প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে শুধু পরিচিতদের ঢুকতে দেওয়া হয়েছে

রকি আহম্মেদ : সকাল ৮ টায় ভোট শুরু হওয়ার পরেই কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান ও শোডাউন দিয়ে ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে সরকার দলীয় মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা। এমনকি ভোটারদেখে ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেয়া, প্রতিপক্ষের সমর্থকদের মারধর, এজেন্টদের বের করে দেয়া মতো ঘটনা ঘটেছে।

সকাল ৯ টার দিকে ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের ৪৯ নম্বর নারিন্দা সমিতির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র ঘিরে রাখে। পরিচিত ছাড়া কাউকে ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পরে বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী মকবুল ইসলাম খান টিপু ভোট দিতে আসলে তাকে কেন্দ্রে আটকে রাখে তারা। পরে বিএনপির সমর্থকরা তাকে ছাড়াতে আসলে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় দু গ্রুপের বেশ কয়েকজন আহত হয়।

৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী হাজী মোহাম্মদ সেলিমের সমর্থকরা শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ভোট কেন্দ্রের প্রতিপক্ষ বিএনপি মনোনিত প্রার্থী মোকলেচুর রহমানের এজেন্ট ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়। তার কর্মী ও সমর্থকরা লক্ষীবাজার এলাকার সকল ভোট কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান নিয়ে ভোট কেন্দ্র ঘিরে রাখে।

৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের একরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্ট ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এমনকি প্রতিটি বুথে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর সিল গলায় ঝুলিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়।

৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী মনোনীত প্রার্থী মো.আব্দুর রহমান মিয়াজি ও বিদ্রোহী প্রার্থী মো.শাহাবুদ্দিন জনির সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় বাংলাবাজার গার্লস স্কুলে কেন্দ্রে আধা ঘন্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ও বিজিপি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া এ কেন্দ্রে বিএরপির কোন এজেন্ট পাওয়া যায়নি।

৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কসমোপলিটন স্কুলের কেন্দ্রে বিএনপির কোন এজেন্ট পাওয়া যায়নি। সেখানে গিয়ে দেখা, প্রতিটি বুথে অতিরিক্ত তিন চার জন বসে আছে। এমনকি কেউ ভোট দিতে গেলে তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

এদিকে ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদিরকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে আবদুল কাদিরের নাক ফেটে যায়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হেলেন আক্তার ও তার কর্মী বাহিনী নিয়ে ভোট কেন্দ্রে অবস্থান নেয়। এ কথা শুনে সমর্থতকদের সাথে করে কেন্দ্রে যাওয়ার সময় আমার ওপর হামলা করে।

৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে সকাল ৯টার দিকে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী শহীদুল্লাহ মিনুর নেতৃত্বে বিএনপি মেয়র ও সকল কাউন্সিলর প্রার্থীদের এজেন্টদের বের করে দেয়। এবং সকল প্রার্থীর ভোটার স্লিপ বুথ ভাঙচুর চালায়। পরে ১০টার দিকে শুরু হয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মর্তুজা জামালের কর্মীদের সাথে শহীদুল্লাহ মিনুর সমর্থকদের সাথে প্রায় তিন ঘন্টা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। বেলা ১১টার দিকে ফরিদাবাদ মাদ্রাসা কেন্দ্রে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাংবাদিক মাহাবুব মমতাজী ও বিজনেস স্টান্ডার্ডের সাংবাদিক নুরুল আমিন জাহাঙ্গীর প্রবেশ করে ভোট। কেন্দ্রের ভিতরে ভোটারদের আঙুলের ছাপ নিয়ে বের করে দেওয়ার ঘটনার ছবি ও ভিডিও করলে গেন্ডারিয়া থানা ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াদ দুই সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে তাদের হেনস্থা করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় বেলা ১২টার দিকে তারা কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত