প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব : কবে শেষ হবে? কীভাবে শেষ হবে? গন্তব্য কোথায়?

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] বিপন্ন সময়। সারা দুনিয়াতে একই চিত্র। ভয়, উদ্বেগ, আতঙ্ক। লাশের জায়গা হচ্ছে না মর্গে। করোনার জন্মস্থান চীনে পরিস্থিতি এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। ইউরোপ-আমেরিকায়ও মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমছে। লকডাউন নিয়ে বিতর্ক দেশে দেশে। জীবন না জীবিকা সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সবাই। তাই এখন সাবার প্রশ্ন, করোনাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাব কবে শেষ হবে? কীভাবে শেষ হবে? এই মুহূর্তে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে এই দুটি প্রশ্ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

[৩] বাংলাদেশেও এ নিয়ে নানা প্রশ্ন, বাহাস। অঘোষিত লকডাউন পরিস্থিতি বেশ শিথিল। সরকারি অফিস, আদালত যদিও বন্ধ, গার্মেন্টস, কলকারখানা খুলেছে। বেসরকারি বিভিন্ন অফিস খুলে দেয়া হয়েছে। এমনকি শপিংমল-দোকানপাট খোলার ওপর থেকেও বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। রাস্তায়, বাজারে মানুষের ভিড়। অথচ গতকালই দেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদিন ৮৮৭ রোগী শনাক্তের কথা জানানো হয়েছে সরকারিভাবে। ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরো ১৪ জন। এই পরিস্থিতিতে সর্বত্র প্রশ্ন আমরা কোথায় যাচ্ছি?

[৪] এই অবস্থায় চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহের দিকে করোনার সংক্রমণ চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। পরবর্তী বেশ ক’দিন এই পরিস্থিতি স্থির থাকতে পারে। তারা প্রত্যাশা করেছেন জুন মাসের শেষ নাগাদ সংক্রমণের মাত্রা অনেকাংশে কমে যাবে। বাংলাদেশে মহামারির প্রবণতা বিশ্লেষণে সরকার গঠিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মহামারী প্রবণতা বিশ্লেষণ করে আমাদের দল পূর্বাভাস দিয়েছে যে, চলতি মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহটি কভিড-১৯ সংক্রমণের চরম সময়কাল হতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও আট সদস্যের কমিটির একজন সদস্য ডা. শাহ মনির হোসেন আরো বলেন, তাদের বিশ্লেষণ অনুসারে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখানোর আগে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সংক্রমণের চরম সময়কাল চলবে। গাণিতিক পদ্ধতি এবং মহামারীবিদ্যার সূত্রের ভিত্তিতে তাদের বিশ্লেষণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জুনের শেষের দিকে সংক্রমণের হার কমতে থাকবে বলে আশা করা যেতে পারে।’ অধ্যাপক হোসেন বলেন, বাংলাদেশকে অবশ্যই তিনটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অনুসরণ করতে হবে- মানুষকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে, হাত ধুতে হবে এবং শারীরিক দূরত্ব কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। আইইডিসিআর এর উপদেষ্টা ডা. মোস্তাক হোসেন এ ব্যাপারে মানবজমিনকে বলেন, লকডাউন শিথিল করা উচিত হবে না। দোকান পাট খোলার হটকারি সিদ্ধান্ত নিলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। ছোট ছোট ওঠা নামার মধ্যে আছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধীরে ধীরে ছোট শিল্প কারখানা খুলতে হবে। ঈদের বাজার খুললে বিপদ হবে। যদিও পুরো বাংলাদেশই কভিড-১৯ এর ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে, দেশের অনেক জায়গায় সংক্রমণের হার এখনও খুব কম আছে এবং ভাইরাসের বিস্তার আটকাতে হলে আমাদের করোনা ভাইরাস ক্লাস্টার শনাক্ত করতে হবে এবং সেগুলোকে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে চিকিৎসা দিতে হবে। তাহলে রোগী কমে আসবে। আমরা যদি সমস্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই ক্লাস্টারগুলো পরিচালনা করি, তবে রোগের বিস্তার ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে। তিনি আরও বলেন, জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে শহরগুলো এবং এর আশেপাশের অঞ্চলে শারীরিক দূরত্বকে নিশ্চিত করা খুবই কঠিন। যে কারণে এইসব অঞ্চলে প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুবই নাজুক।

[৫] লকডাউন শিথিলের কারণে পরিস্থিতি নাজুক হতে পারে বলে আরো অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহ বিবিসিকে বলেছেন, যেহেতু অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল করা হয়েছে। এখন এর প্রভাবে সংক্রমণ বেড়ে গেলে আবারও কঠোর লকডাউন, এমনকি প্রয়োজনে কারফিউ দেয়া ছাড়া অন্য উপায় থাকবে না। তিনি বলেন, এখনো করোনার ঝুঁকি প্রতিদিনই বাড়ছে। এই অবস্থায় লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। এখন সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এটা। তারা হয়তো অর্থনৈতিক দিকটা বেশি বিবেচনা করেই লকডাউন শিথিল করেছে। তবে শর্ত দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ভয় হলো যদি আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়, তাহলে ঝুঁকির মধ্যে পড়বো আর কি? অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আরও বলেছেন, আমাদের কোন ঝুঁকি নেয়ার আগে আরেকবার চিন্তাভাবনা করা উচিত। এমনকি আমি একথাও বলছি, যেহেতু লকডাউন শিথিল করা হলো, এবং তাতে যদি দেখা যায় যে আবার সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। তাহলে আবার খুব শক্তভাবে লকডাউন দিতে হবে। প্রয়োজনে যেন কারফিউ দেয়া হয় এই ব্যবস্থা করতে হবে।

উৎসঃ রাইজিংবিডি ও মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত