প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ‘ছিকর’ সিলেটের হবিগঞ্জের এটেঁল মাটির তৈরি সুস্বাদু খাবার!

মুসবা তিন্নি : [২] ছিকর হচ্ছে একধরণের পোড়া মাটি। ছিকর হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন গ্রামে নিম্নবিত্ত সমাজে প্রচলিত এক বিশেষ আহার্য। ক্ষুধা নিবারণের জন্য নয়, বরং এক ধরণের অভ্যাসের বশে লোকজন তা খায় বলে জানা যায়।

[৩] পাহাড়ি টিলায় গর্ত খুড়ে লম্বা বাঁশের সাহায্যে গভীর থেকে তুলা হয় একধরণের মিহি মাটি। তারপর তা মাখিয়ে খাই বানিয়ে ছাঁচে ফেলে প্রথমে তৈরি করা হয় মন্ড। তারপর তা পছন্দ মত কেটে টুকরো করা হয়। পরে বিশেষ এক পদ্ধতিতে সেই টুকরো পুড়ানো হয় আগুনে। এইভাবে তৈরি হয় ছিকর। ছিকর বিভিন্ন আকৃতির হয়ে থাকে। কোনটি দেখতে বিস্কুটের মত কোন কোন ছিকর আছে ললিপপের মত লম্বা আবার কোন ছিকর ছোট লজেন্সের মতো।
বিভিন্ন এলাকার ছিকর বিভিন্ন স্বাদের হয়ে থাকে। কোন এলাকার ছিকরে খাই মাখানোর সময় গোলাপজল, আদার রস ইত্যাদি মেশানো হয়। যা মাটির সাথে পুড়ানোর পর ভিন্ন এক স্বাদের জন্ম দেয়। স্থানীয় কুমার সম্প্রদায় বা মৃৎ শিল্পীদের কেউ কেউ ছিকর তৈরি করে বাজার জাত করে থাকে। দিনে দিনে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় ছিকর এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

[৪] নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুরে পাহাড়ি টিলা থেকে একসময় বিভন্ন এলাকার কুমাররা এসে মিহি মাটি সংগ্রহ করত। কিন্তু আজ কাল কেউ আর মাটি সংগ্রহ করতে যায় না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। উক্ত টিলা ছাড়াও বানিয়াচং, বাহুবল ও মাধবপুরের বিভিন্ন জায়গায় ছিকরের উপযোগি মাটি আহরণের ক্ষেত্র আছে। হবিগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন গ্রাম্য বাজারে ঘুরে ছিকরের সন্ধান মিলেনি।

[৫] বিশিষ্ট লেখক দেওয়ান মাসুদুর রহমান চৌধুরী জানান, ‘মাটিকে ভিজিয়ে নরম করে রুটির মত করে ছোট ছোট টুকরোর মাধ্যমে বিশেষ প্রক্রিয়ায় শুধু মাত্র আগুনের ধোয়া দিয়ে পুড়িয়ে তৈরী করা হত। যা এ অঞ্চলের গ্রামগুলোতে ছিকর নামে পরিচিত।

[৬] ৭০/৮০ দশকে হবিগঞ্জে প্রচুর পরিমাণে এই ছিকর পাওয়া যেত। গর্ভবতী মহিলাদের কাছে ইহা একটি পছন্দনীয় সুস্বাদু খাদ্য ছিল। তাদের ধারণা ছিল এটা খেলে বিভিন্ন রোগ বালাই থেকে বেঁচে থাকা যাবে’। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর বাজার ও মাধবপুর উপজেলার নারায়ণপুর ও ঘোমটিয়া গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তির সাথে কথা বলে সবার কাছ থেকে প্রায় একই রকম বক্তব্য পাওয়া গেছে। দুষ্প্রাপ হওয়ায় ছিকর খাওয়া এখন ভুলে গেছেন তারা।

[৭] তবে সদর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের লস্করপুর ইউনিয়নের কটিয়াদি বাজারে মোঃ হুসাইন উল্লা নামক এক ছিকর বিক্রেতার খোঁজ মিললে তার সাথে কথা বলে জানা যায় ছোট বেলা থেকে তিনি ছিকর বিক্রি করে আসছেন। আগে মানুষ ছিকর কিনত এখন খুব কম লোকই কিনে। মূলত আধুনিক শিক্ষিত মানুষরা ছিকর খাওয়াকে অস্বাস্থ্যকর ও রুচি বিরুদ্ধ বিবেচনা করার কারণে ছিকর এখন বিলুপ্তির পথে।

সূত্র : উইকিপিডিয়া, ইতিহাস ও মিথলজি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত