প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এন্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে পরিচালিত সমীক্ষা সম্মন্ধে দুটি কথা

ডা. আরমান রহমান : গতসপ্তাহে বিখ্যাত সাইন্স জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত এক খবরে স্পেনের ৬০ হাজার মানুষের উপর সেরোলজিকাল টেস্টের রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। খবরটি মনোযোগ সহ বিস্তারিত না পড়লে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকতে পারে। সমীক্ষার ফর্ম পূরণের সময় অংশগ্রহনকারীদের জিজ্ঞেস করা হয় তাদের কী কী লক্ষণ ছিল? লক্ষণ সমূহের তালিকা থেকে নির্বাচন করা হয় -জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যাথা, আনসোমিয়া (ঘ্রান না পাওয়া) ইত্যাদি। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের রক্তে আইজি জি হয়েছে কি না এটা শনাক্ত করতে দুই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। একটি আইজিজি এবং আইজি এম শনাক্তকারি এন্টিবডি কিট (চীনে তৈরী) এবং অন্যটি কেমিলুমিনিসেন্স টেস্ট যেটি ল্যাবরেটরিতে করতে হয়। সমীক্ষার ডেটা কী বলছে

কিন্তু এন্টিবডি কীটের আই জি এম ডেটা তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য মনে হয়নি, তাই এটি বাদ দেওয়া হয়। দীর্ঘ মেয়াদি ইমিউনিটির জন্যে যেহেতু শুধু ইমিউনোগ্লোবিউলিন জি প্রয়োজন তাই তারা শুধু আই জি জি’ র ডেটা সংগ্রহ করেছে। এই দুই পদ্ধতি ব্যবহার করে তারা ৫০ হাজার মানুষের কাছে থেকে উপাত্ত সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।

সমীক্ষার ডেটা বলছে
এক. যে সমস্ত মানুষ দুই সপ্তাহ আগে পিসিআর টেস্ট পজেটিভ পেয়েছে তাদের গড়ে দুটি টেস্টেই ৮৭.৬ শতাংশ মানুষের এন্টিবডি পজেটিভ এসেছে। ৯১.৮ শতাংশ মানুষের একটি টেস্ট পজিটিভ এসেছে।

দুই. ৭২৭৩ জন মানুষ যাদের করোনার লক্ষণ যেমন ঘ্রান চলে যাওয়া অথবা অন্য তিনটি লক্ষণ যেমন জ্বর বা গলা ব্যাথা অথবা মাথা ব্যাথা ছিল তাদের মধ্যে মাত্র ১৫-১৯ শতাংশ মানুষের শরীরে এন্টিবডি পজেটিভ টেস্ট এসেছে। তিন. এন্টিবডি টেস্ট পজেটিভ এসেছে এরকম এক তৃতীয়াংশ মানুষের করোনা জনিত কোন লক্ষণ যখন ছিল না (এসিম্পটোমেটিক) চতুর্থ. শতকরা ২০ ভাগ করোনার লক্ষণযুক্ত মানুষ যাদের রক্তে এন্টিবডি পাওয়া গেছে তারা বলেছে তাদের আগে পিসিআর টেস্ট করা ছিল এবং সেটা পজেটিভ ছিল (এর অর্থ শতকরা ৮০ ভাগ লক্ষণযুক্ত মানুষ পিসিআর টেস্ট করে নি)।

সাইন্স জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত খবর বলছে- স্পেইনে শতকরা ৫ ভাগ মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাসের এন্টিবডি পাওয়া গেছে। যেটা চট করে শুনলে মনে হতে পারে যে করোনা আক্রান্ত ৯৫ ভাগ মানুষের শরীরে এন্টিবডি তৈরী হয় নি। বিষয়টি আসলে তা নয়। এই শতকরা পাঁচ ভাগে সমস্ত বয়সের মানুষ রয়েছে। আপনারা জানেন বাচ্চাদের মধ্যে করোনা আক্রান্তের হার খুবই কম। এর পরে যাদের লক্ষণ আছে তাদেরকে করোনা হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়েছে (পিসিআর টেস্ট করা হয়নি )-এই সমস্ত কারণে এই রিপোর্টটি ভুল ব্যাখ্যা করার অবকাশ থাকে।

সমীক্ষায় স্পষ্ট হয়েছে লক্ষণহীন মানুষের শরীরে এন্টিবডির উপস্থিতি। এদেরকে যেহেতু পিসিআর টেস্ট করানোর কোন প্রশ্নই উঠে না, তাই এন্টিবডি টেস্ট একমাত্র উপায় যা থেকে জানা যাবে এদের করোনা হয়েছিল।

সমীক্ষায় আরও প্রমাণিত হয়েছে একটি দেশে সেরোলজিকাল টেস্টের মাধ্যমে করোনা আক্রান্তের চিত্র তুলে ধরতে পারা যায়। তাহলে সেই দেশের সরকার সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে পারবে।

লেখক, ডা. আরমান রহমান, এমবিবিএস, এমপিএইচ, পিএইচডি, ডাবলিন, আয়ারল্যান্ড থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত