প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শাহাব উদ্দীন মাহমুদ সালমী : সমস্যায় জর্জরিত সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষকরা

শাহাব উদ্দীন মাহমুদ সালমী : বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মাধ্যমিক খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্তর। এই স্তরে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো শিক্ষাবান্ধব সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরু দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এস.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করলেই তা প্রতীয়মান হয়। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমুহে “‌‌‌‌‍‍‌‌‌সহকারী শিক্ষক” পদে বি.এড/সমমানের ডিগ্রীসহ স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারীগণ নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ০২/০৫/১৯৭৫ খ্রি. জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পদটি ২য় শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদায় উন্নীত করেছিলেন। কিন্ত জাতির জনকের শাহাদাত বরণের পর অজানা কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৫/০৫/২০১২ খ্রি. পদটিকে বেতনস্কেল অপরিবর্তিত রেখে ২য় শ্রেণির গেজেটেড পদ মর্যাদায় উন্নীত করেন। মাধ্যমিক I উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনস্থ মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮২% (১৯,৮৩৯ টি) মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিপুল সংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তদারকিসহ অন্যান্য কার্যক্রম চালাতে গিয়ে বর্তমানে “মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর” হিমসিম খাচেছ। সরকারি মাধ্যমিকের বিরজমান সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই বললেই চলে। এহেন পরিস্থিতির কারণে শিক্ষকদের মাঝে নানামুখী হতাশা এবং অসন্তোষ দানা বাঁধছে। সংশ্লিষ্ট মহলের অবহেলা ও সমন্বয়হীনতার কারণে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। মাধ্যকের আলাদা আধিদপ্তর হলে এই সমস্যার উদ্ভব হতোনা বলেই শিক্ষকেরা মনে করেন।

‌‌‌      জাতীয় বেতনস্কেল ২০০৯’ অনুযায়ী সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের ন্যায্য প্রাপ্য টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেড ৩ বার ডিপিসি মিটিংয়ের পরেও অনুমোদন হয়নি, যা তাদের অনেকেরই ২০১৩ খ্রিস্টাব্দেই প্রাপ্য। চাকরীবিধির শর্ত অনুযায়ী ১২ বছরে ১টি সিলেকশন গ্রেড ও ২টি টাইমস্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও কোনো টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেড পাননি।  ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় খুবই হতাশ। ১৯/০৬/২০১৭ খ্রি. অর্থমন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশ বাস্তবায়ন না করায় শিক্ষকরা সুপ্রিম কোটের্র দ্বারস্ত হয়। মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট ০২/০৫/২০১৯ খ্রি. ৩ মাসের মধ্যে রায় বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন। ইতোপূর্বে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ যেখানেই পাওয়ার সম্ভাবনা দেখেছেন সেখানেই ছুটে গিয়েছেন। সেটা হোক কর্তা ব্যক্তিদের দারস্থ হওয়া কিংবা আদালতের বারান্দায় ঘুরাঘুরি করা অথবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা, সাংবাদিক সম্মেলন করা অথবা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর সকল জেলায় একযোগে স্মারকলিপি প্রদান করা। বিভিন্ন সময়ে নানান জায়গায় নিয়মিত কাকুতি মিনতি করে ধর্ণা দেওয়া তো একপ্রকার চলমান প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু বিস্ময়কভাবে ফলাফল শূন্য।

সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের ‘আশায় আছি, আশায় বাঁচি’ অবস্থা। ৩০ বছর ধরে একই পদে চাকরি করেও পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যেতে হয়। পদোন্নতির আশায় আশায় অবসরে বা কবরে/শ্মশানে যাওয়াদের লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে ০৭/০২/২০১৮ খ্রি. সরকারি মাধ্যমিকে কর্মরত মোট পদের ৫০% পদ সিনিয়র শিক্ষক(১ম শ্রেণির নন ক্যাডার)পদ সৃষ্টি হয়। কিন্ত ঘোষণার বাস্তবায়ন হচ্ছে হবে, কবে হবে উপরওয়ালা জানেন। সরকারের অন্যান্য বিভাগে পদ না থাকলেও পদোন্নতি চলছে অথচ সরকারি মাধ্যমিকে নবসৃষ্ঠ সিনিয়র শিক্ষক পদ ৫২৫২টি, সহকারী প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার, সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক/পরিদর্শিকা পদ ৪২২টি, প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকা, জেলা শিক্ষা অফিসার পদ ২৪৮টি, সহকারী পরিচালক, বিদ্যালয় পরিদর্শক/পরিদর্শিকা পদ ১৯টি, উপ-পরিচালক পদ ১০টি খালি রয়েছে বছরের পর বছর। বিগত ১৭/১০/২০১৫ খ্রি. মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের প্রমোশন ও পদবিন্যাস আটকে আছে বছরের পর বছর ধরে। সহকারী শিক্ষকদের প্রবেশপদ (এন্ট্রিপদ) ৯ম গ্রেড ধরে পদসোপান বাস্তবায়ন করা গেলে মাধ্যমিকে প্রমোশন খরার কিছুটা হলেও দূর হতো।

বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে বেসরকারি কলেজ ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করার অবিস্মরণীয় সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে দেশে মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।প্রতিবছর প্রকাশিত এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষার ফলাফলে দেশব্যাপী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর ঈর্ষণীয় সাফল্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণ করেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, সামরিক শাসকের অধ্যদেশভূক্ত ২০/০৪/১৯৮৩ খ্রি. জারিকৃত অকার্যকর আত্তীকরণবিধি অনুযায়ী আত্তীকরণ প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বর্তমানে কর্মরত সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থ সংরক্ষিত হচ্ছে না। বিশেষত, চাকরীর সিনিয়রিটি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তালগোল পাকানো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যেমন-৭ম গ্রেডের বেসরকারি প্রধান শিক্ষকরা আত্তীকরণ হচ্ছেন ৬ষ্ঠ গ্রেডে। যেখানে ১৫ বছরে সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা কোনো টাইমস্কেলই পাচ্ছেন না, সেখানে মাত্র ৮ বছরে সহকারী প্রধান শিক্ষক বনে যাওয়া বেসরকারি শিক্ষকরা সরকারিকরণের পরও সহকারী প্রধান শিক্ষকই থেকে যাচ্ছেন। ৫০% সিনিয়রিটি কাউন্টজনিত কারণে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিকে কর্মরত হাজার হাজার সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সিনিয়র হয়ে যাচ্ছেন।আর একই পদে ২৭/২৮ বছর চাকরির পর প্রমোশনের আশায় তীর্থের কাকের মত প্রতীক্ষায় থাকা অসহায় সিনিয়র শিক্ষকদের দূর্দশার উপাখ্যান নাইবা লিখলাম। এ হতভাগ্য শিক্ষকদের অনেকেই বেসরকরি স্কুলে প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের চাকরি ছেড়ে সরকারি স্কুলে যোগদান করেছিলেন।

অথচ, ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! সেই বেসরকারি প্রধানশিক্ষক./সহকারী প্রধান শিক্ষক./ সহকারী শিক্ষকরা সরকারিকরণের বাতাবরণে সরাসরি কর্মরতদের সিনিয়র হয়ে যাচ্ছেন। সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষকদের এই যে হৃদয়ের রক্তক্ষরণ তা যেন দেখার কেউ নেই। কবির ভাষায় বলতে হয়, “কি যাতনা সে বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে?” এমতাবস্থায়, বর্তমানে কর্মরত সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা চরমভাবে অস্থিত্বহীনতায় ভুগছেন। সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা জাতীয়করণকে সর্বদা স্বাগত জানায়। আত্তীকরণেও তাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের সম্মান অক্ষুন্ন রেখেই জাতীয়করণ করার দাবী সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের। “আগে বিধি পরে আত্তীকরণ”- এটাই সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষকদের মৌলিক দাবী। বিশেষত সিনিয়রিটির ব্যাপারে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ জনের পরেই তাদের (আত্তীকৃতদের) সিনিয়রিটি কাউন্ট করতে হবে। অথচ একই অধিদফতর ভুক্ত হয়েও (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর) সরকারি কলেজ শিক্ষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করেই বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের জন্য নতুন আত্তীকরণ বিধি প্রণীত হয়ে গেছে। আর সরকারি মাধ্যমিকে নতুন আত্তীকরণ বিধি আলোর মুখ দেখছেনা। যেন সরকারি কলেজ শিক্ষকরা অধিদফতরের আপন সন্তান আর সরকারি স্কুল শিক্ষকরা বৈমাত্রেয় সন্তান!

উল্লেখ্য, সিভিল আপিল নং ৪৮/২০১১ এ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সংবিধান (সপ্তম সংশোধন)আইন ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১ নং আইন)এর ধারা ৩ এবং বাংলাদেশ সংবিধানের ৪র্থ তফসিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষিত হIয়ায় ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত জারিকৃত সামরিক প্রশাসক কর্তৃক অধ্যাদেশ, নিয়োগবিধিসমূহ অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। রায় অনুযায়ী সামরিক শাসকের অধ্যদেশভূক্ত ২০/০৪/১৯৮৩ খ্রি. জারিকৃত অকার্যকর আত্তীকরণবিধি অনুযায়ী আত্তীকরণ কতটুকু যৌক্তিক?

বিসিএস রিক্রুটমেন্ট রুলস ১৯৮১ (School & Inspection Branch) সংশোধন আটকে আছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রমোশন ধীরগতির এটিও অন্যতম একটি কারণ। সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা যেন আটকে থাকা জাটকা। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহে ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষক প্যাটার্ন বিদ্যমান। ফলে কম প্যাটার্নভূক্ত মফস্বলের বিদ্যালয় সমুহে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। তথ্য I যোগাযোগ প্রযুক্তি, কর্মমুখী শিক্ষা এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় শিক্ষক, লাইব্রেরীয়ান, প্রদর্শকের কোন পদ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহে নেই। যা যুগের চাহিদা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা অতীব জরুরী। শিক্ষাণীতি ২০১০ অনুযায়ী (৯ম শ্রেনী – ১২শ শ্রেণী) নিয়েই মাধ্যমিক স্তর হওয়ার কথা। কিন্ত প্রাথমিক স্তর সংযুক্ত থাকায় মাধ্যমিক স্তরের কার্যক্রম চালাতেই যেখানে হিমসিম খাচ্ছিল, সেই জায়গায় অতিরিক্ত কোন পদ সৃষ্টি না করেই ২০০৮ খ্রি. ১০টি সরকারি স্কুলে ১১শ I ১২শ শ্রেণী চালু করা হয়। উক্ত স্কুলগুলোতে পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, গণিত, তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক I ল্যব এসিসটেন্ট পদ সৃষ্টি করা জরুরী।

শিক্ষকরা মনে করেন শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী মাধ্যমিক শিক্ষার জন্য “স্বতন্ত্র অধিদফতর” না থাকায় এই সমস্যাগুলোর মূল কারন। তারা  ন্যায্য অভিভাকত্বহীনতায় ভুগছেন। তাদের আক্ষেপ, আলাদা মাদ্রাসা ও কারিগরি অধিদফতর ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্ত শিক্ষানীতি প্রণয়নের দশ বছর হতে চললেও “স্বতন্ত্র মাধ্যমিক অধিদফতর” বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। তাই মাধ্যমিক শিক্ষা ক্যাডার পরিচালিত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক তারা কেবল শাসিত নয় শোষিতও হচ্ছেন। যেমন মাধ্যমিকের জন্য নেওয়া প্রকল্পগুলোতে মাধ্যমিক শিক্ষকদের কোনো অংশগ্রহণ নেই, কেবল প্রান্তিক প্রশিক্ষণ নেওয়া ছাড়া। শিক্ষা বোর্ডগুলোতে মাধ্যমিক শিক্ষকদের পরীক্ষক হওয়া ছাড়া আর কোনো কর্মকাণ্ডে ভূমিকা নেই। মাধ্যমিক শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী হওয়ার পরও পেশাগত ডিগ্রী বিএড ও এমএড ডিগ্রীও অর্জন করে থাকেন। কিন্তু শিক্ষা প্রশাসন তাদের কতটুকু মূল্যায়ন করেন তা প্রশ্নবোধক। যথাযথ যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরে মাধ্যমিকের জন্য মাত্র ৩টি পদ সংরক্ষিত, তাও দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত। মাধ্যমিক শিক্ষকদের মধ্যে হতে আসা আঞ্চলিক উপপরিচালকরা ২০/২২ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত। এমনকি সেসিপ প্রকল্প পরিচালকের বাতাবরণে আঞ্চলিক পরিচালকের পদও এখন কলেজ শিক্ষকদের নিয়ন্ত্রণে। এভাবেই নানামুখী বঞ্চনার কারনে সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা চরম হতাশায় নিমজ্জিত। নিয়মতান্ত্রিক ন্যায্য পাওনা ও পদোন্নতি পেয়ে পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জনে মনোনিবেশে বিশ্বাসী সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষকরা যেন, “আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী”। আশা কুহেলিকা বাস্তবতা হয়ে আর ধরা দেয় না। সরকারকে বিব্রত না করতে চাওয়া আলোর দিশারী সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকবৃন্দ তাদের দাবী-দাওয়া আদায়ের নামে একদিনও তাদের পেশাগত কার্যক্রম বন্ধ রাখেননি। বরং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের চোয়ালবদ্ধ প্রতিজ্ঞা নিয়ে সরকারের সকল কার্যক্রমে নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা দিয়ে আসছেন। কিন্তু অন্তরাত্মা গুমরে কেঁদে মরে, দেখার কি কেউ নেই! “হৃদয় ভরিয়া কথার কাকলি কেহ নাই শুনিবার। দু’চোখ ভরিয়া আছে আখিজল কেউ নাই মুছিবার”। শিক্ষকরা বরাবরের মতই আশাবাদের চাষাবাদ করছেন। Better late than never. আলোচিত বিষয়গুলো যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে সুবিবেচনা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সহ সরকারি মাধ্যমিক সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকবৃন্দ।

লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি(বাসমাশিস)

সর্বাধিক পঠিত