প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঈদে ঘরে ফেরা মানুষেরা নতুন করে ছড়াবেনাতো করোনা?

শাহীন খন্দকার :[২] স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শহর ছেড়ে গ্রামের বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন রাজধানীবাসী। জীবিকার প্রয়োজনে ইট-কাঠের শহরে আবাস গড়লেও ঢাকাবাসীর মন পড়ে থাকে নিজ গ্রামে। যেখানে রয়েছে নাড়ির টান। তাদের যাত্রা শুরু হয়েছে।

[৩] ঈদে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এবার বাস, ট্রেন বা লঞ্চের টিকিটপ্রাপ্তির জন্য থেকে শুরু করে বাড়ি পৌঁছানো পর্যন্ত হ্যাপা পোহাতে হচ্ছে না মানুষকে। নিজ নিজ গাড়ীতে কিংবা দলগত হয়ে মাইক্রো কিংবা হাইস নিয়েই ছুটছে তবুও নিজের জন্মস্থান, গ্রামে ঈদ উদযাপনে উদগ্রীব মানুষ। পথের ভোগান্তি ও দুর্ভোগ কোভিড-১৯ নিমিষেই উরে যায় পরিবার-স্বজনদের দেখা মিললে।

[৪] ইতিমধ্যে ঈদকে ঘিরে কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা শঙ্কা বাড়াচ্ছে ব্যাপক হারে কোভিড ১৯ সংক্রমণের। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকা রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার সুযোগ ক্রমেই ঝুকিঁপূর্ণ করে তুলছে না তো কম আক্রান্ত জেলাগুলোকে। এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।

[৫] একইসঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেয়া গাইডলাইনের সঙ্গে প্রশাসনের বর্তমান ভূমিকাও সাংঘর্ষিক বলে মত জাতীয় পরামর্শক কমিটির এক সদস্যের। যদিও পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, জনস্বার্থে সরকারের নির্দেশনা মেনেই সব কিছু করা হচ্ছে। আগে থেকেই বিশেষজ্ঞরা আভাস দিয়ে রেখেছিলেন, মে মাসে দেশে ব্যাপক হারে বাড়বে কোভিড ১৯ সংক্রমণ। বাস্তব চিত্রও মিলছে সেই পূর্বাভাসের সঙ্গে। দেশের মোট আক্রান্তের অর্ধেকের বেশি শনাক্ত হয়েছেন গত ২ সপ্তাহে। প্রায় প্রতিদিনই গড়ছে আক্রান্ত কিংবা মৃতের কোনো না কোনো রেকর্ড।

[৬] এ অবস্থায় যখন প্রয়োজন সর্বোচ্চ সতর্কতা, তখনই আসছে শিথিলতা। ইফতার বাজারের অনুমতি, ঈদ সামনে রেখে শপিংমল খোলা, সবশেষ পুলিশের চেকপোস্ট সরিয়ে বাধাহীন যাতায়াতের সুযোগ করে দেয়া, রাস্তায়- ফেরিঘাটে ভিড়-সমন্বয়হীনতার নজির উল্লেখ করে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ই¯্রাফিল রতন বলেন, আগের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এখনের কর্মকাণ্ড সাংঘর্ষিক। আমাদের পলিসির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বটে। এতে সংক্রমণ আরো ছড়িয়ে পড়বে।

[৭] আইইডিসিআর এক বিশেষজ্ঞ বলেন, দশ দিন আগের ঢেউ এখন লাগছে। দিন দিন মৃত্যু আর আক্রান্ত বাড়ছে। এতে করে সারা দেশে আমরা ছড়িয়ে দিয়েছি। বর্তমানে কোভিড-১৯ মোট শনাক্ত ৩০ হাজার ছাড়ালেও এখনো ৪৪ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০০-র নিচে রয়েছে। আর মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি রাজধানী ঢাকায়। এই অবস্থায় মানুষের ঢাকা ছাড়ার ঢল তুলনামূলক কম আক্রান্ত জেলাগুলোর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় বিশেষজ্ঞরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত