প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘রাইস কয়েনের’ ফাঁদে কোটি টাকা হারালেন নাটোর-১ আসনের সাবেক এমপি

ডেস্ক নিউজ: পারমাণবিক বোমা তৈরির অন্যতম উপাদান ইউরেনিয়াম। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমলের সীমানা পিলার এবং ম্যাগনেটিক কয়েনের (রাইস কয়েন) মধ্যে রয়েছে মহামূল্যবান এ ইউরেনিয়াম। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাকাশ সংস্থা নাসা ভারতীয় উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গোপনে এগুলো সংগ্রহ করে। একটি রাইস কয়েনের দাম শত কোটি টাকারও বেশি।

এমন মূল্যবান রাইস কয়েনের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলো কম দামে কিনে নাসার কাছে বিক্রি করতে পারলেই পাওয়া যাবে কোটি কোটি টাকা। কিন্তু অর্থের অভাবে এগুলো সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। তাই বিনিয়োগকারী খোঁজা হচ্ছে।

বড় বড় শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে এমন গল্প বলে ‘রাইস কয়েনের’ ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র। বিষয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে পাঁচতারকা হোটেলে বৈঠকে নাসার একজন কথিত বিজ্ঞানীকেও হাজির করা হয়। সেই বিজ্ঞানী আন্তর্জাতিক ল্যাবরেটরিতে ‘রাইস কয়েন’ পরীক্ষার কথিত রিপোর্ট ও ‘রাইস কয়েন’ দেখে জানান, এ ধরনের কয়েনই তারা খুঁজছেন। এভাবেই কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে রাজি করা হয় টার্গেট করা শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীকে।

নাটোর-১ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি এমএ তালহা এমন একটি চক্রের ফাঁদে পড়ে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা খুইয়েছেন। এ ঘটনায় গত সেপ্টেম্বরে বনানী থানায় একটি মামলা হয়। মামলাটি তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি জানায়, বনানী থানায় মামলার পর এ ঘটনায় আমিনুল ইসলাম নামে চক্রের অন্যতম এক হোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত রবিবার বনানী থেকে চক্রের আরও তিন সদস্য জসিম উদ্দিন, সুজন মিয়া ও রিপন মিয়াকে ২০ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে চক্রের দুজন গডফাদারের নামও পাওয়া গেছে।

চক্রের অন্যতম হোতা আমিনুল নিজেকে ইউরেনিয়াম এনার্জি লিমিটেডের সিনিয়র টেকনিশিয়ান হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি টার্গেট করা শিল্পপতিদের বলতেন, বাংলাদেশের অনেক নামি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি তার মাধ্যমে ম্যাগনেটিক কয়েনের ব্যবসা করে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল আমাদের সময়কে বলেন, সাবেক এমপি এমএ তালহা কোটি টাকা হারানোর পরও কথিত ম্যাগনেটিক কয়েন পাওয়ার আশা ছাড়েননি। তিনি প্রতারক চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। এমনকি রবিবার তিনি আবারও প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে ২০ লাখ টাকা দেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডির একটি টিম ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। আবারও কেন টাকা দিয়েছিলেন জানতে এমএ তালহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

সিআইডির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, এ ধরনের প্রতারক চক্র কোনো সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে না। তারা শিল্পপতি বা বড় ব্যবসায়ীকে টার্গেট করে। তার সঙ্গে সখ্য গড়ে রাইস কয়েনের গল্প শোনায়। এ ধরনের প্রতারণায় বেশ কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। ২০১৭ সালেও একজন বড় শিল্পপতি আরেকটি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে এক কোটি ৪০ লাখ টাকা খুইয়েছিলেন।

তখন শিল্পপতি কাঁচামাল সরবরাহের নামে প্রতারণার অভিযোগ এনে ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তোফাজ্জল হোসেন নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তারের পর রাইস কয়েনের প্রতারণার কথা জানা যায়। ওই শিল্পপতি লোকলজ্জা এবং জবাবদিহিতার ভয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে মামলা করেছিলেন। মৌলভীবাজারে এ ধরনের একটি প্রতারণার মামলাও তদন্ত করা হচ্ছে। ওই চক্রের ৬ জনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতারক চক্র শিল্পপতিদের একটি ঘোরের মধ্যে ফেলে দেয় জানিয়ে সিআইডির এক কর্মকর্তা জানান, সাবেক এমপি এমএ তালহা এ চক্রের ফাঁদে পড়ে চট্টগ্রামে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানও বিক্রি করেছেন। পরে প্রতারণার অভিযোগে তিনি চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

যোগাযোগ করা হলে এমএ তালহা আমাদের সময়ের কাছে দাবি করেন, তিনি এক্সপোর্ট ইমপোর্টের ব্যবসা করেন। রাইস কয়েন বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই। রাইস কয়েনের জন্য টাকা দেননি। তিনি মালামাল কেনার জন্য টাকা দিয়েছেন। পরে তারা টাকা ফেরত দেয়নি। একবার টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়ে আবারও কেন টাকা দিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্যবসার কাজেই টাকা দেওয়া হয়েছে। সম্পাদনা: জেরিন আহেমদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত