প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইচ্ছে করেই কি ছড়ানো হয়েছে !

ডেস্ক রিপোর্ট : চীনে করোনাভাইরাসে গত সোমবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়ে হয়েছে ৪৫১৫ জন। অথচ এক দিন আগেই মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৮১ জন ও ২৭৪৪ জন আক্রান্ত ছিল। গতকাল মঙ্গলবার সকালে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিটি মৃত ও আক্রান্তের এ সংখ্যা জানায়।

বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে বেড়ে চলা আতঙ্কের ভেতরেই যেন বোমা ফাটিয়েছেন ইসরায়েলের একদল সেনা গোয়েন্দা ও মাইক্রোবায়োলজিস্ট। তাদের দাবি, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে দেশটি বায়ো সেফটি লেভেল-৪ পর্যায়ের অন্তত দুটি ল্যাবটরিতে জীবাণু বা রাসায়নিক অস্ত্রের গোপন গবেষণা চালাচ্ছে। সেখান থেকেই অসাবধানতাবশত এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। ঠিক যেভাবে এক সময় সার্স এবং ইবোলা প্রাণঘাতী হয়ে উঠলে আঙুল উঠেছিল হুবেইয়ের ওই ল্যাবরেটরির দিকেই। যদিও এর আগে গবেষকরা দাবি করেছিলেন, চীনের সামুদ্রিক খাদ্যের মার্কেট থেকেই এ ভাইরাস ছড়িয়েছে।

প্রশ্ন আরও উঠেছে, সত্যিই কি ল্যাবরেটরি থেকে অসাবধানতাবশত ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর ষড়যন্ত্র। ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে বলেছে, হতেও পারে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে নিজেদের শক্তি জাহির করতে চাইছে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি। তাদের দাবি, সিঙ্গল-স্ট্র্যান্ডেড এই করোনা ভাইরাসকে তৈরি করা হয়েছে মারণাস্ত্র হিসেবেই। প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে শত শত মানুষের মৃত্যু সম্ভব।

উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বিএসএল-৪ ল্যাবোরটরিতে অতি গোপনে এই জৈব রাসায়নিক মারণাস্ত্র তৈরির কাজ চলছিল দীর্ঘ সময় ধরে। হয় সেখান থেকেই ভাইরাস কোনোভাবে বাইরে চলে গেছে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবেই সংক্রমণ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ ইসরায়েলের গেয়েন্দারা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, চীন জৈব-রাসায়নিক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

লেফটেন্যান্ট ড্যানি শোহাম নামে ইসরায়েলের এক সাবেক সেনা গোেেয়ন্দা কর্মকর্তা দাবি করেছেন, উহানের ল্যাবটরিতে করোনা ভাইরাস নিয়ে দীর্ঘদিন গোপন গবেষণা চলছে। সার্সধর্মী ভাইরাস নিয়ে গবেষণাও চীনের জৈব রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। বড় আকারের এ কর্মসূচি বেশ কয়েকটি ধাপে পরিচালনা করা হয়।

এর আগে ২০১৫ সালে রেডিও ফ্রি এশিয়ার একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে ভয়ঙ্কর, প্রাণঘাতী সব ভাইরাস নিয়ে কাজ করছেন গবেষকরা। জিন পরিবর্তনের মাধ্যমে সেখানে এমন ভাইরাস তৈরি হচ্ছে যার প্রভাব হবে সাংঘাতিক। এই ভাইরাস প্রতিরোধের আগেই মহামারী রূপ নিতে পারে বিশ্বজুড়ে। লেফটেন্যান্ট ড্যানি শোহাম দাবি করেন, সার্স, এইচ৫এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, জাপানি এনকেফ্যালাইটিস, ডেঙ্গুর মতো রোগ ছড়ানোর পেছনেও উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিই দায়ী। ভবিষ্যতে এমন প্রাণঘাতী ভাইরাস আরও অনেক তৈরি হতে পারে বলে আগাম সতর্কও করেছিলেন তিনি।

এদিকে করোনা ভাইরাস চীন পেরিয়ে অন্তত ১৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, নেপাল, শ্রীলংকাতেও এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। ইতোমধ্যেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রধান শহর কলকাতার বেলেঘাটা এলাকার একটি হাসপাতালে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাইল্যান্ডের এক নারী মারা গেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো এই নারীর মৃত্যু করোনা আক্রান্ত হয়ে কিনা তা নিশ্চিত করেনি। দিল্লিতে এ ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৩ চীনা নাগরিককে।

এ ছাড়া মুম্বাইয়ে ৫ জন ও কেরালায় ৭ জন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। ভারত ছাড়াও থাইল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, কম্বোডিয়া এবং তাইওয়ানেও এ ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। এ ভাইরাস আতঙ্কে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দ্রুতগতির রেল ও আন্তঃসীমান্ত নৌ-পরিবহন আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ করেছে দেশটির বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকং।

সর্বাধিক পঠিত