প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মুসলমানদের উস্কানি দিতে ভারতে ভুয়া ভিডিও প্রচার, উদ্বিগ্ন দিল্লি পুলিশ

সালেহ্ বিপ্লব : [২]  টিকটক থেকে মিথ্যা খবর প্রচার করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের শরীরে করোনা ভাইরাসকে প্রতিরোধের ক্ষমতা আছে, এই ভাইরাস কিছু করতে পারবে না তাঁদের। তাই সরকারি পরামর্শ মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনও দরকার নেই। টিকটক থেকে এইসব মিথ্যা তথ্যসম্বলিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার ও ফেসবুকেও। এনডিটিভি

[৩] দিল্লি পুলিশের মতে, কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবেই এই ধরণের ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে অপপ্রচার করছে। ফলে সরকারকে এই লকডাউন পরিস্থিতি বজায় রাখতে বেশ অসুবিধার মধ্যেই পড়তে হচ্ছে।

[৪] দেশ জুড়ে লকডাউনের প্রথম সপ্তাহে হোয়াটসঅ্যাপ এবং টিকটকে যে ধরনের বিষয়বস্তু শেয়ার করা হচ্ছে তার তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, মূলত মুসলিম সম্প্রদায়কে উস্কানি দিতেই নানা ভুয়ো ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে, যা খুবই চিন্তার।

[৫] গত পাঁচ দিনে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ে ৩০ হাজারের বেশি ভিডিও বিশ্লেষণ করেছে পুলিশ। দেখা গেছে বেশিরভাগ ভিডিও ভুয়া তথ্যে ভরা । পোস্টগুলি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের দর্শকদের জন্যেই হিন্দি ও উর্দুতে তৈরি করা হয়েছে, জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। প্রাথমিক অনুমান অনুসারে, এখনও পর্যন্ত ১ কোটিরও বেশি মানুষজন এই ভিডিওগুলি দেখেছেন এবং প্রভাবিতও হয়েছেন।

[৬] ২২ পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে , “এই ভিডিওগুলির মধ্যে বেশিরভাগ ভিডিওই পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রকাশিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভারতে এই ধরণের ভিডিও আবার হিন্দিতে ডাবিং করেও ব্যবহার করা হয়েছে।’’

[৭]এই বিশ্লেষণে পুলিশের উদ্বেগ আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।  এ কথা জানিয়ে সিনিয়র এক পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, সুপরিকল্পিতভাবেই এই ধরণের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে দেশ জুড়ে।  আর এই ভুয়ো তথ্য প্রচারের জন্যে একটি নির্দিষ্ট ধরনও মেনে চলা হচ্ছে।

[৮] তিনি বলেন, “এই ভিডিওগুলির উৎস বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা গেছে যে মূলত এগুলি তৈরি করা হচ্ছে যে সমস্ত অ্যাকাউন্ট থেকে সেগুলি নিয়মিতভাবে ডিলিট করে দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডিলিট করে দেওয়া হচ্ছে অ্যাকাউন্টটি।”

[৯] তদন্ত অনুসারে, চিনের মালিকানাধীন ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ্লিকেশন টিকটকই এই ধরণের ধর্মীয় উস্কানিমূলক এবং করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত ভুয়া তথ্যসম্বলিত ভিডিও তৈরি এবং ছড়িয়ে দেয়ার জন্যে সবচেয়ে পছন্দসই মাধ্যম। এই ভিডিওগুলিই আবার হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক এবং টুইটারে শেয়ার করা হচ্ছে।

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত