প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অ্যাম্বুলেন্স চালকদের মাধ্যমেও করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে সুরক্ষা ছাড়াই হচ্ছে রোগী পরিবহনের কাজ

চট্টগ্রাম প্রতিদিন প্রতিবেদন : করোনাভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও এখনও সচেতন নয় অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্য‍বস্থা ছাড়া রোগী পরিবহনের কাজ করছেন তারা। অনেকে শুধু মাস্ক পরে নিজেদের সুরক্ষিত ভাবলেও প্রশ্ন উঠেছে, করোনাভাইরাসবাহী কোনো রোগী পরিবহনের পর অ্যাম্বুলেন্স চালকদের পক্ষে সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব কিনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর বেশিরভাগ হাসপাতালে রোগী পরিবহনের কাজে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স চালকরা পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই রোগী পরিবহনের কাজ করছেন। বেশিরভাগই শুধুমাত্র মাস্ক পরে রোগী পরিবহনের কাজটি করে যাচ্ছেন। অথচ তাদের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারেন রোগী ও রোগীর সাথে থাকা আত্মীয়স্বজনেরা। চট্টগ্রামে অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির আওতায় শতাধিক অ্যাম্বুলেন্স ও অন্তত ৮০ জন চালক থাকলেও তাদের বেশিরভাগই এখনও করোনার বিপদ সম্পর্কে সচেতন নন। অথচ বিশেষায়িত এই পরিবহনের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা জানান, অ্যাম্বুলেন্স চালকরা যদি পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিয়ে রোগী পরিবহন করেন, তাদেরও সংক্রমণের ঝু‍ঁকি থেকে যায়। করোনাভাইরাসবাহী কোনো রোগী পরিবহনের পরে যদি অ্যাম্বুলেন্স জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা না হয়, তাহলে তাতে চড়া অন্যান্য রোগীদের মধ্যেও ওই ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি রয়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্সের আসনে একাধিক রোগীর শরীরের সংস্পর্শের কারণে করোনার মতো সংক্রামক ভাইরাস একজনের শরীর থেকে অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার বাস্তবসম্মত আশংকা রয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স চালক মিজান বলেন, ‘আমি সব সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যাবহার করছি। আপাতত মাস্কই ব্যাবহার করছি, গাউন হ্যান্ড গ্লাভসের দাম বেশি তাই কেনা হয়নি। সরকারি বা স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান যদি এসব দিয়ে সহায়তা করেন, তাতে আমরা যেমন সুরক্ষিত থাকবো, রোগীদেরও সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।’

এ ব্যপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম অ্যাম্ব‍ুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি নুর মোহাম্মদ ‍চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের সংগঠনভুক্ত সকল অ্যাম্বুলেন্স মালিককে অনুরোধ করেছি প্রতি গাড়িতে যেন হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়। মরদেহ ও রোগী পরিবহনের জন্য আলাদা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা নেই। তাই প্রতিটি রোগী পরিবহনের জন্য আসনে পলিথিন ব্যবহার করছি। রোগী পরিবহনের পর ওই পলিথিন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। তারপরও রোগী নামানোর পরে স্য‍াভলন দিয়ে গাড়ি জীবাণুমুক্ত করা হয়। তবে চাহিদা অনুযায়ী গাউন পাওয়া যাচ্ছে না। ৫৫ টাকার গাউন এখন ৩০০ টাকা।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত