প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন: পত্রিকার মালিকরা দুর্নীতির গল্প শুনিয়েই খালাস, কারণ…

কামরুল হাসান মামুন: পিয়ন, ড্রাইভার, মিটার রিডার এরা তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। এরা আসলে টোকাই। এরা এদের বসদের দুর্নীতির ছিটেফোঁটা কুড়িয়ে কেউ কেউ একটু ভালো থাকে। এই ধরণের টোকাইরা যখন অঢেল সম্পদের মালিক হয় তখন বুঝতে হবে এদের বসরা কি পরিমান কামিয়েছে। দুইদিন আগে শুনলাম এতিম খানায় বড় হওয়া রাজউকের চতুর্থশ্রেণীর কর্মচারীর শতকোটি টাকার সম্পদ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব রক্ষক, কিংবা গাড়ির ড্রাইভার অথবা বিদ্যুৎ বা তিতাসের মিটার রিডার সম্পদ দেখে আমরা আঁতকে উঠি। কারণ এদেরকে গরিব ভাবতে আমরা অভ্যস্ত। এরা কেন এত সম্পদের মালিক হবে? এরা ধরা পরে কারণ এরা এদের সম্পদ পাচার করতে পারে না। লজ্জা লাগে না এই চুনোপুঁটিদের ধরে পৈশাচিক আনন্দ নিতে যখন তাদের বসরা ধরা ছোয়ার বাহিরে?
ওদের বসরা ধরা ছোয়ার বাহিরে থাকে কারণ বসরাতো দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের বড় অংশই পাচার করে দেয়। আর একটি অংশ দেশে থাকলেও আমরা ধরে নেই এরা আমলা, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার তাই এদেরতো গাড়ি বাড়ি অঢেল সম্পদ থাকবেই। ছোটবেলাইতো আমাদের মগজে ঢুকিয়ে দিয়েছে লেখাপড়া করে যে গাড়িঘোড়া চড়ে সে। তাই এদের রাজকীয় চালচলন দেখলে আমরা স্বাভাবিক ধরে নেই। সারাজীবনে পাওয়া বেতন একসাথে যোগ করলেও হয়ত তার অর্জিত সম্পদের দুই আনাও হবে না তবুও আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে না। কারণ ওই যে মগজে ধারণ করা আছে এরা বড়লোক হওয়ার জন্যইতো লেখাপড়া করেছে। লেখাপড়ার আসল উদ্যেশ্য যে জ্ঞানার্জন ও সৎ এবং ভালো মানুষ হওয়া সেইটা আমাদের মগজে নাই।
আমাদের আক্রোশ সব গরিব মানুষদের উপর। দেখুন না বাসার কাজের মেয়ে ফ্রীজ থেকে একটা মিষ্টি খেয়ে ফেললে আমরা কি তুলকালাম কান্ড বাধিয়ে দেই? ঘরে ৫০ টাকার নোট হারিয়ে গেলে প্রথমেই সন্দেহ করি ওই গরিব কাজের মানুষের উপর অথচ পরে দেখা যায় নিজের সন্তানই ওটা মেরে দিয়েছে। চারিদিকে একটু তাকিয়ে দেখুন না? কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক, পত্রিকার মালিক, টেলিভশনের মালিক, ব্যাংকের মালিক। কারা হাজার কোটি টাকার মালিক? এদের সবাই হয় ব্যাংক লুটেছে অথবা রাষ্ট্রীয় কোষাগার খালি করেছে। এই যে আমাদের চিনিকল, টেলিটক, বিমান, রেল ইত্যাদি কেন লাভের মুখ দেখে না? কারণ এইগুলা ছারপোকা যেমন রক্ত চুষে তেমনি একদল কর্মকর্তা রাষ্ট্রের সম্পদ চুষে বড় হয়েছে। গতকাল দেখলাম এক অবসর প্রাপ্ত উপ সচিব ঢাকায় বাড়ি গাড়ি থাকা সত্বেও আরো সম্পদ আহরণের লোভে প্রতারনার ফাঁদে পা দিয়ে জুয়া খেলে কোটি কোটি টাকা হারিয়েছেন। এইবার বুঝুন চাকুরীরত অবস্থায় কেমন সততার পরিচয় তিনি দিয়েছিলেন।
আমাদের মিডিয়া এবং আমরা ম্যাংগো পাবলিকরা ওই গরিব ড্রাইভার, সুইপার, মিটার রিডারদের দুর্নীতির গল্প শুনিয়ে পত্রিকার কাটতি বাড়িয়েই খালাস। এর উপরে যেতে এরা পারে না। কারণ পত্রিকার মালিকরাও যে একই শ্রেণীর। এখানে হাত দিতে তারা ভয় পায় পাছে নিজেরটা বের হয়ে আসে। এই রাষ্ট্রে ধরা ছোয়ার বাহিরে থাকার সবচেয়ে বড় টিকা হলো বড় দুর্নীতি করতে হবে। দুর্নীতি যত বড় হবে জীবনটা ততই নিরাপদ হবে। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত