প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সমজাতীয় প্রকল্প প্রস্তাবের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন পরিকল্পনা কমিশনের

সাইদ রিপন : [২] চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৮ হাজার ৮৫০ কোটি ব্যয়ে ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ’ প্রকল্প অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ প্রকল্পের মাধ্যমে সমগ্র দেশের গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৬ লাখ গভীর ও অগভীর নলকূপ বসানো হবে। প্রকল্পের আওতায় আগামী ৫ বছরে দেশের পল্লী এলাকায় নলকূপ বসানো হবে।

[৩] অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় ৯০ হাজার ৬৩৬টি অগভীর নলকূপ, ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৭৭টি গভীর নলকূপ, ২ লাখ ৬ হাজার ৬৬৪টি সাবমার্সিবল পাম্প, জলাধারসহ গভীর সাবমার্সিবল পাম্প ১ লাখ ৭০ হাজার ২২২টি, রিংওয়েল ৩ হাজার ৩৭৯টি, রেইন ওয়াটার হারভেষ্টিং ইউনিট ৩ হাজার ২১০টি, রুরাল পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম ৪৯১টি, সোলার পিএসএফ ৩২০টি, আর্সেনিক আয়রণ রিমোভাল প্ল্যান্ট (ভ্যাসেল টাইপ) ২৯ হাজার ৫৭০টি এবং কমিউনিটিভিত্তিক পানি সরবরাহ ইউনিট ৮ হাজার ৮৩৮টি বসানো হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সমগ্র দেশের গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা সরকারের।

[৪] এ প্রকল্পটি অনুমোদনের কয়েক মাস পরেই ‘গোপালগঞ্জ জেলার গোপালগঞ্জ সদর, মকসুদপুর, কাশিয়ানি, টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রস্তাব করেছে। এ প্রকল্পটির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৬ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন ২০২২ সালে বাস্তবায়ন করবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

[৫] নতুন প্রকল্পটির মাধ্যমে গোপালগঞ্জের সবকয়টি উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সুবিধা দিতে এ প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের সবকয়টি উপজেলায় ৫ হাজারটি গভীর নলকূপ, ৫০০টি সাবমার্সিবল পাম্প ও জলাধারসহ গভীর নলকূপ, ৪২টি গ্রামীণ পাইপ ওয়াটার সাপ্লাই, ১০টি রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্ট, ১ হাজার ৫০০টি আর্সেনিক আয়রণ রিমোভাল প্ল্যান্ট, ২৬টি পাবলিক টয়লেট ও ৭ হাজার ৫০০টি অফসেট টুইন পিট ল্যাট্রিনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

[৭] এ প্রকল্পটির ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা করতে বেশকিছু পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পটির জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় (ফরিদপুর সার্কেল) একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, বর্তমানে গোপালগঞ্জ জেলার প্রতি ১৭৮ জনের জন্য একটি নিরাপদ পানির উৎস রয়েছে। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতি ৫০ জনের ১টি নিরাপদ পানির উৎস দরকার। বর্তমানে এ এলাকায় ৪২টি গ্রামীণ পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেম, ১০টি কমিউনিটি বেজড সিদকো প্লান্ট, ১০টি রিভার্স অসমোসিস প্লান্ট, ২ হাজারটি আর্সেনিক আয়রণ রিমুভাল প্লান্ট ও ৫ হাজার ৮০০টি সাব-মার্সিবল পাম্পযুক্ত গভীর নলকূপ প্রয়োজন হবে।

[৮] কিন্তু প্রতি ৫০ জনের ১টি নিরাপদ পানির উৎস স্থাপনের লক্ষে সমগ্র দেশের জন্য যে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে, সেখানে গোপালগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলায় ১ হাজারটি গভীর নলকূপ, ৩০টি সোলার পিএসএফ ও ৯০টি সাব-মার্সিবল পাম্পযুক্ত কমিউনিটিভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সংস্থান রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি যৌক্তিক কিনা সেটির ব্যাখ্যা দিতে হবে। যদিও এ প্রকল্পটি নেওয়া হয় তাহলে পানি সরবরাহ ইউনিটির সংখ্যা পুন:নির্ধারণ করতে হবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

[৯] এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান বলেন, এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে ২০৩০ সালের মধ্যে সারাদেশে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে গোপালগঞ্জের বেশিরভাগ জায়গার পানি লবাণাক্ত। এ প্রকল্পের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের প্রত্যেক মানুষ নিরাপদ পানির আওতায় আসবে। এক প্রশ্নে তিনি বলেন, এ প্রকল্পে দুটি ভবন নির্মাণ করার কথা থাকলেও সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ি প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করে পাঠানো হবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত