শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬, ১২:০৭ দুপুর
আপডেট : ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরানে যে ৬ উপায়ে হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প

যেকোনো সময় ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা তুঙ্গে। দেশটিতে চলমান প্রতিবাদ বিক্ষোভে সমর্থন দিয়ে সরকার পতনের আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভি। তাতে সমর্থন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এমন অবস্থায় দুই দেশের মধ্যে যেকোনো সময় যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। তার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন দেশ ইরানে থাকা তার নাগরিকদের সতর্ক করেছে। অনুবাদ: মানবজমিন

এমন অবস্থায় প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ইরান। তারা বলেছে, ওইসব দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোকে টার্গেট করতে পারে। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাদে সব রকম ফ্লাইটের জন্য ইরান তার আকাশসীমাকে নিষিদ্ধ করে। প্রায় তিন ঘন্টা পরে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। এর আগে ফ্লাইট রাডার ২৪ ওয়েবসাইট বৃহস্পতিবার এ তথ্য দিয়েছে। ভারতের সবচেয়ে বড় বিমান সংস্থা ইন্ডিগো বলেছে, ইরান আকস্মিকভাবে তার আকাশসীমাকে বন্ধ ঘোষণা করার পর তাদের অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ওপর প্রভাব পড়বে।

advertisement

এর আগে বুধবার জার্মানি নতুন একটি সতর্কতা জারি করেছে। ওই অঞ্চলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশের বিষয়ে এই সতর্কতা দিয়েছে তারা। ইরানের ওপর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবরকম বাণিজ্যিক ফ্লাইটের উড্ডয়নের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি কোনো ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে না। 
তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।  দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্ব সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে কঠিন অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মুখোমুখি।

ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরানি কর্তৃপক্ষের ব্যাপক দমনপীড়নে কমপক্ষে ২৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বুধবার পশ্চিমা এক সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছে, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অত্যাসন্ন। তবে ইউরোপিয়ান দু’জন কর্মকর্তা বলেছেন, পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এ পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

advertisement

ইসরাইলি একজন কর্মকর্তা বলেছে, ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই মনে হচ্ছে। তবে কখন তিনি এই হস্তক্ষেপ করবেন তা পরিষ্কার নয়। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বুধবার বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে নিজেদের লোকজনকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান প্রতিবেশীদের সতর্ক করার পপর এ ব্যবস্থা নেয় যুক্তরাষ্ট্র। 

ট্রাম্প প্রকাশ্যেই বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ক্ষমতার ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা উল্টো ফল দিতে পারে। তাদের মতে, বাইরের সামরিক চাপ ইরানের নেতৃত্বকে জাতীয়তাবাদী আবেগ জাগিয়ে তুলতে, বিক্ষোভ আন্দোলনের বৈধতা দুর্বল করতে এবং শাসকগোষ্ঠীর চারপাশে অভ্যন্তরীণ সমর্থন আরও সুসংহত করতে সহায়তা করতে পারে।

advertisement

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। ওমান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা ছড়িয়ে আছে। এই বিস্তৃত উপস্থিতি এ অঞ্চলে ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগকে তুলে ধরলেও একই সঙ্গে মার্কিন বাহিনীকে পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকিতেও ফেলে দিয়েছে। গত বছর ইরান একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর ওয়াশিংটন ওই স্থাপনায় কর্মী সংখ্যা কমিয়ে আনে।

একই বছরের জুনে তেহরান কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করে, যা ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী মার্কিন পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রতিশোধ ছিল। এর পর খামেনির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, এই হামলা প্রমাণ করেছে- যেকোনো আক্রমণের জবাব দেয়ার ইচ্ছা ও সক্ষমতা ইরানের রয়েছে।

ওয়াশিংটনের বিবেচনায় থাকতে পারে যে ছয় সামরিক পথ

ট্রাম্প যদি শেষ পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদন করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একাধিক বিকল্প পথ খোলা থাকবে। তা হলো- 

১. আঞ্চলিক ঘাঁটি থেকে বিমান হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন বি-৫২ বোমারু বিমান ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে সরাসরি আঘাত হানা হতে পারে।

২. নৌঘাঁটি থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত বিমানবাহী রণতরী, ডেস্ট্রয়ার বা সাবমেরিন থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।

৩. ড্রোনভিত্তিক যুদ্ধ: সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করে উচ্চ মানের লক্ষ্যবস্তু, বিশেষ করে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) স্থাপনা বা দমন অভিযানে জড়িত ইউনিটগুলোর ওপর নিখুঁত হামলা চালানো হতে পারে।

৪. সাইবার যুদ্ধ: মার্কিন সাইবার অভিযান চালিয়ে ইরানের কমান্ড সিস্টেম, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও সামরিক সমন্বয় ব্যবস্থা অচল করে দেয়া হতে পারে, যাতে তেহরানের প্রতিক্রিয়া দেয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে।

৫. গোপন বিশেষ বাহিনী অভিযান: এলিট বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বা কৌশলগত স্থাপনায় গোপন নাশকতামূলক অভিযান চালানো হতে পারে, যা পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন ছাড়াই ইরানের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

৬. দীর্ঘপাল্লার অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা: দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানা হতে পারে- যেগুলোতে কয়েক মাস আগেও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছিল। লক্ষ্য হবে ইরানের সামরিক শক্তিকে আরও দুর্বল করা।

  • সর্বশেষ