প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায় অস্বীকার : তাহলে দায়টা আসলে কার?

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] বাংলাদেশের করোনা সংক্রমণের পর থেকেই সমালোচনায় বিদ্ধ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন পর্যন্ত একজন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবেনা যারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে সমর্থন করছেন বা তাঁরা ভালো কাজ করছেন বলে মনে করেন। এদিকে, রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির দায় কার তা নিয়ে বিতর্ক শেষ হচ্ছে না৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী দায় অস্বীকার করছেন৷ স্বাস্থ্য মহাপরিচালকও দায় চাপিয়েছেন সাবেক স্বাস্থ্য সচিবের ওপর৷ কিন্তু চুক্তি করেছে অধিদপ্তর৷ দায়টা আসলে কার?

[৩] স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ মন্ত্রণালয় থেকে তাকে করা শোকজের জবাবে বলেছেন, সাবেক স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলামের মৌখিক নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করেছেন৷ আসাদুল ইসলাম এখন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন৷ ৪ জুন নতুন স্বাস্থ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন আব্দুল মান্নান৷

[৪] রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তি হয় ২১ মার্চ৷ মন্ত্রণালয়ে হওয়া ওই চুক্তি অনুষ্ঠানের যে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে দেখা যায়, চুক্তি সইয়ের সময় মাঝে বসেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক৷ একপাশে সদ্য গ্রেপ্তার হওয়া রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ এবং আরেক পাশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ৷ পেছনে সাবেক স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলাম ছাড়াও আরো দুইজন সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তারা ছিলেন৷ চুক্তিতে সই করেন মহাপরিচাল ও মো. সাহেদ৷

[৫]স্বাস্থ্য মহাপরিচালক শো-কজের জবাবে জানিয়েছেন, ‘‘সাবেক স্বাস্থ্য সচিব (ঘটনার সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব) আসাদুল ইসলামের মৌখিক নির্দেশে চুক্তি করেছি৷’’ বুধবার দুপুর ১২টার পর তিনি এই জবাব বর্তমান স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নানের কাছে জমা দেন৷ শো-কজে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন৷ কারণ, এর আগে তিনি এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে তিনি চুক্তি করেছেন৷’’

[৬]এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘‘অজস্র চুক্তি হয়৷ মন্ত্রীরা এসব পড়েন না৷ এটা এমন কোনো কাজ না৷ আর মন্ত্রীরা এসব চুক্তি পড়তেও যান না৷ চুক্তি সই তো অধিদপ্তর করেছে৷ তাদেরই সবকিছু জানার কথা৷’’ এ বিষয়ে জানতে সাবেক স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলামের কাছে কয়েকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি৷

[৭]আইনে কী আছে?
মন্ত্রণালয়ের কাজের জন্য সরকারের রুলস অব বিজনেস আছে৷ সেই অনুযায়ী মন্ত্রী ও সচিবকে লিখিত অনুমোদন বা লিখিতভাবে অবহিত না করে এ ধরনের চুক্তি করার কোনো সুযোগ নেই৷ আর মৌখিক নির্দেশ বলতে ওই রুলসে কোনো কথা নেই৷ সবই হবে লিখিত৷ রুলস অনুযায়ী, মন্ত্রী কোনো মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী৷ তিনিই সব কাজের তত্বাবধান করবেন এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবেন৷ যদি কোনো বিষয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর নির্দেশনা থাকে তা-ও তিনি সচিবের মাধ্যমে পাঠাবেন৷ মন্ত্রণালয়ের অধীন কোনো দপ্তর বা অধিদপ্তরকে যদি লিখিত কোনো ক্ষমতা দেয়া না থাকে, তাহলে তাদেরও একই পদ্ধতিতে মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুমোদন নিতে হবে৷ আর ক্ষমতা দেয়া থাকলেও মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে৷

[৮] সচিব হলেন মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় ব্যক্তি৷ তাকে না জানিয়ে মন্ত্রীরও কিছু করার আইনগত সুযোগ নেই৷ তবে মন্ত্রী সরাসরি সচিবের পরের কোনো কর্মকর্তাকে কোনো কাজ করার আদেশ দিতে পারেন, কিন্তু এ বিষয়ে সচিবকে অবহিত করতে হবে৷

[]৯সাবেক জনপ্রশাসন সচিব ড. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘‘মৌখিক নির্দেশ বলতে আমাদের প্রশাসনে কোনো নির্দেশ নেই৷ যদি কেউ মৌখিক নির্দেশের কথা বলেন, তাহলে তা তাকে প্রমাণ করতে হবে৷ কিভাবে প্রমাণ করবেন সেটা তার ব্যাপার৷ তবে আমাদের এখানে নিয়ম ভেঙে, মৌখিক নির্দেশেও কাজ হয়৷ কিন্তু যিনি মৌখিক নির্দেশে কাজ করেন, দায়দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত তার ওপরই পড়ে৷ কোনো ঝামেলা হলে যিনি মৌখিক নির্দেশ দেন, তিনি অস্বীকার করেন৷ রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে যে চুক্তির কথা বলা হচ্ছে, এটা মৌখিক নির্দেশে করে থাকলে মহাপরিচালক বোকামি করেছেন৷’’

[১০]এই ধরনের ঘটনায় কোনো সচিব বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ব্যাপারে তদন্ত শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় করতে পারে৷ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শুধু অভিযোগ করতে পারেন৷ তিনি কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন না৷ তদন্তের পর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিষয়টিও জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার৷ তবে যেসব সিদ্ধান্ত নিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন লাগে, সেগুলো সুনির্দিষ্ট করে দেয়া আছে৷

[১১]আর সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা এবং সাবেক অডিটর অ্যান্ড কম্পট্রোলার জেনারেল হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সরাসরি মন্ত্রণালয়ের অধীন৷ তাই মন্ত্রী এবং সচিবকে না জানিয়ে কোনো কিছু করার সুযোগ নেই৷ সিদ্ধান্ত তাদের সম্মতিতেই হবে৷ রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে যে চুক্তি নিয়ে কথা হচ্ছে, তাতে যদি এই নিয়ম না মানা হয়ে থাকে, তাহলে তা আইনের লঙ্ঘন হয়েছে৷ মৌখিক নির্দেশে কোনো কিছু করা যায় না৷’’

[১২]এখন মন্ত্রী, সচিব এবং মহাপরিচালক নিজেদের দায় এড়াতে পরস্পরকে দোষারোপ করছেন৷ এখানে আসলে সবার দায় আছে বলে মনে করেন তিনি৷ ‘‘কারা তদন্ত করছে জানিনা৷ তবে সুষ্ঠু তদন্ত হলে কার কতটুকু দায় সব বেরিয়ে আসবে৷ কিন্তু মন্ত্রণালয় কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না,’’ বললেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই সাবেক উপদেষ্টা৷
সূত্র- ডিডাব্লিও(ডয়েচে ভেলে) ও ইনসাইডার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত