প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুমন জাহিদ: মিডিয়া এবার জাতিকে ছুঁড়ে দিয়েছে খিচুড়ির হাড়িতে!

সুমন জাহিদ: মিডিয়া এবার জাতিকে ছুঁড়ে দিয়েছে খিচুড়ির হাড়িতে। নিউজের কাটতি বাড়াতে মিডিয়ায় রসালো হেডলাইন : ‘খিচুড়ি রান্না শিখতে বিদেশি প্রশিক্ষণ চান ১,০০০ সরকারি কর্মকর্তা!’ ব্যস, মুহূর্তেই স্যোসাল মিডিয়ায় সবাই খিচুড়ি এক্সপার্ট হয়ে উঠলো। দেশপ্রেমিক অনেক ভাই আবার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রের ৫ কোটি টাকা একাই বাঁচিয়ে দেবেন এবং বিদেশি ট্রেনিংয়ের চেয়ে উত্তম খিচুড়ি রান্না শিখিয়ে দেবেন বিনা পারিশ্রমিকে। উত্তম প্রস্তাব। আপনাদের দেশপ্রেমকে সম্মান জানাই কিন্তু আপনার অজ্ঞানতা ও গুজবপ্রিয়তা দেশকে বাঁশেরকেল্লায় রূপান্তর করতে সময় নেবে না।

খবরে প্রকাশ ‘দেশের ৫০৯টি উপজেলায় এক কোটি ৪৭ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষার্থীদের মাঝে সপ্তাহে তিন দিন গরম খিচুড়ি এবং তিন দিন উচ্চ পুষ্টিমানের বিস্কুট সরবরাহ করা হবে।’ তার মানে দাঁড়াচ্ছে প্রতি উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ শিক্ষার্থীকে ১ বেলা ডিম/সব্জি খিচুড়ি খাওয়ানো। ভাইলোক সংখ্যাটা ১ বেলায় ৩০ হাজার মানুষের রান্না! এটা কিন্তু আটরশি/চরমোনাইয়ের বাৎসরিক ওরস নয়, বছরজুড়ে সপ্তাহে ৩ দিন এবং খাদ্য-পুষ্টিমান ঠিক রেখে, ৩ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য ফ্রেশ কাঁচামাল সংগ্রহ, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে রান্না এবং শত শত প্রাইমারি স্কুলে একই সময়ের মধ্যে খিচুড়ি সরবারহ ও শিক্ষার্থীদের মাঝে গরম পরিবেশন, এডুকেশন অ্যাক্টিভিজমে যেটি মিডডে মিল বলে পরিচিত। বিশে^ এমন কোনো বাবুর্চি জন্মায়নি যার একক টিম এটি পারবে, এমনকি উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়া বাংলাদেশের যতো রেস্টুরেন্ট, ডেকরেটর ও ক্যাটারিং সার্ভিস আছে সবাই সম্মিলিতভাবেও এই কাজ করার সক্ষমতা রাখে না, আই চ্যালেঞ্জ।

‘ইন্ডিয়ান মেগা কিচেন’ নামে একটা ডকুমেন্টরি দেখায় ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে, অনেকেই দেখেছেন। যারা দেখেছেন তাদের কাছে জিজ্ঞসা করুন- মেগা কিচেন কি জিনিস। অশংযধুধ চধঃৎধ ঋড়ঁহফধঃরড়হ নামে একটি বেসরকারি সংগঠন ইন্ডিয়ায়, কর্ণাটকের হুবলি জেলায় ১৮ লাখ স্কুল শিশুর মাঝে তারা বিনামূল্যে রান্না করা খাবার পরিবেশন করে, আর আমাদের শিক্ষার্থী সংখ্যা ১ কোটি ৪৮ লাখ। তাদের ওয়েব সাইটে গিয়ে বা ইউটিউবে এই মহযজ্ঞ আয়োজনটা একবার দেখুন প্লিজ। তারপর না হয় মন চাইলে ট্রল করুন।

ভারতের সক্ষমতা নেই তার সকল প্রাইমারি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ১ বেলা খাওয়ানোর, তাই বিভিন্ন প্রদেশের নির্দিষ্ট কিছু জেলায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি হিসেবে বিচ্ছিন্নভাবে এমনতর উদ্যোগ নিচ্ছে। বিপরীতে আমাদের ব্যবসায়ীরাতো প্রায় সবাই লুটেরা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো চলে দান খয়রাত নিয়ে- তাদের উপর ভরসা নেই; ভরসা শুধু একজনের উপরই। হ্যাঁ, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা- তিনিই পারেন, তার দ্বারাই সম্ভব। ভারতের চেয়ে অনেক সামাজিক সূচকেই আমরা এগিয়ে তাই ভারত না পারলেও শেখ হাসিনা পারেন। স্বপ্নদর্শী এই রাষ্ট্রনায়কের পক্ষেই সম্ভব ১ কোটি ৪৮ লাখ প্রাইমারি শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন একবেলা খাওয়ানো। আপনার আমার উন্নাসিক ট্রোল দিয়ে এমনতর মহতি উদ্যোগকে আর বিপন্ন না করি, প্লিজ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত