প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ‘জবা’ উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা কমায়

হ্যাপি আক্তার : [২] গন্ধহীন জবা ফুল অতি পরিচিত এবং সহজলভ্য ফুল। দেশের সর্বত্রই জবা ফুল দেখা যায়। দেখতে খুবই সুদৃশ্য। এই ফুলের বহু স্বাস্থ্যকর গুণও রয়েছে। এটি উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা কমায়। একই সঙ্গে হজমের সমস্যাও দূর করে। লিভারের রোগ সারাতেও জবা ফুলের গুণ অনস্বীকার্য। এমনকী ক্যানসারের প্রবণতা কমাতেও দারুণ উপকারী জবা ফুলের চা। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’, মিনারেল, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে। জবা ফুলের চা কিন্তু একটি অসাধারণ পুষ্টিকর পানীয়। উদ্বেগ ও উদ্দীপনা কমাতেও প্রভাব রয়েছে জবা ফুলের চায়ের।

[৩] চুনির মতো লাল, খেতে খানিকটা টক। এ কারণে অনেকেই একে টক চাও বলে থাকে। এটির স্বাদ অনেকটা ক্র্যানবেরি জুসের মতো। এটি ঠান্ডা বা গরম– যেমন খুশি তেমন ভাবেই খাওয়া যায়। একে কোনও রকম ক্যাফিন থাকে না। ফলে শরীরের পক্ষে এটি খুবই উপকারী হয়। আপনি একাধিক বার খেলেও এর কোনও খারাপ প্রভাব শরীরে পড়ে না।

[৪] পরিচিতি : ইংরেজি নাম Hibiscus rosa-sinensis. জবা মালভেসি গোত্রের অন্তর্গত একটি চিরসবুজ পুষ্পধারী গুল্ম, যার উৎপত্তি পূর্ব এশিয়াতে। এটি চীনা গোলাপ নামেও পরিচিত। এই ফুলের বাংলা নাম রক্তজবা, জবা, জবা কুসুম। শাখা কলম দ্বারা এর বংশ বিস্তার হয়। প্রায় সারাবছরই ফুল ফোটে। বর্তমানে অনেক ধরনের হাইব্রীড জবার অস্তিত্ব পাওয়া যায় এবং সেগুলোর মধ্যে বর্ণবৈচিত্র প্রচুর।

[৫] বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস : বৈজ্ঞানিক নাম Hibiscus rosa-Sinensis Linn. জগৎ-Plantae, বর্গ- Malvales, পরিবার- Malvaceae, গণ- Hibiscus, প্রজাতি- H. rosa-sinensis.

[৬] বর্ণনা : জবা একটি চিরসবুজ গুল্ম। যার উচ্চতা ৮-১৬ ফুট ও প্রস্থ ৫-১০ ফুট। এর পাতাগুলো চকচকে সবুজ ও ফুলগুলো উজ্জ্বল লাল বর্ণের ও ৫টি পাঁপড়ি যুক্ত। ফুলগুলোর ব্যাস ৪ ইঞ্চি এবং গ্রীষ্মকাল ও শরৎকালে ফুটে।

[৭] চাষবাস : বাগানের গাছ হিসেবে জবাকে গ্রীষ্মমণ্ডল এবং উপগ্রীষ্মমণ্ডল অঞ্চলে সর্বত্র ব্যবহার করা হয়। জবা যেহেতু ১০° সেলসিয়াসের নীচের তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে না, তাই নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে জবা গাছকে গ্রীনহাউসে রাখা হয়। জবা গাছের বিভিন্ন রকমের সংকর প্রজাতি আছে। যাদের ফুলের রঙ সাদা, হলুদ, কমলা ইত্যাদি।

[৮] জবা ফুলের চায়ের বিশেষ কয়েকটি গুণ–

১) ঋতুকালীন ব্যথা-
ঋতুচক্র চলাকালীন মেয়েদের তলপেটে যে টান ধরে বা ব্যথা হয়, তা থেকে অনেকটাই আরাম পাওয়া যায় এই চা খেলে। এটি হরমোন ব্যালান্সে সাহায্য করে। অবসাদ এবং অতিরিক্ত
খাওয়ার পর হাসফাঁস লাগা থেকেও আরাম দেয়।

২) ওজন কমাতে-
জবা ফুলের চা ওজন কমাতেও দারুণ কার্যকরী। আপনি যদি কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খান, তবে আপনার শরীরে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ ও চিনি ঢুকছে। গবেষণা বলছে, জবা ফুলে চা এই স্টার্ট ও গ্লুকোজ শুষে নেয়। ফলে শরীরে মেদ জমে না।

৩) দারুণ টেস্ট-
একেবারে ক্র্যানবেরি জুসের মতো খেতে এই চা। ক্র্যানবেরি আমাদের দেশে পাওয়া যায় না। তাই এই চা সেই স্বাদের দোসর হতে পারে। এর সঙ্গে মধু, চিনি, এলাচ, লবঙ্গ ও আদা মিশিয়ে খেতে পারেন।

৪) সাবধানতা-
যেহেতু এই চা খেলে উচ্চ রক্তচাপ সহজেই কমে যায়, তাই খেয়াল রাখতে হবে যে, রক্তচাপ খুব যেন কমে না যায়। তবে হিতে বিপরীত হবে। অন্তঃস্বত্তারা এই চা খাবেন না। যাঁরা হরমোনের চিকিৎসা করাচ্ছেন তাঁরাও ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে এই চা খাবেন না। অনেকেরই এই চা খেলে হ্যালুসিনেশন বা নেশা হওয়ার মতো মনে হয়। তাই একবার খেয়ে দেখে নিন এটা আপনার শরীরে নিতে পারছে কিনা। অনেকের অ্যালার্জিও হতে পারে। তাই সতর্ক থাকুন।

৫) টাটকা জবা ফুল দিয়ে বাড়িতেই বানিয়ে নিন চা।
ফুলের পাপড়িগুলি সংগ্রহ করুন। মাঝখানের ডাঁটি ফেলে দিন। এর মধ্যে দারচিনি বা এলাচ ফেলে জল দিয়ে ফুটিয়ে নিন। দশ মিনিট পর, যখন দলের রং বদলে যাবে তখন, এতে প্রয়োজন অনুযায়ী চিনি মিশিয়ে খান।

[৯] এছাড়াও অন্য যেসব রোগে কাজ করে তা জেনে নেই-

১) ঘন ঘন প্রস্রাব বন্ধ করতে-
বেশি পরিমাণে পানি পান করে, আবার ঘন ঘন প্রস্রাব করে অথচ ডায়াবেটিস রোগী নয়, এই ক্ষেত্রে জবা গাছের ছালের রস এক কাপ পানির সঙ্গে পরিমাণমত চিনিসহ মিশিয়ে ৭/৮ দিন খেলে উপকার পাওয়া যায়।

২) ব্রণ থেকে মুক্তির উপায়-
আমাদের দেশে ব্রণ একটি সাধারণ সমস্যা। এর জন্য প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন জবা ফুল অনেক উপকারী। কেননা প্রাকৃতিক অ্যান্টি ইনফ্ল্যামাটরি উপাদান এবং ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই জবা ফুল ব্রণের সমস্যা প্রাকৃতিকভাবেই নির্মূল করে থাকে।

৩) হজমে সহায়তা-
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিয়ম করে এই জবা ফুল খেলে শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে এবং হজমক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখে। জবা ফুল হজমেও সহায়তা করে।

৪) চুল পড়া বন্ধ করে-
প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন এই জবা ফুল চুলে বিভিন্ন পুষ্টি প্রদান করে চুল পড়া বন্ধ করে এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা করে উজ্জ্বল আর ঝলমলে করে তোলে। নারিকেল তেলের সঙ্গে জবা ফুল মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করলে চুল কালো হয় এবং চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা পায়। প্রাকৃতিকভাবেই এই ফুলটি রোদের তাপে চুল ধূসর হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়।

৫) অনিয়মিত মাসিকের স্রাব-
অনিয়মিত মাসিক অর্থাৎ দুই এক দিন একটু একটু হয়, আবার সময় হয়ে গিয়েছে আদৌ হয়না আবার হয়তো এক মাস বন্ধ হয়ে থাকলো, এ ক্ষেত্রে দু তিনটি পঞ্চমুখী জবা ফুলের কুঁড়ি ও আধা গ্রাম দারুচিনি এক সঙ্গে বেটে সরবত করে ঋতুকালীন সময়ে দিনে একবার করে ৩/৪ দিন খেলে মাসিক স্বাভাবিক হবে।

৬) ধীর গতিতে বয়স বৃদ্ধি করে-
অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জবা ফুল শুধু ক্যান্সার প্রতিরোধই করে না নিয়মিত এই জবা ফুল আহারে বয়স বাড়ার প্রবণতাকে ধীর গতি সম্পন্ন করে তুলতে সহয়তা করে। ফলে এই জবা ফুল একজনকে চিরযৌবন এনে দিতে পারে।

৭) বমি করতে চাইলে-
যদি বমি করার প্রয়োজন হয় এক্ষেত্রে ৪/৫টি জবা ফুল নিয়ে বোঁটার সঙ্গে যে সবুজ ক্যালিকাস অংশ থাকে, এই অংশ টাকে বাদ দিয়ে ফুল অংশটাকে পানি ও চিনি পরিমাণমত দিয়ে চটকে সরবত করে দিনে ২/১ বার খেলে বমি হয়ে যাবে।

৮) টাক পোকা রোগ-
চুল স্বাভাবিক আছে অথচ ফাঙ্গাসে কিছু জায়গা চুল উঠে টাক হয়ে গেছে এ অবস্থায় জবা ফুল বেটে ওখানে লাগালে কিছু দিনের মধ্যে চুল উঠে যাবে। এক/দুইটা ফুল বেটে ৭/৮ দিন যে কোনো সময় লাগাতে হবে এবং দুই/এক ঘণ্টা রাখতে হবে অথবা যতক্ষণ সম্ভব রাখতে হবে।

৯) চোখ উঠা-
চোখ ওঠা রোগে জবা ফুল বেটে চোখের ভেতরটা বাদ দিয়ে চোখের উপর ও নিচের পাতায় গোল করে লাগিয়ে দিলে উপকার পাওয়া যায়। দিনের যে কোনো সময় এক/দুইটা ফুল বেটে ৭/৮ দিন লাগাতে হবে এবং এক ঘন্টা রাখতে হবে।

১০) হাতের তালুতে চামড়া উঠা-
শীতকালে হাতের তালুতে চামড়া উঠে খসখসে হয়ে গেলে জবা ফুল তালুতে মাখলে খুব উপকার পাওয়া যায়। দিনে দুই তিন বার এক/দুইটা ফুল হাতের মধ্যেই ডলে ডলে লাগাতে হবে। লাগিয়ে স্বাভাবিক কাজ কর্ম করা যাবে। যতক্ষণ সম্ভব রাখতে হব। সূত্র : এই সময়, উইকিপিডিয়া

সর্বাধিক পঠিত