঘরটি সংস্কারের আশ্বাস দেন। সংস্কার শেষে সেই ঘরটি এখন টাইলস সমৃদ্ধ ও সম্পূর্ণ পাকা ঘর।

শুক্রবার দুপুরে চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী অদম্য মেধাবী সুমাইয়ার বাড়িতে যান। খোঁজখবর নেন তার পড়াশোনার। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনার পাশাপাশি দেন সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস।

জানা গেছে, সুমাইয়ার বাবা দেলোয়ার হোসেন পেশায় দর্জি। শ্বশুরের দেয়া জমিতে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউপির সাড়ে এগারো রশি লপ্তিকান্দি গ্রামে বসবাস শুরু করেন সাত বছর আগে। তিনি সংসার চালাতে ঢাকার সাভার, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে কাজ করেছেন। সাত বছর আগে শ্বাসকষ্টে দেলোয়ারের মৃত্যু হয়।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তার স্ত্রী সালেহা বেগম। নিজে ঘরে বসে দর্জির কাজ শুরু করেন। বড় মেয়ে তাসলিমা কেজি স্কুলে চাকরি করে মায়ের সঙ্গে সংসারের হাল ধরেন। মেয়ে-জামাইদের আর্থিক সহায়তায় কোনো মতে চালিয়ে যাচ্ছেন সংসার। অর্থাভাবে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন অল্প বয়সেই।

ছয় মেয়ের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সুমাইয়া ফারহানা। অভাবের সংসারে সুমাইয়ার পড়াশোনা চালানোর সাহস পাচ্ছিলেন না তার মা। তবে সুমাইয়ার প্রবল আগ্রহ থাকায় বোনদের সহায়তায় পড়াশোনা চলতে থাকে। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫সহ টেলেন্টপুলে বৃত্তি পায় সুমাইয়া। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাঁচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির পর মেধাবী সুমাইয়া বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলে মন জয় করে ফেলে শিক্ষকদের। সুমাইয়ার পরিবারের অসহায়ত্বের কথা জেনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়মিত খাতা, কলম, বই দিয়ে সহযোগিতা করে। তাকে প্রাইভেট পড়িয়ে কোনো শিক্ষক টাকা নেননি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়মিত বৃত্তি দেয়ারও ব্যবস্থা করে।

চলতি বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সুমাইয়া। পরীক্ষার ফলাফলে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে সে। এরপরও তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ছিল পরিবার। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন বুকে ধারণ করা পিতৃহীন সুমাইয়ার চোখেমুখে ছিল হতাশার ছবি। ডাক্তার তো দূরের কথা, ভালো কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়েই সংশয় ছিল তার।

সুমাইয়ার এমন অবস্থায় পাশে দাঁড়ান চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। তার স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, বাড়িতে মিষ্টি পাঠান, মোবাইলে সুমাইয়া, তার মা, বড় বোন ও স্কুলের শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সুমাইয়ার লেখাপড়া চালিয়ে যেতে কী কী প্রতিবন্ধকতা ও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা জানতে চান এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তাদের পলেস্তারাবিহীন ঘর সংস্কার করে ফ্লোর টাইলস ও দরজা লাগানোসহ বাড়িতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

সেই ঘরটি সংস্কারের পর শুক্রবার সুমাইয়ার বাড়িতে যান চিফ হুইপ। দরিদ্র পরিবারের অদম্য মেধাবীর বাড়িতে চিফ হুইপের আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকার শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়। চিফ হুইপ সুমাইয়ার বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা তাকে মিষ্টি মুখ করান। চিফ হুইপ তার অর্থায়নে গড়ে দেয়া ঘরটি ঘুরে দেখেন। নির্দেশনা দেন সুমাইয়ার শিক্ষা জীবন নিয়ে।

সুমাইয়া ফারহানা বলেন, চিফ হুইপ স্যার আমার লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি আমাদের ঘর সংস্কার করে দেয়ায় ও বাড়িতে আসায় আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ।

পাঁচ্চর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামসুল হক বলেন, এমন উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে বাল্যবিয়ে রোধ হবে। মেধাবীরা ঝরে পড়বে না। শিক্ষার্থীরা আরো উৎসাহ পাবে।

মাদবরচর ইউপি চেয়ারম্যান চৌধুরী সুলতান মাহমুদ বলেন, একজন দরিদ্র অদম্য মেধাবীর জন্য চিফ হুইপের এমন মানবিক আচরণে মুগ্ধ এলাকাবাসী। সারাদেশে এমন উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়লে অনেক অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থী মানব সম্পদে পরিণত হবে।

মাদারীপুর-১ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, সোনার বাংলা গড়তে হলে অবকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানবসম্পদ উন্নয়ন করতে হবে, সোনার মানুষ তৈরি করতে হবে। সবার উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায়-মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো। সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত