শিরোনাম
◈ চীনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শুরু, ১৫ সমঝোতা স্মারকে সই করবে বাংলাদেশ ◈ চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের ভ্যালুচেইন সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ৪ কোটি লিটার তেল ও ২২ হাজার ৫০০ টন ডাল কিনবে সরকার ◈ জুলাইয়ে চালু হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ◈ চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন উদ্যোগ, ১৫ দিনেই মিলবে ব্যবসার লাইসেন্স ◈ খেলা দেখাই চাকরি, বিশ্বকাপে ৫০ হাজার ডলার পাচ্ছেন দুই ফুটবলপ্রেমী, ভাইরাল দুই সমর্থকের গল্প ◈ ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি, বন্ধ স্কুল-বিমানবন্দর ও রেল চলাচল স্থগিত ◈ চীনে খুলছে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ অফিস, বাড়বে শিল্প সহযোগিতা, কোম্পানিগুলোকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের ◈ ছিঁড়ে যাচ্ছে জার্সি, বিশ্বকাপে কেন এমন অপেশাদারিত্ব?  ◈ একদিনের ব্যবধানে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

প্রকাশিত : ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫২ রাত
আপডেট : ২৪ জুন, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

৩৭ হাজার কোটি টাকার উড়োজাহাজ চুক্তি, ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ক্রয় বিমানের

মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এই চুক্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

একসঙ্গে এতগুলো উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। যদিও চুক্তি অনুযায়ী আগামী কয়েক বছরে ধাপে ধাপে এই উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত হবে।

বিমানের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন, বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেনসহ বিমান ও বোয়িংয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি বলেন, ‘১৪টি উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। নতুন ৭৮৭-১০ মধ্যপ্রাচ্য রুটে এবং ৭৮৭-৯ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ৪টি ৭৩৭-৮ বিমান যুক্ত হওয়ায় বিমানের স্বল্প দূরত্বের রুট আরও আধুনিক হবে। এসব বিমান প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং যাত্রীদের জন্য উন্নত সুবিধা দেবে।’

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ইউরোপভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। এ নিয়ে চলছিল শেষ সময়ের দর-কষাকষি। তখন বোয়িংও বাংলাদেশে উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব পেশ করে। দুই সংস্থার সঙ্গে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ার মধ্যেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিমানের উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ থেমে যায়।

তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ফের বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মার্কিন শুল্কনীতিতে বাণিজ্য ঘাটতি সমন্বয় করতে গিয়ে তা দ্রুতই এগোতে থাকে। জাতীয় নির্বাচনের আগেই চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে চুক্তি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সেই চুক্তির পরবর্তী ধাপ সম্পন্ন হলো এই চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে।

চুক্তির আওতায় বিমান ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কিনবে, যার মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। আনুমানিক ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলারের এই বিনিয়োগ দেশের বিমান খাতে অন্যতম বৃহৎ ক্রয়চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশি টাকায় এই চুক্তির মূল্যায়ন প্রায় ৩৭ হাজার কোটি।

বিমান কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে দীর্ঘ দূরত্বের রুটে সক্ষমতা বাড়বে এবং আঞ্চলিক ফ্লাইট পরিচালনাও আরও শক্তিশালী হবে।

বিমান সূত্র জানায়, চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবর মাসে সরবরাহ করা হতে পারে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৩টি উড়োজাহাজ হস্তান্তর সম্পন্ন হবে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়