শিরোনাম
◈ সৌদি আরবে হুতি হামলার তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের ◈ দেশে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় এবার পুলিশের বিশেষ ইউনিট ◈ শিক্ষককে থাপ্পড় দেওয়া সেই রুমির বার্তা, ‘আমাকে হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখার স্বপ্ন দেখো না’ ◈ অরুণাচল সীমান্তে ভারত-চীন সেনাদের মুখোমুখি অবস্থান, নতুন করে উত্তেজনা ◈ আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে , জানা গেল কারণ ◈ ব্যাংকে আমানতের সুদ কমছে, সঞ্চয়ের টাকা কোথায় রাখলে নিরাপদ ও বেশি লাভ? ◈ সৌদি আরবে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি কারাগারে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকা যাচাই করছে সরকার ◈ সাজেকে অবরোধ-সহিংসতায় পর্যটন ব্যবসায় ধসের শঙ্কা, পর্যটকশূন্য ভ্যালিতে ৭৬ কোটি টাকার ব্যবসা নিয়ে শঙ্কা! ◈ মাতারবাড়ীতে কয়লার ছাই ফেলার জমিতে ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ, অর্থায়ন করবে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংক ◈ আসামি নিয়ে ফেরার পথে কালীগঞ্জে কাভার্ডভ্যানের চাপায় এসআই ও বিএনপি নেতা নিহত

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২০, ০২:০৭ রাত
আপডেট : ১৭ এপ্রিল, ২০২০, ০২:০৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১]করোনাকালে নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মানবাধিকার কমিশন চেয়ারপারসনের উদ্বেগ

সুজন কৈরী : [২] বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন নাসিমা বেগম এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

[৩] বিবৃতিতে তিনি বলেন, কমিশন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, করোনার এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতেও নারী এবং শিশুদের পারিবারিক সহিংসতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিকৃত মানুষের যৌন সহিংসতার শিকার হতে হচ্ছে। কমিশন আরও লক্ষ্য করছে, করোনা আক্রান্তসহ সাধারণ রোগীদের অনেকে চিকিৎসা পাচ্ছেন না। বিনা চিকিৎসায়য় মারা যাচ্ছেন, যা‌ মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

[৪] নাসিমা বেগম বলেন, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশও করোনাভাইরাসের ক্রমাগত সংক্রমণে এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সম্মুখীন।

[৫] বিভিন্ন গবেষণা ও তথ্য উপাত্ত থেকে এটি প্রতীয়মান, যেকোনো দুর্যোগ, বিপর্যয় বা মহামারিতে নারী-শিশু, প্রতিবন্ধী এবং হিজড়াসহ অনগ্রসর জনগোষ্ঠী অধিকতর ঝুঁকি বা দুরাবস্থায় থাকেন। করোনাভাইরাসের এই সংকটকালীন সময়ও এর ব্যাতিক্রম নয়। করোনা সংক্রমণ রোধে ঘরে থাকার বিকল্প নেই। এজন্য সবাই একসঙ্গে ঘরে থাকায় নারীকে অধিকাংশ সময়ই রান্না ঘরে কাটাতে হয়। পরিবারে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সেবার দায়িত্বটিও অবধারিতভাবে নারীকেই পালন করতে হয়। অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ পুরুষ সদস্যই গৃহস্থালী কাজে নারীর পাশে সহযোগিতার হাত বাড়ান না।

[৬] অপরদিকে লকডাউনের ফলে দিনমজুর শ্রেণির কোনো কাজ না থাকায় তাদের প্রত্যেককে তালিকাভুক্ত করে ত্রাণ বিতরণে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অনুশাসন সত্ত্বেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটছে, যা কাম্য নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ত্রাণ বিতরণের সময় জনসমাগমের ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। কমিশন মনে করে, দ্রুত সময়ের মধ্যে দিনমজুর এবং নিম্ন-মধ্যবিত্ত কর্মহীন মানুষের তালিকা তৈরি এবং অসহায় নারী-শিশু-প্রতিবন্ধী-হিজড়াসহ অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের বাড়িতে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেয়া এখন সময়ের দাবি। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী, ধনাঢ্য ব্যক্তি যারা এগিয়ে আসছেন, তাদের সবাইকে কমিশন সাধুবাদ জানায়।

[৭] বিবৃতিতে নাসিমা বেগম আরো বলেন, কমিশন মনে করে, এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কর্তৃক অভিযোগ গ্রহণ সম্পর্কিত হটলাইন সার্ভিস চালু রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও আইনগত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। করোনা রোগীর চিকিৎসা সেবার সঙ্গে জড়িত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রীর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আমাদের মনে রাখতে হবে, করোনা আক্রান্ত রোগীরা অচ্ছুৎ কেউ নন। যে কেউ যেকোনো সময় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন। সুতরাং ‘সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে এটি মনে রেখে করোনা আক্রান্তদের মনোবল চাঙা রাখতে হবে। কমিশন তাদের দ্রুত রোগ মুক্তির প্রার্থনা করে। ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী ডাক্তারসহ যারা মারা যাওয়া প্রত্যেকের আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছে কমিশন।

[৮] কমিশন সব পিতা-মাতা এবং অভিভাবকদের ধৈর্য ধরে করোনার এই বৈশ্বিক বিপর্যয়কে মোকাবিলার অনুরোধ জানাচ্ছে। কমিশন মনে করে, জাতীয় এই মানবিক দুর্যোগ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবাই ঘরে থাকবো, স্বাস্থ্যবিধি এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলবো। পরিবারের সবাই সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে গৃহের কাজে অংশগ্রহণসহ নারী-শিশু ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা সুরক্ষায় একসঙ্গে কাজ করবো। আসুন, সবাই স্বাস্থ্যবিধি, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলি, নিরাপদে ঘরে থাকি। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও গোটা বিশ্বকে নিরাপদ রাখি। সবার সম্মিলিত সহযোগিতা, সচেতনতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে করোনা যুদ্ধে আমাদের নিশ্চিত জয় হবে ইনশাআল্লাহ। আঁধার কেটে আলো আসবেই। সম্পাদনা : রাশিদ

  • সর্বশেষ