প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ষোলো কোটির দেশ, ষোলো কোটি মানুষ কেউ জানে না কী হবে কার পরিণতি

শুভদ্বীপ চন্দ্র: কোভিড-১৯। মেডিকেল স্টাফরা জানেন-রোগটা কতো ছোঁয়াছে, ঠিক কতোজন এ মুহূর্তে আক্রান্ত এবং কোন কোন দেশে কতোজন মারা গেছে। আক্রান্তের কতো শতাংশ আজ মৃত। তারা জানেন পরের রোগীটাই হয়তো তিনি। অথবা তার বাড়ির কেউ। বৃদ্ধ বাবা-মা, অসুস্থ প্রিয়জন-তার দ্বারাই সংক্রমিত হতে পারে। তারা জানেন এ লড়াইয়ে মরে গেলে শহীদের তকমা কপালে জুটবে না, বেঁচে ফিরলে কোনো মেডেল বুক পকেটে জ্বলজ্বল করবে না। তারা জানেন- ওই পোশাক তারা পাবেন না। তাদের জন্য সরকারের এতো বাজেট নেই। অথবা স্যানিটাইজারের বোতল শেষ হয়ে গেলে সে স্যানিটাইজার আর পাবেন না। তারা জানেন রোগটার কোনো চিকিৎসা নেই, ভ্যাক্সিন নেই। খুব দ্রুত বাজারে আসার সম্ভাবনাও নেই। তারা জানেন রোগীরা মিথ্যা কথা বলছে। তথ্য লুকিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। তারা জানেন কোভিড উনিশ তার শহরে আসলে তার হাসপাতালে আসবেই। তারা জানেন ভেন্টিলেটর মেশিন হাসপাতালে কয়টি, ডেইলি চার্জ কতো, আর কি কি লবিং লাগে এর ভেতরে ঢুকতে।

তবুও তারা কাজ করে যাচ্ছেন। হাসপাতালে আসছেন। শুধু ডাক্তার কেন- সিস্টার নার্স, স্টাফ নার্স, ব্রাদার, ইন্টার্ন, অফিসিয়ালস, দারোয়ান, সিকিউরিটি গার্ড। অধিকাংশের এপ্রোনও নেই। ডাক্তার ছাড়া অন্যদের কথা কেউ বলেও না। কেয়ার গিভারদের খুব কাছাকাছি না গিয়ে ‘কেয়ার’ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। অথচ যাদের ঘাড়ে ছিল দায়িত্ব, তারা বেশ আছেন। নতুন নতুন নির্দেশনা নিয়ে টিভিতে আসছেন। জনসমাগম করে সাংবাদিক সম্মেলন করছেন। বিভিন্ন জায়গায় জানা কথা ইন্টারভিউ দিয়ে বেড়াচ্ছেন। নিশ্চয়ই প্রচুর পরিমাণে স্যালারি সুযোগ সুবিধা ড্র করছেন। নরমাল ফ্লু এর রোগী বাড়ছে। তারা কি করবে কোথায় যাবে কিছুই বুঝে পাচ্ছে না। লকডাউন আর ঘরবন্দির চোটে দেশের প্রান্তিক মানুষগুলোর কী হবে। তারা খাবে কী? শুধু চিন্তাই করে যাচ্ছেন তারা। ষোলো কোটির দেশ এটা। ষোলো কোটি ‘মানুষ’! কেউ জানে না কী হবে কার পরিণতি। কীভাবে হবে। কোথায় হবে। অথচ এ ফ্রন্টে কোভিড আসতে আসতে চীন আর পশ্চিম ফ্রন্ট যুদ্ধবিধ্বস্ত, ক্লান্ত! তারা শুধু ভেবেই গেলেন। প্রাচীন সডোম নগরীর পাপ কী এরচেয়েও বেশি ছিল? খুব জানতে ইচ্ছা করে। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত