প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ওয়েবসাইটে ফয়সালের নার্সারী ব্যবসা

শাহীন খন্দকার : [২] ইট-পাথরের এই নগরীতে এখন শুধু ছাদে বাগান নয়, বারান্দা কিংবা ব্যালকুনিতেও হবে ঝুলন্ত বাগান। স্বল্প স্থান ব্যবহার করে ঝুলিয়ে রাখা একটি বালতিতে একই সঙ্গে তিনটি ফসল ফলানো যাবে। সবজি জাতীয় ওই ফসল থেকে শুধু ফলনই নয়, শহরে যাদের ছোট্ট একটি ফ্ল্যাট কিংবা প্লট রয়েছে তারাও পাবেন সবুজের সমারোহ।

[৩] এই কৃষি পদ্ধতি নিয়ে এগিয়ে চলেছেন ফয়সাল নার্সারীর ফয়সাল (৩১)। তিনি বলেন তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর ছাদ বাগান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সেবা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে নজর কেড়েছেন অনেকের। অনলাইনেই সার্স দিলেই, গাছ বিক্রি ও সেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠান দ্রুতই বাজারে নিয়ে আসবে Foysal Nursery.com ওয়েবসাইট। দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় হবে গাছ বিক্রি সংক্রান্ত ই-কমার্স সাইট। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর এমনসব তথ্যের সঙ্গে সঙ্গে গাছ বিক্রি সম্পর্কেও পাওয়া গেছে চমকপ্রদ তথ্য। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিভিন্ন নার্সারিতে ঘুরে এমন তথ্যই পাওয়া যায় বারান্দায় ঝুলন্ত বাগান, আসছে গাছ বিক্রির ওয়েবসাইট www.fb.com/Foysalnursery.com ।

[৪] বনজ, ফলদ ও ওষুধি মিলে অন্তত দেড়শ প্রজাতির গাছ রয়েছে তার চারটি ব্রাঞ্চে । ব্রাঞ্চগুলো সাভার জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, আগারগাঁও দুটি এবং কেরানীগঞ্জে একটি। এসব নার্সারীতে অর্কিট থেকে সব ধরনের গাছ পাওয়া যাচ্ছে।

[৫] তিনি বলেন, ফেইসবুকের মাধ্যমে ব্যাপকসারা পাওয়া যাচ্ছে ওয়ার্ডার চায়নিজ কমলা, মাল্টা, বারোমাসি আম, কাঠাল, ড্রাগন, লেবু রামবুটান, আপেল, অরকিট এর চাহিদা ব্যাপক বলে জানালেন ফয়সাল। প্রতি বছর প্রায় কোটি টাকার গাছ বিক্রি হয়ে থাকে কোন কোন বছর।

[৬] ক্যাকটাচ পিচলিলি, কেলাডিয়াম, জিজিপ্লান গাছ ঝুলন্ত কৃষি পদ্ধতিতেও করছি। এতে একটি বালতি, ছোট ছোট টব থাকবে। বালতিটি হবে স্টিললেস। যেটি ১০ বছরেও ঝং ধরবে না। নষ্টও হবে না। এই বালতিতে তিনটি ফসল ফলানো যাবে।

[৭] বালতির নিচ দিকে ঝুলে থাকবে মিষ্টি আলুর শাক, মাটিতে হবে মিষ্টি আলুর ফলন। আর ওই মাটির উপরের অংশে ঢেড়শ গাছ রোপণ করা হবে। আবার এতে বাদামও রোপণ করা যাবে। শীতকালে এতে টমেটো ও ব্যাপক ফলন পাওয়া যেতে পারে।

[৮] চারপাশে ফুলেফলে সাজানো বাগানের মতো অনেক ছোটবড় গাছের সমাবেশ। তার মধ্যে ফয়সাল নার্সারীর মালিক ফয়সালকে বেচাকেনার কথা জিজ্ঞাসা করলে বললেন, ঢাকায় গাছপালা কেনেন শৌখিন লোকজন, যাঁদের বাড়ি বা ফ্ল্যাট আছে। করোনার আশঙ্কায় তাঁরা বাইরেই বের হন না। গাছপালা কেনার লোক কোথায়?
রোববার দুপুরে কথা হচ্ছিল আগারগাঁও পুঙ্গু হাসপাতালের উল্টো মোড়ের এই নার্সারির মালিকের সঙ্গে। শেরেবাংলা নগরে ২০-২৫টির মতো নার্সারি গড়ে উঠছে। এখানে বড় নার্সারিগুলোর মধ্যে রয়েছে সবুজ বাংলা নার্সারি, কৃষিবিদ উপকরণ নার্সারি, বরিশাল নার্সারি, বিএফএ শাহিন নার্সারি, গ্রিন, হর্টাস, জান্নাত নার্সারি। কথা বলে জানা গেল, সাধারণত প্রতিবছর ৫ জুন থেকে জাতীয় বৃক্ষমেলা শুরু হয়। এ বছর করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে তা হয়নি। বৃক্ষমেলা সামনে রেখে তাঁরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। বন বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে মেলা হবে না। তাই খুচরা টুকটাক বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি গাছের মুল্য ৫০ টাকা থেকে ১৫শত টাকায় বিক্রি হচ্ছেবিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ঔষধী গাছ। কমলার চারা ২৫০ থেকে ১০ হাজার টাকা, বারোমাসি আম ২শত টাকা থেকে ২৫শত, আপেল ১ হাজার থেকে ৩৫০০ টাকা, রামবুটান ১২শত থেকে ৫০হাজার টাকা। কাঠাল ৫শত থেকে ৫হাজার,ডরিয়ান ১৫শত থেকে ২৫শত, লটকন ২শত থেকে ৫হাজার,ভিয়েতনাম নারিকেল গাছ ৬ শত টাকা থেকে ৩হাজার টাকা ।

সর্বাধিক পঠিত