প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গার্মেন্ট ও রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতির অলংকার বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. বিনায়ক সেন

বিশ্বজিৎ দত্ত : [২] কোভিড উত্তর ও কোবিড কালের অর্থনীতি নিয়ে আলোচনায় তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান খাতটি হলো কৃষি। যে বছর কৃষি খারাপ যায় সে বছর অর্থনীতিও খারাপ যায়। বিগত কয়েক বছর কৃষি উৎপাদন ভাল হয়েছে বলেই জিডিপি ৮ শতাংশের ঘর অতিক্রম করতে পেরেছিল। কৃষিতে দেশের কর্মসংস্থান এখনো ৪১ শতাংশের উপরে। আগামীতে কৃষিই হয়ে উঠবে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ খাত।

[৩] কোভিড কালের প্রবৃদ্ধি নিয়ে বলেন, গ্রামাঞ্চলের অর্থনৈতিক কার্যক্রমগুলো বন্ধ হয়নি। সেখানে শ্রমিকরা কাজ করেছে। ধান কাটা হয়েছে। দোকানপাটও খোলা রয়েছে। শহওে শুধু পরিবহণ ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ৫০ শতাংশ ব্যবসা কার্যক্রম চালু রয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান বাম্পার ব্যবসা করেছে। তাছাড়া বছরের ৩ কোয়ার্টার দেশের অর্থনীতি ভাল ছিল। শেষ ৩ মাসের ২ মাস করোনায় গার্মেন্টসহ কিছু শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সুতরাং করোনাকালে প্রবৃদ্ধি আন্তর্জাতিক কারণে কিছুটা কম হলেও তিনি মনে করনে, এটি এখনো সাড়ে ৫ শতাংশের উপরে রয়েছে।

[৪] কোভিড উত্তর অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, আমাদের কৃষির প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হলেই অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি জিডিপির ৫ শতাংশে থাকবেই । গার্মেন্ট ও রেমিটেন্স এটাকে শুধু বাড়িয়ে দেয়। অনেকটা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। তার মনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তিতে আগামীতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়বে। এখন যা আছে আগামী বছর যা হবেও তাও অনেকভাল প্রবৃদ্ধি।

[৫] আইএমএফের ২০২১ সালের প্রবৃদ্ধি ৯দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির ধারণার বিষয়ে বলেন, তারা ২০২০ সালে প্রবৃদ্ধি হার ধরেছে ২ শতাংশ। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ শতাংশ। এই হিসাবে আসলে মাথা পিছু প্রবৃদ্ধির হার হবে জিরো। সেখান থেকে শুরু করলে প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৯ হওয়া সম্ভব। তবে তিনি মনে করেন, আসলে প্রবৃদ্ধি হবে সাড়ে ৬ শতাংশ। কারণ দেশে প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

[৬] তার মতে,সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যত বেশি জোর দেয়া যাবে তত অর্থনীতি এগাবে। মানুষের স্বাস্থ্য ব্যায় কমিয়ে দিলেই অন্য খাতে ব্যায় বাড়বে। মানুষকে বাঁচানেই হবে এখন প্রধান কাজ। শিক্ষায় সমান সুযোগ তৈরী করতে হবে। সেটা সম্ভব তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে। এখন দেশে ৫ শতাংশ গরীবের হাতে এনড্রয়েড মোবাইল ফোন আছে। এটি যদি ৯৯ শতাংশ মানুষের কাছে থাকে তবে গ্রামের ও গরীবের সবাই তা ব্যবহার করে সমান শিক্ষা নিতে পারবে। এখন যা সম্ভব হচ্ছে না। আগামীতে ডিজিটাল ও তথ্য প্রযুক্তির খাতে জোর দিতে হবে। এ খাতের শিল্পেও বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে।

[৮] মানুষের হাতে নগদের যোগান দেয়া সম্পর্কে বলেন, এটি স্বল্পমেয়াদী একটি বিষয়। যাতে শিল্প তার ওয়াকিং ক্যাপিট্যাল পায়। শ্রমিকদের বেতন দিতে পারে। শ্রমিকরা টাকা পেয়ে তা দিয়ে ভোগ্য পণ্য ক্রয় করবে। বাজারে চাহিদা সৃষ্টি হবে। কিন্তু স্থায়ী জিডিপির জন্য কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তিতে ব্যায় বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই।

সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত