মনজুর এ আজিজ: নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম মদনপুর-মদনগঞ্জ-সৈয়দপুর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অভিযোগ, দুর্বল ও অপরিকল্পিত সংস্কারের কারণে বারবার অর্থ ব্যয় হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি আবার চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এতে মারাত্নক যানজটসহ ছোট-বড় দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় ইট, খোয়া এমনকি মাটির নিচের স্তর পর্যন্ত বেরিয়ে পড়েছে। বর্ষা বা বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি গর্তগুলোকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। ফলে স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচল তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই বেহাল দশাই প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
এই সড়কটি দিয়ে মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন এবং আশপাশের শিল্প এলাকার কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন করা হয়। সড়কের এই বেহাল দশার কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভারী ট্রাক চলাচলে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা।
এ প্রসঙ্গে বাস ও ট্রাকচালকরা জানান, খানাখন্দের কারণে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। হঠাৎ ব্রেক করা বা গর্ত এড়াতে গিয়ে প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘন ঘন সংস্কার করা হলেও রাস্তা বেশি দিন টেকে না।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) বারবার সংস্কার করলেও তাতে সরকারের অর্থই শুধু অপচয় হচ্ছে, কিন্তু জনগণের ভোগান্তি কমছে না। তাদের মতে, এটি নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের সঙ্গে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা উপযোগী রুট। তাই ভারী যানবাহনের চাপ বিবেচনা করে উন্নত মানের উপকরণ ব্যবহার করে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সড়ক নির্মাণ করা জরুরি।
এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম গণমাধ্যমকে জানান, রাস্তাটি যে ধরনের গাড়ির জন্য তৈরি করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি ভারী গাড়ি সড়কটিতে চলাচল করছে। মূলত এ কারণেই সড়কটি বারবার মেরামতের পরেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তাই দূর্ঘটনা, যানজট ও নিত্যদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত এই সড়কের স্থায়ী সমাধান চান এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা।