প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইতালিতে ৮৭ জন ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কই একটি হাসপাতালও তো একজন রোগীকেও ফিরিয়ে দেয়নি

কামরুল হাসান মামুন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের করোনা হয়েছে কেবল এই ধারণার কারণে একের পর এক হাসপাতাল তার চিকিৎসা দিতে অসম্মতি জানিয়েছেন। এর চেয়ে অমানবিক কি আর কিছু হতে পারে? ইতালিতে ৮৭ জন ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কই একটি হাসপাতালও তো একজন রোগীকেও ফিরিয়ে দেয়নি। একজন ডাক্তারও তো চিকিৎসা দিতে অসম্মতি জানাননি। তাদের কি নিজের ও পরিবারের প্রতি মায়া নেই? আমাদের চেয়ে বেশি ছাড়া একবিন্দুও কম নেই। ভাবা যায় ৮৭ জন ডাক্তার করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে তবুও কোনো ডাক্তার চিকিৎসা দেওয়া থেকে বিরত থাকেনি।
আসলে ডাক্তার তো এই সমাজেরই একটি অংশ। অন্য পেশায় যেই অমানবিকতা দেখি তার প্রতিফলনতো এখানেও পরবে। এটাই স্বাভাবিক। শিক্ষকরা ক্লাসে না পড়িয়ে অথবা কম পড়িয়ে প্রাইভেট কিংবা কোচিং সেন্টারে পড়াবে। পার্ট-টাইম অন্যত্র বেশি মনোযোগ দিয়ে পড়ানোর জন্য ফুল টাইম কর্মক্ষেত্রে কম গুরুত্ব দিয়ে পড়িয়ে আমাদের শক্তি জমাই। আজকেই দেখলাম হাটহাজারী উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা গরিবদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে ছবি তুলে সেই ত্রাণ আবার ফিরিয়ে নিয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতারা ভবিষ্যতে লাভের আশায় বস্তা বস্তা চাউল মজুদ করছে অথবা ত্রাণের চাউল চুরি করছে। এমপিরা দুর্নীতি করছে। আমলারা ঘুষ, দুর্নীতি করে সম্পদের পাহাড় বানাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা দুর্নীতি করছে। ইঞ্জিনিয়াররা ঘুষ খাচ্ছে। এইরকম একটি সমাজে কীভাবে আশা করবেন যে ডাক্তাররা পুত-পবিত্র ফেরেস্তা হবে।
পৃথিবীর আরেকটি দেশ দেখেন তো যেখানে ডাক্তারি পাস করার পর বিসিএস দিয়ে এডমিন ক্যাডারে গিয়ে কেরানিগিরি করে? পৃথিবীর আরেকটি দেশ দেখেন তো যেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করার পর বিসিএস দিয়ে এডমিন ক্যাডারে গিয়ে কেরানিগিরি করে? ডাক্তার হয়ে ক্যাডার হওয়া একটা ক্রাইম। কিন্তু কেন হয় সেই শানেনুজুলও বুঝতে হবে। অথচ এটা কত বড় অপচয় সেটা কি একবারও ভেবে দেখেছি? যারা ভাবার তারা ভাবেনি। কেন ভাবেনি? কারণ এই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খারাপ হলে তাদের কিছু যায় আসে না। তারা তো সামান্য কিছু হলেই সিঙ্গাপুর, লন্ডন দৌড়ায়। এই জন্য তারা স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির মাত্র ০.৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয়। এই জন্য ডাক্তার আর নার্সরা অবহেলিত। ডাক্তারদের নিয়ন্ত্রণ করে অ্যাডমিন ক্যাডাররা যারা এক সময় ডাক্তারি পড়ার যোগ্যতা ছিলো না তারাই তাদের চালায়। হওয়ার কথা ছিলো উল্টো। অ্যাডমিন ক্যাডারদের হওয়ার কথা ছিলো ডাক্তার নার্সদের সার্ভিস প্রোভাইডার, অনেকটা চাকরের মতো। কেন এমন হলো কারণ বাংলাদেশে এখন একটিই ভিআইপি চাকরি সেটা হলো বিসিএস অ্যাডমিন ক্যাডার। ভাপরে ভাপ কি ক্ষমতা? শিক্ষা আর স্বাস্থ্য হলো একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এই জায়গাটাকে আমরা সবচেয়ে কম গুরুত্ব দিয়েছি। যার জন্য ডাক্তাররা হয় বিদেশ চলে যায় না হয় অ্যাডমিন ক্যাডারে যেতে চায়। যারা পেশাটাকে একটু বেশি ভালোবাসে তারা থেকে যায়। অনেকেই মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি চাকরি করতে চায় না। একই কথা খাটে শিক্ষকদের ক্ষেত্রে। ডাক্তার কতো সম্মানি এবং গুরুত্বপূর্ণ পেশা আশা করি এইবার আমরা সকলেই বুঝতে পেরেছি। আমি যখন পিএইচডি করছিলাম তখন আমি একটি হাসপাতালের নার্স হোস্টেলে ছিলাম একবছর। আমি দেখেছি লন্ডনে নার্সদের কি মূল্য। আমি একসঙ্গে একই রান্নাঘরে নার্সদের সাথে রান্না করে খেয়েছি। আমি তাদের খুব কাছ থেকে দেখেছি। তারা কি সুন্দর একসঙ্গে নারী পুরুষ নার্স মিলে থাকে। এরা এত ভালো এবং সমাজও তাদের অনেক সম্মান দেয়। ডাক্তাররা আরো বেশি দেয়। অনেক ডাক্তার আছে যারা নার্সদের কাছ থেকে শিখে। আমার পিএইচডি সুপারভাইজরের স্ত্রী একজন নার্স। আর আমাদের দেশে নার্সরা কাজের বুয়ার মত সম্মান পায়। এই দেশে স্বাস্থ্যসেবা কোথা থেকে পাবেন।
আশা করি করোনাভাইরাস আমাদের বোধকে চিরদিনের জন্য জাগিয়ে দেবে। আমরা বুঝতে শিখব যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অবহেলা করলে একটি দেশ সত্যিকারের উন্নত হতে পারে না। মানুষ সত্যিকারের মানবিক হয় না। একটি দেশের কেবল একটি পেশার মানুষ মানবিক হবে এটা হয় না। তারপরও আমি মনে করি আমাদের দেশের ডাক্তাররা অন্য যেকোনো পেশার মানুষের চেয়ে অনেক অনেক বেশি মানবিক। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত