শিরোনাম
◈ কানাডায় নতুন পিআর পাওয়ার নতুন সুযোগ, তিন বছরে নেওয়া হবে ১১ লাখ ৪০ হাজার অভিবাসী ◈ দুবলার চরে সাগরে গোসল করতে নেমে প্রাণ গেল পর্যটকের, ৩৩ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার ◈ ক্ষতিকর উপাদান থাকায় নিষিদ্ধ গৌরী ক্রিম, দুবাইফেরত যাত্রীর কাছ থেকে ১ হাজার ৩০০ পিস জব্দ ◈ মিথিলার পর ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৬’-এর মুকুট উঠল সামিরা খান মাহির মাথায় ◈ লাইসেন্স ছাড়া অনলাইনে বিক্রি করা যাবে না চাঁদপুরের ইলিশ, আবেদন করতে হবে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ◈ আসামি ছিনিয়ে নেওয়া থেকে পুলিশ হত্যা, বাড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তাঝুঁকি ◈ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার দেখা মিলল বিপন্ন প্রজাতির ‘যশোরের হনুমান’, ক্যাম্পাসে চাঞ্চল্য ◈ ৭ নভেম্বর কোনো দলের একক সম্পত্তি নয়, এটি জাতীয় অর্জন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ এইচএসসি ফল চ্যালেঞ্জে ১০ লাখের বেশি আবেদন, শিক্ষা বোর্ডের আয় ১৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ◈ শ্রীলঙ্কাকে ৪৫ রা‌নে হারিয়ে যুব এশিয়া কা‌পের সেমিফাইনা‌লের পথে বাংলাদেশ 

প্রকাশিত : ০১ আগস্ট, ২০২০, ০৭:১৮ সকাল
আপডেট : ০১ আগস্ট, ২০২০, ০৭:১৮ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আর ময়দার গোলা খেতে হবে না সাফিয়া-মারিয়াকে, পাশে দাঁড়ালেন ডিসি

বিপ্লব বিশ্বাস : [২] ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। কখোন পানিতে চালের গুঁড়া, আবার কখনো পানির সঙ্গে আটা কিংবা ময়দা মিশিয়ে তা শিশুকে খাওয়াচ্ছে মা। দুধ কেনার টাকা না থাকায় গত চারমাস ধরে আট মাসের দুই জমজ শিশুকে এ ভাবেই বাঁচিয়ে রাখেন মা।

[৩] বতর্মানে শিশু সাফিয়া ও মারিয়া সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি। জন্মের পর তিনমাস পর্যন্ত তারা কেনা দুধ খেতে পারলেও এখন তাও পাচ্ছেন না।

[৪] জানা যায়,সাফিয়া ও মারিয়ার বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউপির ফয়জুল্লাহপুর গ্রামে। বাবা আনিসুর রহমান ভ্যানচালক। মা স্বপ্না বেগম ও বাড়ি বাড়ি গৃহকর্মীর কাজ করেন। মানুষের কাছে হাত পেতে সহযোগিতা নিয়ে সাফিয়া ও মারিয়ার মুখে খাবার তুলে দেন এই আবাগা মা। বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩ নম্বর বেডে রয়েছে ওই যজম শিশুরা।

[৫] মা স্বপ্না বেগম জানান, ওদের বয়স এখন আট মাস। আমার বুকের দুধ শুকিয়ে গেছে। জন্মের তিন মাস পর্যন্ত দুধ কিনে খাইয়েছি তাদের। তারপর থেকে টাকা নেই। তাই চালের গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে খাইয়েছি কয়েক মাস। এখন ময়দা ও আটা পানিতে গুলিয়ে খেতে দেই তাদের। এভাবে গত ছয় মাস ধরে খাওয়াচ্ছি।
তিনি বলেন, তিনদিন আগে জ্বরে তাদের মুখ, চোখ ও শরীর ফুলে যায়। এ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতাল থেকে ওষুধপত্র দিচ্ছে। চিকিৎসক বলেছেন, ঠিকমতো ওষুধ খেলে সুস্থ হয়ে যাবে।

[৬] হাসপাতালের একই ওয়ার্ডের ১৬ নম্বর বেডে অসুস্থ নাতনিকে ভর্তি করে রেখেছেন মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, গত তিনদিন ধরে যা দেখেছি তাতে মনে হলো এই দুই শিশুকে আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাই বেঁচে আছে। যা খাওয়ানো হয় সেটি কোনো শিশুর খাওয়ার কথা না। কোনো শিশু এসব খায় কি-না আমার জানা নেই। ময়দা গুলিয়ে, আটা গুলিয়ে তা খাইয়ে দিচ্ছে মা। কিভাবে শিশু দুটি বেঁচে আছে একমাত্র আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

[৭] যমজ দুই শিশুর বাবা আনিসুর রহমান বলেন, আমি গরিব মানুষ। ভ্যান চালাই। দুর্ঘটনায় পড়ে গত ৪০ দিন ধরে ভ্যান চালাতে পারিনি। দেড় মাস আগে আমাদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার ২০০ গ্রাম দুধ দিয়েছিলেন। সেই দুধ শিশুদের খাইয়েছি। অভাবের কারণে তাদের দুধ কিনে দিতে পারি না। ভ্যানটিও এখন অকেজো হয়ে গেছে। বাচ্চা দুটি হাসপাতালে ভর্তি। আমি অসুস্থ হয়ে বাড়িতে আছি। তাদের মা হাসপাতালে। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।

[৬] শিশু সাফিয়া ও মারিয়ার চিকিৎসা করছেন সদর হাসপাতালের চিকিৎসক অসীম কুমার বলেন, শিশু দুটো জন্মের পর থেকে ভালো দুধ বা পুষ্টিকর কোনো খাবার না পাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রোটিন কমে গেছে তাদের। আমিষজাতীয় কোনো খাবার দুই শিশু পায়নি। শুনেছি ময়দা গুলিয়ে পানি খাওয়ায়। আবার জেনেছি কখনও কখনও কলাপাতা চিবিয়ে তাদের খাইয়েছে মা। এভাবে অপুষ্টিজনিত কারণে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে শিশু দুটির।

[৭] তিনি আরো বলেন, এখন প্রধান কাজ হচ্ছে শিশু দুটিকে ভালো খাবার দেয়া। ভালো খাবার খেয়ে যদি শরীরে প্রো টিন ফিরে পায় তবে সুস্থ হয়ে যাবে। পরিবার অভাবি জেনে আমি ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করেছি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফ্রিতে করে দিয়েছি।

  • সর্বশেষ