প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] একনেকে অনুমোদিত দুই প্রকল্প থেকে বৈদেশিক ভ্রমনের ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা বাদ

সাইদ রিপন : [২] জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্পের বিদেশ ভ্রমণ ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন উন্নয়ন ও নৌরুট সচল রাখতে চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ নৌরুটে ৯০০ কিলোমিটার ড্রেজিং করা হবে। একনেক সভায় বিদেশ সফর বাবদ ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা কমিয়ে আনা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ খাতে সাড়ে ৪ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছিল। এ খাতে এখন মাত্র ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

[৩] মঙ্গলবার গণভবন থেকে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানান মন্ত্রী।

[৪] পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, একটি প্রকল্পে বিদেশ সফর বাবদ ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু একনেক সভায় আমরা কমিয়ে মাত্র ৭০ লাখ টাকা রেখেছি। আমরা বিদেশ সফরে ব্যয় বরাদ্দ দেবো। তবে অযৌক্তিক কোন ব্যয় বরাদ্দ দেবো না। মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্পের আওতায় ৫ কোটি টাকা ভ্রমণ ব্যয় চাওয়া হয়েছিল। একনেক সভায় এই ব্যয় কমিয়ে দেড় কোটি টাকা রাখা হয়েছে। ফলে একনেক সভায় এই প্রকল্পে ভ্রমণ ব্যয় কমেছে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ফলে একনেক সভায় দুটি প্রকল্পে ভ্রমণ ব্যয় বাবদ একনেকে কমানো হলো ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

[৫] আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন উন্নয়ন ও নৌরুট সচল রাখতে চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ নৌরুটে ৯০০ কিলোমিটার ড্রেজিং করা হবে। পাশাপাশি টার্মিনালসহ আনুষঙ্গিক উন্নয়ন করবে সরকার। প্রকল্পের কাজে বিশ্বব্যাংক আরও ১৭২ কোটি ৮০ লাখ টাকা দিচ্ছে। ফলে সংস্থার মোট ঋণ দাঁড়াচ্ছে ৩ হাজার ৫২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অন্যদিকে সরকারি অর্থায়ন ২৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কমে মোট দাঁড়াচ্ছে ২৯৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সরকারি ব্যয় কমানো এবং বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধির জন্য প্রকল্পটি একনেক সভায় সংশোধনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। সংশোধিত অংশ অনুমোদিত হওয়ায় প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৪৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

[৬] প্রকল্পটি ২০১৬ সালের পয়লা জুলাই থেকে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। একনেকে অনুমোদন হওয়ায় প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এই নৌ করিডোর বরাবর ৬টি স্থানে নৌযানসমূহের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রাথমিকভাবে ষাটনল, চরভৌরবী, চাঁদপুর, মেহেন্দীগঞ্জে, সন্দ্বীপ ও নলচিরা স্থানকে নির্বাচন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় চারটি প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হবে। পানগাঁও ও আশুগঞ্জ টার্মিনাল উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় ভৈরব বাজার, আলু বাজার, হিজলা, হরিণা, মজু চৌধুরী, ইলিশা (ভোলা) ভেদুরিয়া, লাহারহাট, বদ্দারহাট, দৌলতখাঁ, চেয়ারম্যান ঘাট, সন্দ্বীপ, তজুমদ্দিন, মনপুরা, এবং তমুরদ্দিনে ১৫টি লঞ্চ ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

[৭] প্রকল্পটি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল এবং ভোলা জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। ৩০০ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই রুটে বরিশালসহ অন্যান্য রুটের সংযোগ রয়েছে। এ রুটের সঙ্গে সংযুক্ত নারায়ণগঞ্জ এবং বরিশাল যুক্ত হলে মোট নৌপথের দৈর্ঘ দাঁড়াবে ৯০০ কিলোমিটার। দেশের ২৪ হাজার কিলোমিটার নৌপথের মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ-পানগাঁও হয়ে ঢাকা- আশুগঞ্জ পর্যন্ত নৌ রুটের দৈর্ঘ্য ৯০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৮০ কিলোমিটার অংশ হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে।

[৮] মৌজা ও প্লটভিত্তিক জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা। দেশের সব ভূমিকে জাতীয় ডিজিটাল ভূমি জোনিং করা হচ্ছে। ভূমির গুণাগুণ অনুযায়ী ভূমিকে প্লটওয়ারি কৃষি, আবাসন, বনায়ন, জলমহাল বাণিজ্যিক ও শিল্প উন্নয়ন, পর্যটন ইত্যাদি শ্রেণিতে বিভক্ত করে গ্রামাঞ্চলের জন্য মৌজা ও প্লটভিত্তিক ডিজিটাল ভূমি জোনিং ম্যাপ প্রণয়ন করা হবে। মাঠ পর্যায়ে ভূমি ব্যবস্থাপনার ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধার্থে কেন্দ্রীয়ভাবে কম্পিউটারাইজড ভূমি তথ্য সংরক্ষণ পদ্ধতি স্থাপন করা ইত্যাদি এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত