প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] উহানে মৃতের সংখ্যা বাড়ল ৫০ শতাংশ, চীনে মোট মৃত্যু ৪৬৩২

যুগান্তর : [২] করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে চীনের উহানে মৃতের তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ২৯০ জনের নাম। এ শহরটিতে এখন মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ হাজার ৮৬৯ জনে। এটি আগে যে সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছিল তার প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মৃতের তথ্য পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে বলে স্বীকার করেছে শহর কর্তৃপক্ষ।

[৩] পর্যালোচনায় শুধু মৃতের সংখ্যাই বাড়েনি, বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যাও। উহানে আক্রান্ত ৩২৫ জন বেড়ে হয়েছে ৫০ হাজার ৩৩৩ জন। আর এতে চীনে মোট মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে।

[৪] এই ‘পর্যালোচনা’র ফলে চীনে মোট মৃত বেড়ে হয়েছে ৪ হাজার ৬৩২ জন, যা আগের সংখ্যার চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২ হাজার ৬৯২ জনে। সিনহুয়া ও আলজাজিরা।

[৫] বিশ্বজুড়ে নতুন করোনাভাইরাসের মহামারীর উৎপত্তি বলা হয় উহানকে। সেখানকার একটি সি ফুড মার্কেট থেকেই গত বছরের শেষ দিকে এ ভাইরাস ছড়াতে শুরু করে বলে ধারণা করে আসছেন গবেষকরা। ৩১ ডিসেম্বর চীন নতুন ধরনের নিউমোনিয়ায় সংক্রমণের কথা প্রকাশ করে। পরে সেই নিউমোনিয়ার কারণ হিসেবে নতুন এ ভাইরাসকে শনাক্ত করা হয়।

চীন প্রথম এ ভাইরাসে কারও মৃত্যুর কথা জানায় ১১ জানুয়ারি। কিন্তু ততদিনে এত দ্রুত এ ভাইরাস ছড়াতে শুরু করেছে যে, জানুয়ারির শেষ দিকে উহানসহ হুবেই প্রদেশের বড় একটি এলাকা লকডাউন করে ফেলা হয়।

[৬] তিন মাস অবরুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল উহান থেকে লকডাউন তুলে নেয়া হয়। তার এক সপ্তাহের বেশি সময় পর আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা পর্যালোচনা করার কথা জানাল উহানের মিউনিসিপ্যাল কর্তৃপক্ষ।

সংখ্যা বাড়ার কারণ হিসেবে তারা বলছে, অনেক রোগী চিকিৎসা না পেয়ে বাড়িতেই মারা গেছেন, যারা এতদিন হিসাবের বাইরে ছিল। রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে হিসাব রাখার ক্ষেত্রেও ভুল থেকে গেছে, যা পর্যালোচনায় সংশোধন করা হয়েছে।

[৭] আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন করোনাভাইরাস। আর এতে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দেড় লাখ, আক্রান্ত ২২ লাখ।

আক্রান্ত ও মৃত্যু- দুদিক দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র এখন শীর্ষে। চীনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অন্য দেশের তুলনায় এত কম হওয়ায় সন্দেহ আর অবিশ্বাস ছিল পশ্চিমা দেশগুলোর।

[৮] যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, স্পষ্টভাবে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা আমরা জানি না।

চীনের বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কোভিড-১৯ এ মৃতদের সৎকার করতে বিশাল ফাঁকা যায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছিল দেশটির সরকার। সেখানে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন শত শত মানুষকে রাখা হয়েছে, অথচ বলা হয়েছে অনেক কম।

[৯] ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উহানের হানকাউ ক্রিমেশন সেন্টারে প্রতিদিন ১৯ ঘণ্টা ধরে মৃতদেহ পোড়ানো হয়েছে। তাতে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১২ দিনে কেবল উহানেই ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ওই প্রতিবেদনে ধারণা দেয়া হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সংশোধনী চীনের প্রতি পশ্চিমা বিশ্বের অবিশ্বাসকে আরও বাড়াবে। এ মুহূর্তে ব্রিটেনে বরিস জনসনের দায়িত্ব পালনকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেছেন, বেইজিংয়ের জন্য কঠিন প্রশ্ন উঠবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত