প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ভয়েস এর উদ্যোগে বিশ্ব নারীদিবস পালিত, বক্তারা নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতারোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান

রাবেয়া মুন: [২] রোববার আর্ন্তজাতিক নারী দিবস উদযাপন উপলক্ষে বেসরকারি গবেষণা সংগঠন ‘ভয়েস’ সংস্থার মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন লেখক শামসুদ্দোহা শোয়েব, কবি রহমান হেনরী, নারী উদ্যোক্তা ফাতেমা আক্তার কল্পনা, তরুণ নারী উদ্যোক্তা আফসানা জুঁই, এএলআরডি’র সমন্বয়ক মাসুদ খান, উদ্যোক্তা মজিবুর রহমান শ্যামল, দর্পন-এর নির্বাহী পরিচালক মাহবুব মোর্শেদ, টিএসপি’র নির্বাহী পরিচালক শফিউর রহমান, ভয়েসের আফতাব খান শাওন প্রমুখ। এবারের নারী দিবসের উদযাপনের প্রতিপাদ্য: প্রজন্ম হোক সমতার, সকল নারীর অধিকার।

[৩] আলোচনায় বক্তারা বলেন, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবেলা এবং সমাজে নারীদের সমান অধিকার বাস্তবায়নে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং পরিবার থেকে নারীর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করা দরকার। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাসহ সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না হলে নারীর অধিকার বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বক্তারা উল্লেখ্য করেন, অতীতের তুলনায় বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়লেও বৈষম্যও বেড়েছে। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও বঞ্চনা ও উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে যা উদ্বেগজনক।

[৪] ভয়েস-এর নির্বাহী পরিচালক আহমদ স্বপন মাহমুদ বলেন, দেশের নারী সমাজ এখনো নানা ধরনের পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে এবং এর শিকার হয়ে আত্মহননও করেছেন অনেকে। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় প্রতিবাদকারীকেও হত্যা করা হয়েছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে। যৌতুক প্রথা, বাল্যবিবাহ, ধর্মীয় কুসংস্কার, পারিবারিক জীবনে আধিপত্যাবাদী পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের কারণ একটি নারীবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা।

[৫] ভয়েস-এর গবেষণা ও নিরীক্ষণ সহযোগী আবতাব খান শাওন বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে যা উদ্বেগজনক। ২০১৮ তে শিশু ধর্ষণ হয় ৭২৭, এবং ২০১৯ শিশু ধর্ষণ হয় ৮১৫, যা বেড়েছে ১২% হারে। ২০১৮ সালে নারী ধর্ষণ হয় ৩৯০০ জন, এবং ২০১৯-এ নারী ধর্ষণ হয় ৫৪০০ জন; যা বেড়েছে ৩৮% হারে। ২০১৮ তে নারী এবং শিশু ধর্ষণের পর মারা গেছে ৩৫ জন এবং, ২০১৯ সাালে ধর্ষণের পর নারী এবং শিশু মারা গেছে ৩৮ জন, যা বেড়েছে ৯% হারে। ২০১৮ সালে নারী এবং শিশু অপহরণ হয় ৩৭৩১ জন, এবং ২০১৯ এ নারী এবং শিশু অপহরণ হয় ৪২৪৬ জন, যা বেড়েছে ১৫% হারে।

[৬] দেশের অনলাইন ব্যবহারকারী ৭০ শতাংশ নারীই কোনো না কোনো ধরনের হয়রানির শিকার বলে এক পরিসংখ্যানে জানা যায়। শুধু দেশই নয়, বিশ্বজুড়ে অনলাইনে নারী হয়রানির এমন ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাইবার নিরাপত্তা শাখার তথ্যমতে, তথ্যপ্রযুক্তি অবাধ বিচরণের কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ভূমিকা রাখছে আবার এসব মাধ্যমে নারী হয়রানির ঘটনাও বাড়ছে।

[৭] নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সচেতনতা তৈরি করাসহ নির্যাতিত নারী ও শিশুদের হয়রানি ও আর্থিক সহযোগিতা করাসহ আইনের শাসন বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে ‘একচেঞ্জ; নামে একটি নিউজলেটারের মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং ‘রেসিস্টভায়োলেন্স ডট নেট’ নামে একটি ওয়েবসাইট-এর উদ্বোধন করা হয়। সম্পাদনা : সমর চক্রবর্তী

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত