প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঋণের বোঝা বইতে না পেরে আত্মহত্যা, স্ত্রীকেও খাওয়ালেন বিষ

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] প্রায় ২০ লাখ টাকার পাহাড়সম ঋণের বোঝা বইতে ছিল হারুন (৩৫) এবং তার স্ত্রী জেসমিন (২৫)। ঋণ ধারদের ব্যাপক তাগাদায় অতিষ্ট হয়ে হতাসাগ্রস্থ হয়ে স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে নিজেও বিষ খেয়ে আত্মহনন করেছেন। গুরুতর অবস্থায় স্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠালেও তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামে এ ধরনের এ ঘটনা ঘটে।

[৩]স্থানীয় সূত্র ও নিহতের স্বজনরা জানান, ওই গ্রামের আব্দুল সালামের ছেলে মো. হারুন মিয়া প্রায় ৫ বছর আগে বিয়ে করেন পাশের নামাপাড়া গ্রামের আব্দুল হেকিমের মেয়ে মোছাম্মৎ জেসমিন আক্তারকে। তাঁদের তিন বছর বয়সের হুমায়রা নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে পড়েন হারুন। এ নিয়ে পরিবারের মাঝে কলহ দেখা দেয়। জুয়ার টাকা টাকা জোগাড় করতে না পেরে অনেক সময় স্ত্রীর ওপর অত্যাচার নির্যাতনও চলতো।

[৪]হারুনের মা খোরশেদা বেগম জানান, হারুনের বাবা স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে দপ্তরির চাকুরি করে সংসার চালাতেন। একপর্যায়ে বিদ্যালয় কতৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করে নিজে চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ছেলে হারুনকে এই পদে বহাল করেন। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই হারুন জুয়া খেলা ছাড়েনি। জুয়া খেলার টাকার যোগান না দিতে পারলে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করতো। একপর্যায়ে জানতে পেরেছেন সুদ-আসলে প্রায় ২০ লাখ টাকার ঋণ সে।

[৫]তিনি আরও জানান, তার স্বামী সালাম রাজী হন জমি বিক্রি করে নিজের হাতে সুদখোরদের টাকা পরিশোধ করার। কিন্তু হারুন টাকা নিজের হাতে নিতে চায়। আজ মঙ্গলবার সকালে নিজের ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে স্থানীয় বাজারে গিয়ে বিষের বোতল নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেই দরজা আটকে দেয়। ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতর থেকে দুই জনের মুখে বিষের গন্ধ পেয়ে দ্রুত তাঁদের ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্বজনরা। সেখানে জরুরী বিভাগেই মারা যায় হারুন ও জেসমিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই অচেতন অবস্থায় তাঁর চিকিৎসা চলছে।

[৬]খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মোখলেছুর রহমান। তিনি জানান, ধারনা করা হচ্ছে এক রকম হাতাসাগ্রস্থ হয়েই হারুন স্ত্রীকে বিষ খাইয়ে নিজেও খেয়েছিলেন। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। খোঁজে বের করা হবে ঋণদাতারা কারা।

উৎসঃ কালের কণ্ঠ

সর্বাধিক পঠিত