প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাঁদতে থাকা মানুষগুলোর চিৎকার মুসলমানের কান্না নয়, মানুষের

 

জান্নাতুন নাঈম প্রীতি

মসজিদের মিনার ভেঙে একজন হনুমানের পতাকা লাগাচ্ছে, পুরো দিল্লি পুড়ছে, অসংখ্য মানুষ আহত-নিহত হয়েছে। দিল্লিতে মুসলমানদের উপর যে অত্যাচার সেটা আর যাই হোক শুধু দাঙ্গা নয়। সেটা নিপীড়ন, প্রকাশ্য নির্যাতন। সেই নিপীড়নের নির্দেশ এসেছে সরাসরি মোদী শাসিত সরকারটির পক্ষ থেকে। সেই সরকারটির প্রধান নরেন্দ্র মোদী আসবেন মুজিব শতবর্ষতে বাংলাদেশের অতিথি হয়ে। মোদীর হাতে শুধু মুসলমান নয়, কাশ্মীর-আসামসহ বাংলাদেশ ভারতের প্রায় প্রতিটি সীমান্তে মেরে ফেলা হাজার হাজার ফেলানীর রক্ত।
মোদী নামের এই অতিথিটির উদ্দেশ্যে এক পাটি জুতা ছুড়ে মারার আহ্বান জানালে কী কোনো মামলা হতে পারে আমার নামে? হলে হোক, আমি চাইবো একটি মানুষ হলেও তার দিকে প্রকাশ্যে একটা জুতা ছুড়ে মারুক। আপনারা হাসি-তামাশা করতে তাহেরি-তারেক মনোয়ার আর আজহারির ভুলভাল তথ্য শেয়ার করতে করতে আর হাসবেন না প্লিজ। সাম্প্রদায়িকতা কেমনে ছড়ায় জানেন? যখন টিকা না দেওয়া, জন্মনিরোধক বড়ি সেবন না করা, কন্ডম ব্যবহার না করা, ক্যান্সার থেকে করোনাভাইরাসকে আল্লাহর গজব বলা মূর্খ উগ্র হুজুরদের বক্তব্য হাস্যকর হিসেবে শেয়ার করেন আর গ্রামের সরল মানুষটি, জীব ও উদ্ভিদবিজ্ঞান না পড়া মজুরটি ভেবে নেয় ওই হুজুরই ঠিক বলেছে। আসলেই এন্টারকটিক মহাদেশ আছে, আসলেই ক্যান্সার এবং করোনা আল্লাহর গজব, আসলেই বিধর্মী আর নাস্তিক হত্যা করলে সোজা বেহেশত।
আমি ধর্ম বিশ্বাসী নই, আমার চারদিকে অসংখ্য বিশ্বাসী মানুষের সঙ্গে আমি সে রকমই যে রকমটা আমার নিজের সঙ্গে, তাদের সঙ্গে আমার বিরোধ নেই। সেটা নিয়ে লজ্জিত হতে দেখেছিলাম আমার আপন মামাকে। তিনি গত সাত বছর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। তা নিয়ে আমার আক্ষেপ নেই তা নয়, তবে আমার স্বস্তি এটুকুই যে ধর্মের জন্য আরেক ধর্মের মানুষের রক্ত কখনো আমার হাতে লাগবে না। রক্তের বদলা আমি কখনো রক্ত দিয়ে নেওয়ায় বিশ্বাসী নই। আমি মনে করি ক্ষমতায় অন্ধ পৃথিবীতে ক্ষমার চেয়ে সুন্দর কিছু নেই।
অভিজিৎ রায়কে মেরে ফেলার আজকে পাঁচ বছর। অভিজিৎ রায়কে বই উৎসর্গ করায় আমার বইয়ের প্রকাশককে হুমকি দিতেও আপনারা ছাড়েননি। অথচ আপনারা যদি জানতেন, দুনিয়ার মানুষ মেরে ফেলার অসংখ্য উপায় আছে, কিন্তু চিন্তাভাবনা মেরে ফেলার কোনো উপায় নেই। চারশ বছর আগে হাইপেশিয়াকে আপনাদের মতো ধর্মান্ধরাই ধরে নিয়ে চার্চে গিয়ে কেটে কুটিকুটি করে পুড়িয়ে দিয়েছিলো, গ্যালিলিওকে নির্যাতন করে মেরেছিলো, দার্শনিক ব্রুনোকে পুড়িয়ে দিয়েছিলো। চারশ বছরে আপনারা এতোটুকু বদলালেন না? বাবরি মসজিদের রায়টেও আপনাদের শান্তি হয়নি? আর কতো রক্ত চাই আপনাদের? আপনাদের মসজিদ-মন্দির একে অন্যের দিকে তাকিয়ে হাসবে যেদিন আপনি অন্য ধর্মের বলে অন্য মানুষটাকে কারণ ছাড়াই খুন করবেন। এটা একবারও ভাববেন না? একবারও বলবেন না : ও মুখ হইতে কেতাবগ্রন্থ নাও জোর করে কেড়ে/যাহারা আনিলো গ্রন্থ কেতাব সেই মানুষেরে মেরে/পুঁজিছে গ্রন্থ ভ-ের দল, মূর্খরা সব শোনো/মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো।
আমি একজন দুর্বল এবং ক্ষমতাহীন মানুষ। আমি চাই আপনারাও একটু দুর্বল হন। তাকিয়ে দেখেন ঘর পুড়িয়ে দেওয়া মানুষগুলো মুসলমান নয়, কেবল মানুষ। কাঁদতে থাকা মানুষগুলোর চিৎকার মুসলমানের কান্না নয়, মানুষের কান্না। আর আপনার হাতে লেগে থাকা টকটকে লাল রক্তটুকু মুসমানের রক্ত নয়Ñ মানুষের রক্ত, মানুষের রক্ত, মানুষের রক্ত। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত