প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এন্ড্রু কিশোর আমার বিছানার কাছে ঘোরাঘুরি করতেন খাবার খাওয়ানোর জন্য, বললেন আসিফ আকবর

ডেস্ক রিপোর্ট : ও-প্রিয়া খ্যাত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর তার ৩৩ লাখেরও বেশী লাইকার সমৃদ্ধ ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রয়াত এন্ড্রু কিশোরকে নিয়ে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। আমাদেরসময়ডটকমের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি নিচে দেওয়া হলো :

“দুজন মানুষকেই খুব জ্বালাতাম। একজন আইয়ুব বাচ্চু চলে গেলেন বজ্রাঘাত দিয়ে, আরেকজন প্রিয় এ্যান্ড্রু’দা। আমরা তিনজন একসাথে শেষ শো করেছিলাম নিউইয়র্কে ২০০৯ সালে। আমাদের আমেরিকা সফর একসাথে হয়েছে বেশ কয়েকবার। ঢাকায় যার যার ব্যস্ততায় থাকলেও দেশের বাইরের শো’তে আমি ছিলাম কাজের ছেলে। তবে ফিল্মের গানের কারনে ষ্টুডিওতে দেখা দাদার সাথে আর ফ্যান্টাসী কিংডম বা প্রথম আলোর প্রোগ্রামগুলো বাচ্চু ভাইয়ের সাথে করা হতো।ছোট হিসেবে দুজনই আমাকে যথেষ্ট আদর করতেন। বিদেশ সফরে গেলে হোটেল বয়ের মত এই দুজনের নির্দেশ পালন করতাম। বিদেশ সফরের নিয়ম ছিল যে জুনিয়র তাকেই ফাইফরমাশ খাটতে হবে। এ দুজনের কাছে কখনোই বড় হইনি। ইন্ডাষ্ট্রীর নানান জটিলতায় সবচেয়ে বেশী জ্বালাতাম আমি।দুজনেরই কমন কথা ছিল একটাই, আমাকে সবসময় বলতেন মাথা ঠান্ডা রাখতে।

এ্যান্ড্রু’দা প্রথম প্লে-ব্যাকের পরে পিঠ চাপড়ে উৎসাহ দিয়ে বলেছিলেন লেগে থাক সফলতা আসবেই। আমরা ট্যুরে পাশাপাশি রুমেই থাকতাম, মাঝখানে একটা দরজা থাকতো। দাদা কোথাও গেলে বা আড্ডায় বসলে আমাকে ইনফর্ম করে রাখতেন। তিনি আমার মত দিনে ঘুমাতে পছন্দ করতেন না। দুপুরে বাইরে থেকে এসে আমার বিছানার কাছে ঘোরাঘুরি করতেন খাবার খাওয়ানোর জন্য। আমেরিকায় অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রামগুলোতে আমরা তিনজন সবসময় একসাথে থাকতাম। তিনি প্লে-ব্যাকে বাচ্চু ভাই সেরা ব্যান্ড আমি আধুনিক গানে একসাথে বেশ কয়েকবার এ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। উনারা পেতে পেতে ডালভাত করে ফেলেছিল্ন অ্যাওয়ার্ড, তাই আমি পেলে খুব উচ্ছসিত হতেন। সারারাত আড্ডা হৈচৈ ছিলো নৈমিত্তিক ব্যাপার। শেষবারের মত আড্ডা হয় নিউইয়র্কের হোটেলে আমাদের রুমে। আমেরিকার বিখ্যাত প্রমোটর আলমগীর খান আলম ভাই আমাদের তিনজনকে একসাথে করে দিয়ে পালিয়ে যেতেন।

গতকাল সন্ধ্যায় দাদার চলে যাবার খবর পেয়ে প্রথম ফোন দেই কুমার বিশ্বজিত’দাকে। তিনি কথাই বলতে পারছিলেন না। তারপর শ্রদ্ধেয় হাদী ভাইকে ফোন দিয়ে বললাম দাদাকে সবার পক্ষ থেকে বিদায় জানাতে রাজশাহী যেতে চাই। তিনি নিষেধ করলেন করোনার কারনে। হয়েতো পনেরা তারিখ যাবো শেষ দেখা দেখতে। ছোটবেলা থেকে যাদের নাম শুনে গান শুনে বড় হয়েছি তাদের সাথে গ্রীনরুম শেয়ার করাটা আমার মত গলির গায়কের জন্য স্বপ্নের মত। সেই স্বপ্নগুলো মিলিয়ে যাচ্ছে স্মৃতির অতলে। বাংলাদেশের অবিসংবাদিত মুকুটহীন প্লে-ব্যাক সম্রাট চলে গেলেন নীরবে। দাদাকে গাওয়া গানের সংখ্যা জিজ্ঞেস করলেই বলতেন হাজার খানেক হবে, তিনি রেকর্ডিং শেষে আর গান বিষয়ক আলোচনা করতে চাইতেন না। একটাই গান গাওয়ার সুযোগ হয়েছে একসঙ্গে আমার, ভাই বন্ধু ইমন সাহার সুর আর কবির বকুল ভাইয়ের কথায় শুভবিবাহ সিনেমায়। আজম খান এ্যান্ড্রু কিশোর আউয়ুব বাচ্চু ভাইয়ের সঙ্গে আমি আসিফ ছিলাম এ ( A ) আদ্যাক্ষরের জুনিয়র টেক্কা। একা হয়ে গেলাম, সেই সঙ্গে নিজেকে সিনিয়র ভাবার সময় এসেছে। কথা দিলাম বাচ্চু ভাই, কথা দিলাম দাদা- আমি এখন থেকে মাথা ঠান্ডা রেখেই চলবো। আপনার বিদায় তো শুধু বিদায় নয়- বাংলাদেশের একটা বিশাল অধ্যায়ের ইতি। সালাম কমরেড- আপনিই বাংলাদেশ…ভালবাসা অবিরাম…”

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত