প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উদিসা ইসলাম : ফিরে দেখা, ১৩ আগস্ট ১৯৭২, বাংলাদেশের জাতিসংঘভুক্তি নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পাকিস্তান

উদিসা ইসলাম : বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন, আজ পড়ুন ‘আমাদের নতুন সময়’ ওই বছরের ১৩ আগস্টের ঘটনা। সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জাতিসংঘভুক্তিতে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে চীনের ভেটো দেওয়ার বিষয়টি বিশ্ববাসীর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। তবে চীনের বাধা সৃষ্টির হুমকি সত্ত্বেও বিশ্বের অষ্টম জনসংখ্যা গরিষ্ঠ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘে অবশ্যই তার আসন পাবে বলে লন্ডনের পর্যবেক্ষক মহল ধারণা পোষণ করেন। লন্ডনের পর্যবেক্ষক মহল জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশে চীনের হুমকি পাকিস্তানকে খুশি করার একটি রাজনৈতিক কৌশল, আর পাকিস্তানের অনুকূলে কিছু সুবিধা আদায়ে বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি বলে মনে করেন কূটনীতির বিশ্লেষকরা। সিমলা শীর্ষ বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছ থেকে যুদ্ধবন্দিদের আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ৯০ হাজার যুদ্ধবন্দির মুক্তি আদায় ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের ব্যাপারে কিছু সুবিধা আদায়ের জন্য ঢাকার ওপর চাপ সৃষ্টির শেষ অবলম্বন হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের জাতিসংঘ ভুক্তিতে বাধা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছিল। ইত্তেফাক, ১৩ আগস্ট ১৯৭২, তবে পর্যবেক্ষক মহল এও মনে করছিল যে, শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে হয়তো বা চীন ভেটো নাও দিতে পারে। কারণ, বাংলাদেশ সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে এবং কোনোভাবেই তাদের উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, এতে করে সোভিয়েতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়ন ঘটবে।

সেক্ষেত্রে সেটি চীন নীরবে হজম করতে পারবে না। সিমলা চুক্তি ভঙ্গ করলো পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ভুট্টোর সিদ্ধান্তকে ভারতীয় কর্মকর্তারা সিমলা বৈঠকের পরিপন্থী বলে মনে করছেন। করাচি থেকে ওয়ালটার সোয়ার্জের পাঠানো এই খবর অবজার্ভারে প্রকাশিত হয়। খবরে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে তিনি (ভুট্টো) চীনা ভেটোর আশ্বাস পেয়েছেন। তিনি তার টুপির ভেতর থেকে এই খরগোশটি বের করতে পেরে শেখ মুজিবের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেবেন বলে দাবি করতে পারেন। কিন্তু তার সমালোচকরা মনে করে যে, এটা হবে নিছক অন্তসারশূন্য বিজয়। এতে করে শান্তি প্রচেষ্টা ব্যাহত এবং ভারতে ৯০ হাজার পাকিস্তানি যুদ্ধ বন্দির স্বদেশ প্রত্যাবর্তন আরও বিলম্বিত হবে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চীনের ভেটোর বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মোটেই বিচলিত নন বলেও খবরে প্রকাশ করা হয়। দৈনিক ইত্তেফাক, ১৩ আগস্ট ১৯৭২, ক্লিনিক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লন্ডনে চিকিৎসা শেষে ক্লিনিক ত্যাগ করেছেন বলে দৈনিক বাংলার খবরে প্রকাশ করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত চিকিৎসক নুরুল ইসলাম এক স্বাস্থ্য বুলেটিনে বলেন, ‘গত দুই দিন বঙ্গবন্ধুর স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ১৩ আগস্ট সকালে লন্ডনে ক্লিনিকের করিডোরের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত একা একা হেঁটেছেন তিনি কারও সাহায্য না নিয়ে। বুলেটিনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, অস্ত্রোপচারের পর থেকে এখনও পর্যন্ত তার ধূমপান করা নিষেধ ছিল।’ এদিকে জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল ওয়াল্ড হেইম ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোকে সঙ্গে রাখার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করে বলেন, ‘ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের গুরুত্ব ও অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে বৃহৎ শক্তি বিশ্বশান্তির সমতা বজায় রাখতে পারে, এ ধারণা সেকেলে হয়ে গেছে।’ ভিয়েতনাম সমস্যার সমাধানের প্রচেষ্টা থেকে জাতিসংঘকে দূরে রাখার প্রবণতা সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে দিয়ে তিনি বলেন যে, ‘এ ধরনের মনোভাব খুব সহজেই ব্যাপক বিপর্যয় ঘটাতে পারে।’

 

 

 

 

 

সর্বাধিক পঠিত