প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লকডাউনে পূর্ব রাজাবাজার : গভীর রাতে কাদের দরকার জর্দা, পিৎজা, গ্রিল চিকেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঘড়িতে তখন রাত ৩টা। হঠাৎ ফোন করে একজন বললেন- ভাই জর্দা নেই, পান খেতে পারছি না। আবার আরেকজন ফোন করে বলেন, ভাই রাতে কেউ ভাত খাবে না, গার্লিক পিৎজা লাগবে। রাত ৩টায় একজন ফোন করে আবদার জানান রং ফর্সাকারী ক্রিম এনে দিতে, কারও বা ওই রাতেই ইচ্ছে করছে পিঠা খেতে। ভোর ৬টায় আরেকজনের প্রয়োজন শ্যাম্পু। দৈনিক আমাদের সময়

লকডাউনে থাকা রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের কিছু বাসিন্দার রাতের এমন অদ্ভুত সব আবাদারে এখন ত্যক্ত-বিরক্ত সেখানে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবীরা। তবু এই বন্দি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বাসিন্দাদের এমন অদ্ভুত আবদার হাসিমুখেই মেটাচ্ছেন তারা।

স্বেচ্ছাসেবকরা বলছেন, জরুরি প্রয়োজনেই ফোন করছেন অধিকাংশ মানুষ। তবে কেউ কেউ রাত ১২টার পর ফোন করে অদ্ভুত এবং অপ্রয়োজনীয় সব আবদার করছেন। এতে জরুরি প্রয়োজনে যারা ফোন করছেন, তাদের সেবা পেতে দেরি হচ্ছে।

পূর্ব রাজাবাজার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সমন্বয়ক মাসুদ হোসেন সুমন বলেন, আমরা বিশ^াস করি এটা একটা যুদ্ধক্ষেত্র। যুদ্ধক্ষেত্রে আসার পর রাত ১২টার পর মানুষের যে পিঠা খেতে ইচ্ছে করেÑ এটা জানা ছিল না। গভীর রাতে বার্গার বা মুরগির গ্রিল খেতে ইচ্ছে করে তাদের। ব্রনের ক্রিমেরও দরকার হয় রাত ১টার সময়। এমনকি সেই ক্রিমের দামও তিনি জানেন না। অর্থাৎ আগে তিনি এটি ব্যবহার না করলেও এখন রাত ১২টার পর তাকে সেটি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ফোনগুলো আসে গভীর রাতে। আমরা তাদের না করতে পারি না। তবে এতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। তাদের এ ধরনের আবদারের কারণে অনেকের খুবই প্রয়োজনীয় এবং জরুরি সেবা বিলম্বিত হচ্ছে।

করোনা সংক্রমণ রোধে গত ১০ জুন পরীক্ষামূলকভাবে জনবহুল পূর্ব রাজাবাজারকে প্রথম লকডাউন করে প্রশাসন। এই এলাকায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস। লকডাউনে তাদের সবাইকে ঘরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে স্থানীয় প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন শিফটে প্রায় দেড়শ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন পূর্ব রাজাবাজারে। এক বেলায় ৫০ জন করে বিভিন্ন অলিতে-গলিতে চক্কর দেন তারা। চেষ্টা করেন বাসিন্দাদের সব প্রয়োজন মেটানোর। লকডাউন শুরুর পর থেকে এই এলাকার আটটি প্রবেশপথের মধ্যে সাতটি বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আইবিএ হোস্টেলের পাশের গেটটি খোলা। গড়ে প্রায় ৩০০ বাসিন্দা বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে এলাকার বাইরে যান। বাকিদের ঘরেই থাকতে হচ্ছে।

স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান খান ইরান আমাদের সময়কে বলেন, স্বেচ্ছাসেবকদের ফোন করে রাত ৩টার সময় রঙ ফর্সা করার ক্রিম এনে দিতে ফোন করছেন বাসিন্দারা। আবার এমনও মানুষ আছেন, গভীর রাতে তাদের শ্যাম্পু লাগবে, জর্দা লাগবে। কিছু মানুষ আছেন তারা বিরক্ত করতে পছন্দ করেন। কেনো করেন আমি জানি না। আরও কিছু ফোন আসে, এসব প্রয়োজনের কথা বলতে লজ্জা লাগে। সবার উচিত স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতা করা। অপ্রয়োজনে তাদের বিরক্ত না করা। প্রয়োজন হলে অবশ্যই বাসিন্দারা ফোন করবেন, তাদের যে কোনো প্রয়োজন মেটাতে আমরা প্রস্তুত।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত