প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইতিহাস বিকৃতি : স্বাধীনতা ঘোষণার প্রকৃত ইতিহাস বিশ্ব মিডিয়ায় বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার প্রামাণ্য দলিল

আশিক রহমান

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে দেশে বিগত পনের-বিশ বছর ধরে চলছে চরম মিথ্যাচার ও বিকৃতি। হাজারো দালিলিক প্রমাণ থাকা সত্তে¡ও অহেতুক কৌতুক, বিতর্ক, বিকৃতির মতো নির্জ্জলতা ও অসভ্যতায় জাতি অতিষ্ঠ। এই ইতিহাস বিকৃতির নেতৃত্ব দিচ্ছে দেশের অন্যতম গণতান্ত্রিক দল বিএনপি। তারা দাবি করছে এক, ইতিহাস ও দলিল-দস্তাবেজ বলছে আরেক। এই অসত্য কথন, বিকৃতি থেকে দেশকে, দেশের মানুষকে উদ্ধার করতে বাংলাদেশের গণমাধ্যম বহু প্রামাণ্য দলিল, দস্তাবেজ, ডকুমেন্ট ইতিহাসের আলোকে, ইতিহাস থেকে তুলে এনেছে। তুলে ধরেছে সমাজের কাছে, জাতির কাছে। তাতে কি মিথ্যাচার বন্ধ হয়েছে? হয়নি।
২৫ মার্চ রাতে (২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে) পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার সংবাদ তারবার্তার মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ছড়িয়ে যায় সারাবিশ্বে। বিশ্ব গণমাধ্যম বঙ্গবন্ধুর গ্রেপ্তার ও একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষণার সংবাদ ২৭ মার্চ ফলাও করে প্রচার করে। বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণারই প্রতিধ্বনিত হয় আওয়ামী লীগ নেতা এম এ হান্নান, এম এ মান্নানসহ সাতজনের কণ্ঠে। ২৭ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান আট নম্বর এনাউনন্সর হিসেবে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আরেকবার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন (বেলাল মোহাম্মদ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সমন্বয়ক, ২৬ মার্চ, ২০০৯ সালে এটিএন বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন)। জিয়াউর রহমানের কণ্ঠে ঘোষিত ঘোষণাটিই প্রমাণ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানে লিপিবদ্ধ সেই বাহাত্তর সাল থেকেই। দেশের সর্বোচ্চ আদালতও বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে স্বীকৃতি দিয়েছে প্রামাণ্য দলিল-দস্তাবেজের ভিত্তিতেই।
‘এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। বাংলাদশের জনগণ, তোমরা যে যেখানেই আছো এবং যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে দখলদার সৈন্য বাহিনীকে প্রতিরোধ করার জন্য আমি তোমাদের আহŸান জানাচ্ছি। পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত করে বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে’ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে আটকের আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে পাঠান। সেটি ব্যাপক প্রচারের সিদ্ধান্ত নেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের নেতা আখতারুজ্জমান চৌধুরী বাবুর নগরের জুপিটার হাউসে বৈঠকে বসে সাইক্লোস্টাইল মেশিন নিয়ে সারা রাত ঘোষণাপত্রের সে বার্তাটির অসংখ্য কপি ছাপিয়ে নগরের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়। স্বাধীনতা ঘোষণা বিভ্রান্তি দূর করতে সে সময়ে দেশে-বিদেশের মিডিয়ায় প্রকাশিত প্রামাণ্য দলিল উপস্থান করা হলো।
একাত্তরে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণার সংবাদ খুব গুরুত্বসহকারে পৃথিবীর প্রায় সব দেশের মিডিয়ায় স্থান পায়। ৬টি মহাদেশের ১২টি দেশের অসংখ্য পত্রিকার ১৯৭১ সালের মার্চ-এপ্রিলের রিলেটেড সংখ্যাগুলো যুক্ত করে দেওয়া হলো। দেশগুলো হলোÑ অষ্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, কানাডা, সাউথ আফ্রিকা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, জাপান, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, গ্রেট ব্রিটেন এবং আমেরিকা। বাংলাদেশের গণমাধ্যমও বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার সংবাদ প্রচার করেছে এবং তার দালিলিক প্রমাণ রয়েছে।
প্রথম আলো : ২৬ মার্চ, ২০১১ (বিশাল বাংলা, পৃ-৫), স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ছাপানোর সেই সাইক্লোস্টাইল এখন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে আটকের আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে পাঠান। সেটি ব্যাপক প্রচারের সিদ্ধান্ত নেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের নেতা আখতারুজ্জমান চৌধুরী বাবুর নগরের জুপিটার হাউসে বৈঠকে বসে এই সাইক্লোস্টাইল মেশিন নিয়ে সারা রাত ঘোষণাপত্রের সে বার্তাটির অসংখ্য কপি ছাপিয়ে নগরের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হয়।
ভারত : ঞরসবং ড়ভ ওহফরধ (ইড়সনধু), ওহফরধ – গধৎপয ২৭, ১৯৭১. ‘গঁলরন ঢ়ৎড়পষধরসং ভৎবব ইধহমষধ উবংয’ গ্রেট ব্রিটেন : ঞযবঞরসবং (ঞযব টহরঃবফ করহমফড়স)- গধৎপয ২৭, ১৯৭১. “ঐবধাু ভরমযঃরহম ধং ঝযধরশয গঁলরনঁৎ ফবপষধৎবং ঊ চধশরংঃধহ রহফবঢ়বহফবহঃ”. আমেরিকা : বিখ্যাত নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা ২৭ মার্চ, ১৯৭১ তারিখে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার কথা রিপোর্ট করে। নিউইয়র্ক টাইমস ২৭ মার্চ ১৯৭১, প্রিন্টেড ভার্সন। প্রখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন ৫ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে বাংলাদেশ নিয়ে লেখা এক আর্টিকেলে শেখ মুজিবের স্বাধীনতা ঘোষণার কথা উল্লেখ করে। ২৬ মার্চ ১৯৭১-এ হোয়াইট হাউজ ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের রিপোর্ট যাতে বলা হচ্ছে যে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণ দেওয়ার পর পূর্ব-পাকিস্তান গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। অষ্ট্রেলিয়া : ঞযব অমব, অঁংঃৎধষরধ- “উধপপধ নৎবধশং রিঃয চধশরংঃধহ”. জাপান : অংধযর ঊাবহরহম ঘবংি (ঔধঢ়ধহ) – গধৎপয ২৭, ১৯৭১ ‘ঊধংঃ চধশরংঃধহ পঁঃ ড়ভভ ভৎড়স ড়িৎষফ ধং যবধাু ভরমযঃরহম ৎড়পশং পরঃরবং’. আর্জেন্টিনা : ইঁবহড়ং অরৎবং ঐবৎধষফ (অৎমবহঃরহধ) – গধৎপয ২৭, ১৯৭১ – “ইবহমধষর রহফবঢ়বহফবহপব ফবপষধৎবফ নু গঁলরন”. কানাডা : এষড়নব ধহফ গধরষ ( ঈধহধফধ)- গধৎপয ২৭, ১৯৭১. ‘ঈরারষ ধিৎ রহ ঊধংঃ চধশরংঃধহ’. হংকং, চায়না: ঐড়হম কড়হম ঝঃধহফধৎফ (ঐড়হম কড়হম)- গধৎপয ২৭, ১৯৭১. ‘গঁলরন ংবঃং ঁঢ় রহফবঢ়বহফবহঃ ৎবঢ়ঁনষরপ’. সাউথ আফ্রিকা: চৎবঃড়ৎরধ ঘবংি (ঝড়ঁঃয অভৎরপধ)- গধৎপয ২৭, ১৯৭১. ‘১০০০০ ংষধরহ রহ চধশরংঃধহ পরারষ ধিৎ’. সিংঙ্গাপুর : ঝঃৎধরঃং ঞরসবং (ঝরহমধঢ়ড়ৎব) – গধৎপয ২৭, ১৯৭১. ‘গঁলরনঁৎ ঢ়ৎড়পষধরসং ইধহমষধ জবঢ়ঁনষরপ’. থাইল্যান্ড : ঞযব ইধহমশড়শ চড়ংঃ (ঞযধরষধহফ) – গধৎপয ২৭, ১৯৭১, চধশ হবধৎ পরারষ ধিৎ’. বঙ্গবন্ধুর স্বাধীতার ঘোষণার স্বপক্ষে এরকম শতশত প্রামাণ্য দলিল রয়েছে দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে। যারা এই সত্য ভাষণ, সত্য কথন বিকৃতি করে সুখ পায়, তাদের অসুখী হতে আর কিছু দরকার নেই। তারা ইতিহাসে বিকৃতিকারী হিসেবেই জায়গা পাবেন। কারণ মিথ্যাকে কখনো সত্য বানানো যায় না, মিথ্যা বলে, বিকৃতি করে কিছুকাল হয়তো মানুষকে বিভ্রান্ত করে রাখা যায়, কিন্তু চ‚ড়ান্ত বিচারে ইতিহাসে তারা ইতিহাস বিকৃতিকারী, মিথ্যাবাদী হিসেবেই চিত্রিত ও চিহ্নিত হবেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত