প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাংলাদেশের আমাদানিকৃত পেঁয়াজ ভারত সীমান্তে পচন ধরেছে

জেরিন আহমেদ: [২] গত সোমবার ঘোষণা না দিয়েই ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আটকে গেছে শত শত পেঁয়াজভর্তি ট্রাক। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থলবন্দরে আটকে থাকা ট্রাকে পেঁয়াজভর্তি বস্তায় পচন ধরতে শুরু করেছে।

[৩] যার আনুমানিক হিসেব, প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ ভারত থেকে বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য প্রস্তুত ছিল, কিন্তু বাধ সাধে নরেন্দ্র মোদি সরকারের নিষেধাজ্ঞা।

[৪]পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দরের কয়েকজন পেঁয়াজ ব্যবসায়ী জানান, “পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক গত চারদিন আটকে গেছে। প্রচণ্ড গরমে এবং বৃষ্টিতে প্রায় ২৫ ভাগ পেঁয়াজে পচন ধরে গেছে” । আবার অনেক ব্যবসায়ী পচন ধরে যাওয়া পেঁয়াজ বাছাই করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা শুরু করেছেন।

[৫] তারা আরো জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীরা গত চারদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন এই ভেবে যে, ভারত সরকার রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে দিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি করার অনুমতি দেবে। “কিন্তু তেমন কোনো নির্দেশ এখনো আসেনি। তাই স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা ছাড়া আমাদের উপায় নেই। কিন্তু এভাবে বিক্রি করার ফলে আমরা সঠিক মূল্য পাচ্ছিনা”

[৬] পেট্রাপোলে ক্লিয়ারিং এজেন্টের সংগঠনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানিয়েছেন ভারত সরকারের এই সিদ্ধান্তে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।

[৭] “এই সিদ্ধান্তের প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কেও পড়ছে। শেখ হাসিনা সরকার যখন আমাদের দেশে ইলিশ মাছ পাঠাচ্ছেন, আমাদের দেশ থেকে পেঁয়াজ পাঠানো বন্ধ করার এই সিদ্ধান্ত দুঃখজনক” তিনি জানান।

[৮] এদিকে, সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের ১৬৫ ট্রাক পেঁয়াজ। প্রতি ট্রাক পেঁয়াজের মূল্য ১০ লাখ টাকা। গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে এসব ট্রাক ভারতে আটকে থাকায় এখন পচনের মুখে পড়ছে বিপুল পরিমাণ এ পেঁয়াজ। কবে নাগাদ এসব পেঁয়াজ দেশে প্রবেশ করবে সঠিক দিনক্ষণও জানতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া মোটা অংকের ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমদানিকারকরা।

[৯] ভোমরা স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম জানান, আটকা পড়া প্রতি ট্রাক পেঁয়াজের মূল্য ১০ লাখ টাকা। গত সোমবার থেকে ভোমরা বন্দরের বিপরীতে ভারতের ঘোজাডাঙা সীমান্তে পেঁয়াজভর্তি ট্রাকগুলো আটকে থাকায় পেঁয়াজ নষ্ট হতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে অর্ধেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া আগামী রোববার বা সোমবার ট্রাকগুলো দেশে ঢুকলেও অর্ধেকের বেশি পেঁয়াজ আর খাওয়ার উপযুক্ত থাকবে না। এতে প্রতি ট্রাকে ব্যবসায়ীদের ৫-৬ লাখ টাকার লোকসান হবে। সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকারও বেশি।

[১০] ভোমরা বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মহসিন হোসেন জানান, কত ট্রাক পেঁয়াজ ভারতে আটকা পড়েছে তার সঠিক হিসাব আমার জানা নেই। পেঁয়াজ পচনশীল দ্রব্য। পেঁয়াজের ট্রাক আটকা পড়ে থাকলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে লোকসানের মুখে পড়বেন।

[১১] গত ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারে রপ্তানি করছিলেন। কিন্তু ভারতে পেঁয়াজের মূল্য দ্বিগুণের বেশি হয়ে যাওয়ায় ওই মূল্যে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছেন তারা। ভারতের বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন এলসি মূল্য নির্ধারণ করার জন্যই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভারতের ব্যবসায়ীরা ওই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ৭৫০ ডলার নির্ধারণ করার জন্য প্রস্তাব করেছেন।

[১২] কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী আগে এলসি করা পেঁয়াজ আগের দামেই বাংলাদেশকে দিতে হবে। তারা সেটি না করে পেঁয়াজগুলো আটকে দিয়েছে ভারত। যেটা ঘোরতর অন্যায় বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। সূত্র: ডিবিসি, সময় নিউজ , চ্যানেল ২৪, বিডি নিউজ, আরটিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত