প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বুদ্ধি খাটান। স্বাস্থ্যবিধি মানুন। লড়াই করুন। লড়াইয়ের হাতিয়ার মাস্ক, শারীরিক, সামাজিক দূরত্ব ও হাত পরিষ্কার রাখা

আব্দুন নূর তুষার : কিছু অদৃষ্টবাদী মানুষ বলছেনÑ ১. ‘মৃত্যুর তারিখ নির্দিষ্ট, তাই যখন মরার তখনই মরবেন। আগেও না পরেও না’। তাই চলেন মার্কেটে যাই, জমায়েতে প্রার্থনা করি, ইফতারে জিলাপি খাই। এটা একটা ফ্যালাশিয়াস যুক্তি। আপনার মা আপনাকে দুধ না দিলে আপনার জন্মের পর পরই মরার কথা ছিলো। মরলেন না কারণ মায়ের দুধ। এবার বলেন আপনাকে রেখে দিলেই হতো। মরার হলে মরতেন, বাঁচার হলে বাঁচতেন। সবাই যখন মরার তখনই মরে। কিছু লোক আত্মহত্যা করে। তাহলে আত্মহত্যা কেন পাপ? কারণ সে নিজেই নিজের মরণ ডেকে এনেছে। কিছু লোক অন্যকে হত্যা করে? তাহলে তাদের কেন আমরা শাস্তি দিই? যারা মরেছে তারা তো যখন মরার তখনই মরেছে। শাস্তি দিই কারণ তারা তখন মরার কথা নয়, কেউ তাদের জোর করে মেরেছে। কিছু লোককে আমরা ফাঁসি দিই। তারা কি ফাঁসি না দিলে তখন মরতো? কেন দিই, কারণ তারা বেঁচে থাকলে অন্যদের মৃত্যুর সম্ভাবনা অথবা তারা একজনের বা অনেকের মৃত্যু ঘটিয়েছেন ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছেন।

 

মৃত্যুর স্বাভাবিকতা হলো আপনি কোন রোগভোগের কারণে বা স্বাস্থ্যগত কারণে মৃত্যুবরন করবেন যেটা রোধ করার সব চেষ্টা করা হয়েছে অথবা যার বিরুদ্ধে আর কিছুই করার ছিলো না। যার জন্য আপনি নিজে বা অন্য কেউ দায়ী নয়। কারও অবহেলা বা কোনো অনিয়ম দায়ী নয়। যে কারণে আমরা সড়কপথে বিপদ আছে জানি, কিন্তু ব্রেক পরীক্ষা না করে গাড়ি চালাই না। ফিটনেসের কথা বলি। আমরা বিষ খাই না। বিষের বোতলে বিষ লিখে রাখি। মদের বোতলে মদ লিখি। পানির বোতলে পানি লিখি না। তার মানে মৃত্যু যখন হওয়ার তখন হয় একথা বলে গা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। মৃত্যুর সম্ভাবনাকে কমিয়ে আনতে হবে। যাতে বেশিদিন পৃথিবীতে থাকা যায়। ২. কেউ কেউ বলছেন এ রকম মহামারি আগেও এসেছে। তাতে কি সবাই মরে গেছে? মরেনি। তার মানে কি এই এবার সবাই মরবে না? মরতেও পারে। ধীরে ধীরে মরবে। ৭০০ কোটি তো একসঙ্গে মরে সাফ হবে না। আর এই যুক্তি দিয়ে কি কোনো মৃত্যুকে জাস্টিফাই বা মেনে নেওয়া যায়? লঞ্চে আমরা লাইফবয় বা লাইফবোট চাই কেন? সাঁতার না জেনে কি নদীতে ঝাঁপ দেওয়া যাবে। মরণ যখন হবে তখনই হবে ভেবে? মরণ যখন হওয়ার তখন হবে ভেবে ভাইরাসের সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়া যাবে? যাবে না। সবাই ক্রিকেট খেলে। শচিন বেশি সেঞ্চুরি করে। সবাই ক্রিকেট খেলে। সাকিব সেরা অলরাউন্ডার হয়। কিন্তু তারা কি আউট হয় না? আউট হলে আপনি বলতেই পারেন, যে বলে আউট হওয়ার সে বলেই আউট হবে, এখানে কিছু করার নেই। এটা হলো সেই ফ্যালাশিয়াস যুক্তি।

 

শচীন-সাকিব সেরা হয় কারণ তারা প্রস্তুতি নেয়। ফিট থাকে। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বল মোকাবেলা করে। স্পিনারের টার্ন বোঝে। ফাস্ট বোলারের স্টেপ কাউন্ট করে। এমনকি বলের শব্দ থেকে বোঝে কতোটা জোরে পিচ করেছে বল। এটার জন্য তারা প্রস্তুতি নেয়। এমনকি ভিডিও দেখতে থাকে। কোচের সাহায্য নেয়। এ কারণেই তাদের হয় সেঞ্চুরি আর আবুইল্যা করে শূন্য রান। সেরা প্যাড, সেরা হেলমেট, সেরা আর্মগার্ড, সেরা ব্যাটটা নেওয়ার চেষ্টা করে। যাতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। তাই শচীন, সাকিব টিকে থাকে। আবুইল্যা যখন আউট হওয়ার তখনি হয়, শচিনও যখন আউট হওয়ার তখনি হয়। শুধু শচিন, সাকিব হয় বিশ্বসেরা আর আবুইল্যা হয় বিশ্ববলদ। টিকে থাকাটা বুদ্ধিমত্তা ও বিজ্ঞানের বিষয়। সঠিক প্রস্তুতির বিষয়। ভাগ্য ততোই দুর্বল প্রস্তুতি যতো সবল। অতএব, স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। জীবন থাকলে আবার লাভ হবে, উপার্জন হবে। জীবন থাকলে পুণ্য অর্জন করা যাবে। জীবন থাকলে আপনি পাপ মোচন করতে পারবেন।

 

জীবন নেই মানে কেবল বিচারের অপেক্ষা। অদৃষ্টবাদিতার কোনো জায়গা নেই এই জীবনে। প্রকৃত বিশ্বাসী বিশ্বাস করে স্রষ্টা তাকে জীবন দিয়েছেন রহমত হিসেবে। এই রহমত যতো বেশি পাওয়া যায় ততোই পরকালের সঞ্চয় জমা করা যায়। যখন মরার তখনই মরবেন, কিন্তু মরার জন্য চেষ্টা করা মহাপাপ। ভাইরাসের সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়া অন্যায়। সেই ভাইরাস ছড়ানো আরও অন্যায়। বুদ্ধি খাটান। স্বাস্থ্যবিধি মানুন। লড়াই করুন। লড়াইয়ের হাতিয়ার হলো মাস্ক, সামাজিক দূরত্ব ও হাত পরিষ্কার রাখা। হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে, মাস্ক পরে, ৬ ফিট দূরে দাঁড়ান। এরপর চিল্লায়া বলেন, ফি আমানিল্লাহ। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত