প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেখ আদনান ফাহাদ : আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম ছিলেন রাজনীতিবিদ যিনি আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলেন

শেখ আদনান ফাহাদ : খালেদা জিয়া মারা গেলে আমি কখনো হাহা রিয়েক্ট দেবো না, এরশাদের মৃত্যুতেও আমি দিইনি। তারেক রহমান যদি ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা না করাতেন আজ হয়তো মা-ছেলে এক সাথে থাকতেন। কুপত্রের জন্য মাকে শেষ বয়সে এমন কষ্ট করতে হচ্ছে। তারেক রহমানকে শিবির পুরা দখলে নিয়ে নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু নিয়েও বাজে কথা বলতে উনার মুখে আটকায় না। ছাত্রদলেও আমার অনেক বন্ধু-বান্ধব আছে। আমাকে তো শিবির মেরেছিল, এক বছর হলের বাইরে ছিলাম। পরে সাংবাদিকতা শুরু করে আবার উঠি হলে। হলে উঠতে ছাত্রদলের শিপন ভাই অনেক হেল্প করেছিলেন। আহসানউদ্দিন খান শিপন ভাই জানতেন আমরা পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগ, এমনকি হলে যখন আবার উঠতে যাই তখন শিবিরের উস্কানিতে ছাত্রদলের একাংশ আমার উপর খুব রাগান্বিত ছিল। তবু তিনি আমাকে হলে উঠতে হেল্প করেছিলেন অনেক।

আজম ভাইকে বলে দিয়েছিলেন, আমাকে যেন কেউ ডিস্টার্ব না করে। আজম ভাই আমাকে বলতেন ‘বেঈমান’। আজম ভাইয়ের মতো স্মার্ট মানুষ আমি জীবনে দেখিনি। সালমান খান বললেও কম বলা হবে। আমি বলতাম, ভাই আপনার বাড়ি গোপালগঞ্জ, আপনি কেন ছাত্রদল করেন? উনি আমাকে বলতেন, ‘তুই তো বেঈমান, তোর সাথে কী কথা বলব’। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসি দেয়ার পরে, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি হওয়ার পরে আমি আল্লাহর কাছে দু হাত তোলে শোকরিয়া আদায় করেছি। অনেকে নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করে বলেছে এই নরাধমদের পরকালে যেন ভয়ংকর কঠিন আজাব হয়। আর আওয়ামী লীগ নেতাদের মৃত্যুতে যারা হা হা রিয়েক্ট দিচ্ছে, এদের বড় অংশই রাজাকার শাবক, এদের রক্ত দূষিত। এদের বিরুদ্ধে আমার লড়াই তো সেই ছাত্রজীবন থেকে। সাংবাদিক সমিতিতেও এরা ছিল। হলে ছিল। ক্যাম্পাসে ছিল। এরা এখন মিশে গেছে, মিশে আছে আমাদেরই আশেপাশে। কেউ হয়তো ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগও হয়ে এখন সফলতা অর্জন করেছে। যে শিবির নেতাকে সাংবাদিক সমিতি থেকে সারা রাত মিটিং করে বের করেছিলাম, তাকে ২০০৯ সালে ঢাকায় সচিবালয়ে বদলি করে এনেছিল আমাদেরই ছাত্রলীগের বড় বড় ভাইয়েরা। আওয়ামী লীগে গত ১০ বছরে জামায়াতের লোকজন প্রবেশ করেনি? জামাত নেতার মেয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের লিডার হয়নি? হয়েছে।

সব দোষ রাজাকার শাবকদের না দিয়ে নিজেদের কিছু সমালোচনাও করুক আওয়ামী লীগ। আত্মসমালোচনা দরকার। খুব দরকার। ১১ বছরে এতো উন্নয়ন হয়েছে যা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। এই প্রজন্ম জানে না, বুঝতে পারছে না কতো উন্নয়ন হয়েছে। এই প্রজন্ম ভাবছে, এই সরকারের দায়িত্ব তাকে ধরেবেধে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ বানিয়ে দেবে। এই প্রজন্ম ভাবছে শেখ হাসিনার আমলে অমুকের এতো ভালো চাকুরি হলো, আমার কেন হলো না? এই প্রজন্ম ভাবছে,অমুকে এতো ভালো বেতন পাচ্ছে, আমি কেন পাচ্ছি না? এই প্রজন্ম ভাবছে যেভাবেই হোক তাঁর একটা সরকারি চাকরি লাগবেই, লাগবে। এই প্রজন্ম ভাবছে, একদিন সবাই তাকে দেখলে স্যালুট দেবে। সবাই তার সাথে সেলফি তুলবে। এর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক মনোবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ কি আওয়ামী লীগ সরকার করেছে? রাজাকারের সন্তান রাজাকার হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। রক্ত এখানে একটা ফ্যাক্ট। বিশ্বাস করেন, এই হাহা রিয়েক্ট দেয়া অসুস্থ মানুষগুলোর মধ্যে সবার কিন্তু রাজাকার ব্যাকগ্রাউন্ড নয়। এরা অসুস্থ। এদেরকে অসুস্থ হতে কি কি সামাজিক উপাদান হেল্প করেছে সেটা কি আওয়ামী লীগ খুঁজে দেখেছে? এটা সরকার দেখবে না। আওয়ামী লীগকে দেখতে হবে। সরকার আর পার্টি এক জিনিস নয়। ছাত্রলীগ করা কত ছেলে এখন বেকার আছে, কতো ছেলে এই করোনাতে বেকার হয়ে গেছে, কত আওয়ামী পরিবার নির্যাতিত হয়েছে নিজেরই দলের লোকজন দ্বারা, এই জরিপ কি আওয়ামী লীগ করেছে? করেনি।

এতো উন্নয়নের পরেও একটা পরশ্রীকাতর সমাজ কেন আরও পরশ্রীকাতর হলো, একটা লোভী সমাজ কেন আরও লোভী হল, আত্মঘাতী বাঙালি কেন আরও আত্মঘাতী হল, অসাম্প্রদায়িক বাঙালি সাম্প্রদায়িক হলো কী না? কেন সাম্প্রদায়িকতা বাড়ছে? বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কি শুধু মুখেই না আওয়ামী লীগের হৃদয়েও আছে? এগুলোর উত্তর খোঁজা দরকার। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার এতো আত্মত্যাগ, এতো শ্রম, মেধাকে কারা বিতর্কিত করেছে, করছে সে খতিয়ান আওয়ামী লীগকেই বের করতে হবে। কারণ রাজনৈতিক দল আর আমলাতন্ত্র ভিন্ন জিনিস। মোহাম্মদ নাসিম, শেখ আবদুল্লাহ ছিলেন রাজনীতিবিদ যারা আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলেন। বাকিরা কি আমলাতন্ত্র দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছেন? খুঁজে দেখেন প্লিজ। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত