প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘পহেলা বৈশাখ এবং আমার কিছু কথা’

শর্মী ভৌমিক : বেশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ এগুলো বাংলা ১২ মাসের নামের কয়েকটি। পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এটা সবারই জানা। পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সব মানুষের ভালোবাসার সেতুবন্ধন, অপরূপ এক আনন্দ মিছিল। কিন্তু কিছু মৌলবাদী লোক বাঙালির এ মিলনমেলাকে নির্দিষ্ট কোনো ধর্মীয় উৎসব আখ্যা দিয়ে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের কথাবার্তায় মনেই হয় না যে, তারা বাংলাদেশে বসবাস করছে। তারা সম্প্রীতির এ সুন্দর দেশটাকে তালেবানদের মতো দাঙ্গাহাঙ্গামার দেশ বানানোর স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে। তারা অন্য ধর্মাবলম্বীদের নাপাক, কাফের, বিধর্মী বলে গালিগালাজ করতেই ব্যস্ত সারাক্ষণ। তারা এ দেশটাকে ছিঁড়েছুড়ে খুবলে খেতে চায়। খাচ্ছেও তাই। স্বল্প সংখ্যক ভিন্নধর্মী এখনো আছে এদেশে। তাদের এসব পীড়নে এ সংখ্যাও হয়তো খুব দ্রুতই বিলীন হয়ে যাবে। তাদের সফলতা এখন দোরগোড়ায়। ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, পড়ালেখা শিখে মানুষ মানবিক হয়। আজ দেখছি, লেখাপড়া শিখেও অনেক মানুষই সাম্প্রদায়িক হয়, অমানুষ হয়। এ ব্যর্থতা কার বা কাদের? পারিবারিক শিক্ষা আসলে বিশাল একটি ব্যাপার। শৈশব থেকেই যদি ব্যতিক্রমী চিন্তাচেতনায় পরিবার থেকে ব্রেইন ওয়াশ করা হয়, তাহলে সে শিশু বড় হয়েও ব্যতিক্রমই রয়ে যায়। সাধারণ মানুষ হিসেবে তার অস্তিত্ব শূন্যই থেকে যায়। আমার বাবা একজন স্বনামধন্য শিক্ষক ছিলেন। তার মধ্যে কখনোই তেমন কোনো গোঁড়ামি দেখিনি আমরা। আমার মা-ঠাকুরমারাও অত্যাধুনিক মানসিকতার মানুষ ছিলেন। আমরা সাম্প্রদায়িকতা বুঝিনি কোনোদিন। এখন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কিছু লিখলে সেসব সাম্প্রদায়িক লোকগুলো আমাকে সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে নিজেদের সংকীর্ণতা ঢাকার চেষ্টা চালায়। সেসব তাদের বোঝার ভুলও হতে পারে। আমি তাদের এসব কথায় আশাহত হলেও দুঃখ পাই না, কারণ আমি নিজেকে জানি। অন্যের কথায় আমি আমার অস্তিত্ব হারাবো কেন। পহেলা বৈশাখ নিয়ে সেসব লোকদের এতো জ্বালা কেন আমি বুঝি না। সোনার বাংলাদেশে এর চেয়ে হাজার হাজার বেশি খোলামেলা সাংস্কৃতিক বিষয়আশয় (অনুষ্ঠান) হয়ে থাকে এবং হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে আপনার/আপনাদের মাথাব্যথা হতে দেখি না কেন। রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত অনেক কিছুর সঙ্গেই আমি/আপনি পরিচিত যেগুলো হয়তো ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ (সব ধর্মে নয়), সেসব বিষয় নিয়ে আপনি/আপনারা মাতামাতি করেন না তো। অবাক লাগে, সত্যিই অবাক হই বাঙালির প্রাণের উৎসবকে নিয়ে আপনার/আপনাদের নোংরা ষড়যন্ত্র দেখে। এতো ছোট মন নিয়ে মানুষ বেঁচে থাকে কী করে, ভেবে আশ্চর্য লাগে আমার। লেখাপড়া না জানা, অজ্ঞানী, মূর্খ লোকের কথায় তেমন কিছু আসে যায় না আমার, কিন্তু শিক্ষিত লোকের কুশিক্ষা মেনে নিতে বড্ড কষ্ট হয়। এই করোনাকালে এবারের পহেলা বৈশাখ স্বাভাবিকভাবেই নিরানন্দেই কেটে যাবে। জানি না আর কতোদিন লাগবে এই ক্রান্তিকাল অতিক্রম করতে। স্রষ্টা আমাদের সহায় হোন। মঙ্গল হোক সমগ্র পৃথিবীবাসীর। করোনাভাইরাস থেকে আমরা সবাই পরিত্রাণ পাই, শুধু এই প্রত্যাশাই করছি নতুন বছরের নতুন দিনে। এসো হে বৈশাখ/এসো এসো। মানুষের মঙ্গলের বার্তা নিয়ে তুমি শীঘ্রই এসো। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত