প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পাহাড়ি ঢলে জুড়ীতে নদীতে তীব্র ভাঙন, ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার শঙ্কা

স্বপন দেব, মৌলভীবাজার : [২] মৌলভীবাজারের জুড়ী নদীর বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হতে চলেছে জুড়ী উপজেলা জায়ফরনগর ইউনিয়নের বেলাগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ের রাস্তা।

[৩] দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন এ রাস্তায় চলাচলকারী আশপাশের প্রায় ৫ হাজার মানুষ। নদীগর্ভে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে নদী তীরবর্তী কয়েকশত ঘরবাড়ি। জুড়ী নদীর ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন।

[৪] শুক্রবার দুপুরে এলাকায় গেলে নদীভাঙ্গনের শিকার বেলাগাঁও গ্রামের ভুক্তভোগী লোকজন জানান, প্রতিবছর বর্ষাকালে ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তীব্রতা বাড়লে নদী তীরবর্তী রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ অবস্থায় এলাকার লোকজন প্রতিবছর নিজেদের উদ্যোগে নৌকাযোগে মাটি ভরাট করে রাস্তাটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে তুলেন।

[৫] অন্যান্য বছরের মতো এবারও শীতকালে তাদের অর্থায়ন ও পরিশ্রমে মাটি ভরাট করে রাস্তাটি সংস্কার করলেও গত কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নদীতে তীব্র শ্রোত হওয়ায় ৪-৫ দিন থেকে রাস্তার বিভিন্ন স্থান নদীতে ধসে পড়তে থাকে। রাস্তার কোনো কোনো অংশের পুরোটাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। রাস্তাটির আরও অনেকটি স্থান ধসে পড়ার হুমকিতে রয়েছে। এতে জনসাধারণের যাতায়াত ও নদী তীরবর্তী ঘরবাড়ি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

[৬] গ্রামের বাসিন্দা হারিছ আলী, হাবিবুর রহমান, কামাল আহমেদ, জানান, যে রাস্তা দিয়ে কয়েকদিন আগেও গ্রামবাসী নির্বিঘ্নে চলাচল করতেন, সেই রাস্তা আজ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। অতি দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকার প্রায় ৫ হাজার মানুষের চলাচলের পুরো রাস্তাটি ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

[৭] জুড়ীর ইউএনও অসীম চন্দ্র বণিক জানান, স্থানীয় এমপি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের নির্দেশে তিনি ভাঙ্গন এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থায়ীভাবে নদীভাঙ্গন রোধের কোন সুযোগ নেই, তবে সাময়িক ব্যবস্থা নেয়ার সম্ভাব্যতা যাচাই করে এসেছি। দ্রুত এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হবে।

[৮] পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন বলেন, স্থানীয় প্রশাসন এলাকাটি পরিদর্শন করে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নদী ভাঙ্গন বন্ধের স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়, তাই সাময়িক ব্যবস্থা নিতে ইউএনওকে নির্দেশনা দিয়েছি। যাতে নদী তীরবর্তী রাস্তা ও মানুষের ঘরবাড়ি আপাতত রক্ষা করা যায়।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত