প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাবির একাউন্টিং বিভাগের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

ওবায়দুর রহমান সোহান, ঢাবি প্রতিনিধি : বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সূবর্ণজয়ন্তী পালন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম্‌স বিভাগ। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম.এ মান্নান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল মুসলিম চৌধুরী ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহিদুল্লাহ। বক্তব্য রাখেন রবির সিইও মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, বিজনেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম, সেলিব্রেশন কমিটি এডভাইজরি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ, এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি স্বদেশ রঞ্জন সাহা। স্বাগত বক্তব্য দেন উৎসব আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এম মঈন উদ্দীন খান। সমাপনী বক্তব্য দেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রিয়াজুর রহমান চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী আবদুল মান্নান বলেন, আমরা যারা কাজ করছি সরকারে তাদের সাথে একাউন্টিং এর যোগসূত্র রয়েছে। আমাদের জন্য ভয়ংকর শব্দ হচ্ছে জবাবদিহিতা। জনগণ আমাদের কাজের দিকে তাকিয়ে আমরা কি করছি না করছি। আমরা যে সরকারের অর্থ ব্যবহার করছি তার মধ্যেই এই জবাবদিহিতা বিদ্যমান।

তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির মাপ বা যাই বলি না কেন সবকিছু আমরা এই একাউন্টিং এর মাধ্যমে পাই। পরিসংখ্যান তৈরিতে আপনাদের ভূমিকা প্রতিটা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যেন ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে পারি সঙ্গে সঙ্গে সভ্যতার মাপকাটিতে বিশ্বমানে নিয়ে যেতে পারি সেজন্য আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।

উদ্বোধনকালে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, অনুষ্ঠানের যে প্রতিপাদ্য ‘একাউন্টিং ফর একাউন্টএবিলিটি’ সেই বার্তাটি যেন আমরা সবাই গ্রহণ করি। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধুর যেসব ভাষণ রয়েছে সেই সব ভাষণের মধ্যেও এই একাউন্টএবিলিটির (জবাবদিহিতা) কথা আছে।আমাদের যে ভিশন আছে সেটার মধ্যেও এই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতার কথা উল্লেখ আছে। আমরা যদি এই বিষয় নিশ্চিত করতে না পারি তাহলে আমরা এসডিজি বাস্তবায়ন করতে পারব না। বিভাগ ও এলামনাই এর যৌথ উদ্যোগ স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহিদুল্লাহ বলেন, সফলতা সহজে আসে না। আমরা যখন পড়াশুনা করি আজকে বিজনেসের যে পজিশান সেটা ছিল না। তখন কিন্তু বেশি চাহিদা ছিল কলা ও বিজ্ঞানের বিষয়ের প্রতি। এজন্য প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সংগ্রাম করতে হয়েছে। আগের পজিশান আর আজকের সময়ে এসে এত পরিবর্তন কেন? কারণ পাকিস্তান সময়ে আমাদের অর্থনীতি এত অগ্রসর ছিল না। সেই গুরুত্বটা তখন উপলব্ধি করতে পারেনি। আজকে আমাদের দেশে সবচেয়ে উন্নতি করছে বিজনেস সাইট। এজন্য আমাদের অর্থনীতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মুসলিম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে একাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের চাহিদা বেড়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে। আজকে ৫০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আপনারা আপনাদের সময়কে উপভোগ করুন। অতীত স্মৃতি রোমন্থন করুন। একাউন্টিং বিভাগ এলামনাই এসোসিয়েশন কর্তক সম্মানিত আজীবন সদস্য করায় কৃতজ্ঞতা জানান।

বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও রবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দীন আহমেদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমাদের সময়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জনই একাউন্টিং বিভাগ নিতেন। বর্তমানে দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট সেক্টরে বিভিন্ন সংগঠন পরিচালনায় ভূমিকা রাখছে এই বিভাগের প্রাক্তনরা।

তিনি বলেন, রবি সমাজের উন্নয়নে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রথম ই-লাইব্রেরি তৈরি করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ ও আইসিএমএবিতে ইনোভেশন ল্যাব তৈরি কাজ করছি। প্রত্যেকটি বাঙালির মধ্যে প্রতিভা রয়েছে। আমরা সেই প্রতিভা বিকাশে কাজ করছি। এসময় তিনি রবির পক্ষ থেকে বিভিন্ন অর্থদানের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি বিভাগের শিক্ষার্থীদেরকে যোগ্য হয়ে ওঠার পরামর্শ দেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত